চকরিয়ায় পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে কৃষকের ঢেড়স ক্ষেত গুড়িয়ে দেয়া হল

চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়ায় বিদেশ থেকে চালান হিসেবে পাঠানো পাওনা টাকা ফেরৎ চাওয়ায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী কায়াদায় কৃষকের ফলনকৃত ঢেড়স ক্ষেত (ভেন্ডী) গুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘুনিয়া গ্রামে ১৪জুলাই’১১ইং সকাল আনুমানিক ৮ ঘটিকায় ঘটেছে এ ঘটনা। এঘটনায় থানার উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন সংগীয় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এনিয়ে ওই এলাকার কৃষক হাজী আবুল কালামের পুত্র মোঃ আদম বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে; একই গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের পুত্র আবুল শামা, তার ছেলে আইমন, আহমদ হােছনের পুত্র মোঃ ইউনুছ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮জনকে।

অভিযোগে কৃষক হাজী আবুল কালামের পুত্র মোঃ আদম জানান, তার পিতা জীবিকা নির্বাহী তাগিদে বিদেশে থাকেন। অভিযুক্ত আবুল শামা বিদেশ থেকে দেশের আসার সময় আবুল কালামের বাড়ির জন্য ১লাখ ১১হাজার টাকা চালান পাঠান। কিন্তু আবু শামা নিজের বিভিন্ন সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে পাঠানো টাকা হস্তান্তর না করে পরে পরিশোধ করার কথা বলে ধার হিসেবে রেখে দেন। সম্প্রতি উক্ত টাকা চাইতে গেলে নানাভাবে কালক্ষেপন করেন। অন্যদিকে আবু শামার মালিকানাধীন ৩০ শতক জমি বন্ধক ও লাগিয়ত নিয়ে সবজি চাষাবাদ করছেন কৃষক হাজী আবুল কালামের পুত্র মোঃ আদম গং। ক্ষেতে বর্তমানে ঢেড়স (ভেন্ডী) ফলন উপযোগি হয়েছে। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১০জুলাই’২১ইং সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে ৭ঘটিকায় ১০ শতক পরিমাণে ফলনকৃত ভেন্ডী ক্ষেত উপড়ে ফেলে। এতে অন্তত ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। উক্ত দুইটি বিষয় নিয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী কায়াদায় হাতে ধারালাে দা, লােহার রড,কাঁছি, লাঠি ইত্যাদি মারাত্মক অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লোকজন নিয়ে ১৪ জুলাই সকাল ৮টায় পূণরায় চাষাবাদী অবশিষ্ট ঢেরস ক্ষেত কেটে গুড়িয়ে দেয়। এতেও ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করেন। কৃষক মোঃ আদমকেও হত্যার চেষ্টায় মারধরে আহত করেছে। এঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ায় বর্তমানে হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে।
সরে জমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে নিশ্চিত করেন তদন্তকারী থানার উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোঃ যুবায়ের বলেন, বাদীর দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার একজন সাবইন্সপেক্টরকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে একাধিকবার তদন্ত করে দেখে আসল রহস্য উদঘাটন পূর্বক পরবর্তী করণীয় আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.