চকরিয়ায় ইউপি কার্যালয়ে ছাত্রলীগ সভাপতিকে জিম্মি রেখে শারিরীক নির্যাতন

উপজেলা জুড়ে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম (২৪)কে বেধেঁ রেখে মারধর ও অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তার বড় ভাই মোশারফ হোসেন রুবেল বাদী হয়ে ৩০ মে’২১ইং চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।
ঘটনাটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলেও এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা প্রকাশ করেন সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতাসহ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির।

মামলার বাদী ভেওলা মানিকচর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোশারফ হোসেন রুবেলে বলেন, তার শিশু ছেলে আশরাফ হেসেন মীম (১২), মেয়ে সাবরিনা জন্নাত কনিয়া (৮) ও ছেলে তানিম ইসলাম (২) এর জন্ম নিবন্ধন করার জন্য তাদের ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাকে দেখেই পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম উত্তেজিত হয়ে কোন কথা বার্তা ছাড়াই অতর্কিতভাবে মারধর, শারিরীক নির্যাতন ও জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে তার ভাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম বড় ভাইকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাকেও পরিষদে আটকিয়ে রেখে নির্যাতন চালায়।

নির্যাতনের শিকার ছাত্রলীগ সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম বলেন, তার বড় ভাই রুবেলকে ইউনিয়ন পরিষদে আটক রেখে মারধর করার খবর পেয়ে ছুটে যান। পরিষদে পৌঁছা মাত্রই চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ফের উত্তেজিত হয়ে তাকেও মারধর ও শারিরীক নির্যাতন চালিয়ে জিম্মি করে রাখে। মারধরের পর চেয়ারম্যানের সাথে থাকা আরো ৫/৬জন লোক এসে চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে তারাও মারধর ও নির্যাতন চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাটিতে লুঠিয়ে পড়েন। এসময় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর ও তার লালিত লোকজন তাকে বাধ্য করে জোরপূর্বক ভিডিও চিত্র ধারণ করে। নির্যাতনের বিষয়ে মামলা দায়ের কিংবা কাউকে জনালে ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে ভাইরাল করার হুমকি দেয়। ফলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে বাংলাদেশ পুলিশের সেবা কেন্দ্রের ৯৯৯ নাম্বরে কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে চেয়ারম্যানের কক্ষে জিম্মিদশা থেকে ছাত্রলীগ সভাপতি ফরহাদুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরিবারের জিম্মায় চিকিৎসার জন্য হস্তান্তর করেন।

তবে, এসব ঘটনা অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন।

বিএমচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ফরহাদুল ইসলামকে মারধর ও পরিষদে জিম্মি করে রাখার বিষয়ে জানতে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মো: যুবায়ের বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত এজাহার পেয়েছি। তদন্ত করে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, ছাত্রলীগ ছাড়াও পরিষদে সেবা প্রার্থীকে জিম্মি করে নির্যাতন চালানো কিছুতেই কাম্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.