চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বহুবিধ ষড়যন্ত্রের শিকার, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে শিক্ষকের স্ট্যাটাস ভাইরাল

চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আজ বহুবিধ ষড়যন্ত্রের শিকার। যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু আইনগত পদক্ষেপ প্রার্থনা করছি এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন স্কুলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এ এম এনামুল হক। স্কুলের বিষয়ে  অজানা নানা তথ্যবহুল স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। নিম্নে স্ট্যাটাসটি  শিক্ষক জিএ এম এনামুল হক এর  টাইম লাইন থেকে হুবহু তুলে ধরা হলঃ

আমার দীর্ঘ ১৭ বছরের কর্মস্থল চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিসিয়াল কাজে পারিবারিক কারণে বদলির দীর্ঘ দেড় বছর পর অদ্য ১৫/০৭/২০২১ খ্রিঃ তারিখ সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে বিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক অবস্থা জেনে মনটা দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অত্র এলাকার সন্তান হিসাবে প্রকৃত অবস্থা জানানোর জন্য বিবেকের তাড়নায় আমার এ স্ট্যাটাস । সমাজে কাউকে না কাউকে সাহস করে ব্যক্তিগত ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে সত্য উচ্চারণ করতে হয়।মানব সভ্যতার ইতিহাস হল কেউ সাহস করে সত্য উচ্চারণ করে, কেউ ভীতুর দলে নাম লিখিয়ে নিরাপদ থাকে। আমি আজীবন ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত। এবার আসি মূল কথায়। ডেলিগেশন অব ফিন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুসারে উপজেলা/ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসাবে প্রধান শিক্ষক কমিটি করে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে সরকারি জমি/পুকুর অনধিক ১বছর মেয়াদের জন্য অস্থায়ী লীজ দিতে এক্তেয়ারবান।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রধান শিক্ষক থেকে বিধি মোতাবেক লীজ না নিয়ে প্রতি বছর লাখ টাকা দামের বিরাট পুকুরটি সর্বসাধারণের অজ্ঞাতে কোনরূপ প্রকাশ্য নিলামের ব্যবস্থা ছাড়া ৫ বছরের জন্য হাস্যকর মূল্যে মাত্র প্রতি বছরে ৬ হাজার টাকা হারে নামমাত্র ৩০হাজার টাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ নয় এমন কর্তৃপক্ষ থেকে ৫ বছরের জন্য লীজ নিয়েছে দাবি করে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী পুকুরে অবৈধ ঘর তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করেছে। স্থানীয় অনেকে এই এক্তিয়ার বহির্ভূত কাউকে না জানিয়ে বিনা নিলামে নেয়া লীজের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে আপত্তি দাখিল করেছে।এতে ও প্রভাবশালী মহলটি ক্ষান্ত হয়নি।প্রধান শিক্ষক থেকে কোনরূপ অনুমোদনের তোয়াক্কাও করেনি।
আমি প্রধান শিক্ষককের দায়িত্বে থাকাকালীন প্রভাবশালীরা পুকুর টি লীজ নিতে চাইলে আমি সরকারি সার্কুলারে শিক্ষার্থীদের সাতাঁর শেখানোর জন্য স্কুলের পুকুর লীজে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। বর্তমানে স্কুলের পুকুর লীজে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কিভাবে লীজ হয়? বহিরাগতদের অনাহুত আসা যাওয়ার কারণে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও , মাত্র বছরে ৬হাজার টাকার জন্য স্কুল ক্যাম্পাস পুকুরটি ৫ বছর মেয়াদে লীজের কিভা প্রয়োজন আমরা বোধগম্য নয়।
ছবির ড্রেইনটি সরকারি স্কুলের জায়গায় দক্ষিণ দিকে সরকারি টাকায় নির্মিত স্কুলের সুদীর্ঘ সীমানা দেওয়াল ভেঙ্গে সম্পূর্ণ স্কুলটিকে অরক্ষিত করে যথাযথ মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই চকরিয়া পৌরসভা ক্ষমতার জোরে এক্তিয়ার বহির্ভূত ভাবে করেছে।রাস্তার উভয় পার্শ্ব হতে জমি নেয়ার সাধারণ নিয়ম লংঘন করে দক্ষিণ দিকের পাবলিক থেকে কোনরূপ জায়গা না নিয়ে সম্পূর্ণ জায়গা অনুমোদন ব্যতীত স্কুল থেকে নেয়া কোন ন্যায় সংগত কাজ হতে পারে না।অপরপক্ষে চকরিয়া ভূমি অফিস,চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল, সরকারি পশু হাসপাতাল,চকরিয়া কোর্ট ইত্যাদির পাশ্ববর্তী রাস্তার উন্নয়নমূলক কাজে এক ইঞ্চি জায়গাও নেয়ার সাহস পৌরসভা দেখায়নি কিন্তু চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে দুর্বল ভেবে অনুমোদনহীনভাবে ব্যাপক জমি দখল করে নির্মাণ কাজ করেছে। অতচ নিয়ম হল খতিয়ানের মালিককে যথাযথ ক্ষতি পূরণ দিয়ে উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ কাজ করা। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন পৌরসচিব স্কুলের জমিতে পাবলিক ড্রেইন নির্মাণ করতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন নিয়ে আসার কথা বলেছিলাম।স্কুল মসজিদটি নিয়েও চলছে অযাচিত হস্তক্ষেপ। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি ক্যাম্পাস মসজিদের সভাপতি হলেন প্রধান শিক্ষক, যিনি যে কোন সময় মসজিদ কমিটি বাতিলের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।অতচ প্রধান শিক্ষক সভাপতি হওয়ার পরও উনার অনুমোদন ব্যতীত বৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ইমামকে গায়ের জোরে বেইজ্জত করে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ।যারা এ অন্যায্য কর্মকাণ্ডে জড়িত তারা তাদের সন্তানদের পড়ান অন্য স্কুলে কিন্তু অবৈধ সুযোগ নিতে চান চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে। স্থানীয় শিক্ষা ব্যবসায়ীরা নিজেদের হীন স্বার্থে ভালো মানের কোন শিক্ষার্থী যাতে চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি না হয় তার জন্য স্কুলের বিরুদ্ধে সদা ভুয়া প্রচারণায় লিপ্ত। অতচ চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার কোনকালেই ৯০% এর নীচে নয়।যথাযথ কর্তৃপক্ষ সরেজমিন তদন্ত করলে বুঝতে পারবেন যে মানের ছাত্র ৬ শ্রেণিতে ভর্তি হয় তারা তাদের মেধানুসারে সর্বোচ্চ যৌক্তিক ফলাফলই এসএসসিতে করে থাকে।ভূমি দস্যুরা গোপনে এক তরফা রায় নিয়ে স্কুলের বিএস খতিয়ান ভূক্ত জমি নামজারি খতিয়ান করতে চকরিয়া ভূমি অফিসে গেলে আমি জানতে পেরে আপত্তি দিয়ে একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করলে মূল্যবান স্কুলের জমি আত্মসাতের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে নামে বেনামে হাজারো অভিযোগ দিয়ে, হুমকি দিয়ে কোন সুবিধা আদায় করতে পারেনি আমি জিডি করে আইনের আশ্রয় নিয়ে সাহসিকতার সহিত মোকাবিলা করার কারণে। তারা মনে করেছে আমি স্কুলে না থাকায় যা খুশি তাই করতে পারবে।তাদের ধরণা সম্পূর্ণ ভুল।বর্তমান প্রধান শিক্ষক আমাদের শিক্ষক নেতা।তাকে দুর্বল ভাবা ভুল হবে।মনে রাখবেন আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। আইনের হাত অনেক লম্বা। বেআইনী কাজের প্রায়শ্চিত্ত একদিন করতে হবে নিজেকে যতই ক্ষমতাধর ভাবেন না কেন।৮.২৭ একর জমির মধ্যে মাত্র ২.৫ একর জমি স্কুলের ভোগ দখলে আছে,কোচ পাড়ায় বিশাল জমি পাবলিকের অবৈধ দখলে রয়েছে। অতচ এই বিশাল জমির খাজনা চলতি সনেও স্কুল পরিশোধ করেছে বলে বর্তমান দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহোদয় থেকে জানতে পারি।স্কুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একজন সহকারী কমিশনার (ভুমি) এই বিশাল জমি সরকারি দখলে নেয়ার উদ্যোগ শুরু করতে না করতেই অন্যত্র বদলী হয়ে গেলে সরকারি ভূমি উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।চকরিয়া এসিল্যাণ্ড অফিসের এই বিশাল সরকারি জমি উদ্ধার কার্যক্রম অনতিবিলম্বে শুরু করা দরকার।

 

লিখক -জি এ এম এনামুল হক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, চকরিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.