চকরিয়ায় হামলা ও নারী নির্যাতন মামলার আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে বাদীর পরিবার

চকরিয়া অফিস
চকরিয়ায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে দায়েরকৃত মামলা এবং বসতবাড়িতে ঢুকে কুপ্রস্তাব দিয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টায় মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত আসামীরা দীর্ঘ সময়েও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ,উদ্বেগ,উৎকণ্ঠায় রয়েছে বাদীর পরিবার। বর্তমানে মামলা নিতে প্রকাশ্যদিবালোকে হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে। উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রংমহল এলাকায় ঘটেছে পৃথক একাধিক ঘটনা।

প্রাপ্ত তথ্যে ও অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের রংমহল গ্রামের মরহুম মো: হোছন আলীর পুত্র মো: নুরুল কবির (৫৫) এর সাথে একই এলাকার মৃত ছৈয়দ নুরের পুত্র তৌহিদুল ইসলাম নিলু ও দেলো করিমের পুত্র জয়নাল আবদীনের সাথে ব্যবসায়ীক লেনদেনে ২লক্ষ ৮৭ হাজার পঞ্চাশ টাকা পাওনা হন। ওই টাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট ১লাখ ৯৭ হাজার পঞ্চাশ টাকা পাওনাদার নুরুল কবিরকে পরিশোধ না করে নানাভাবে কালক্ষেপন ও হয়রাণী সহ উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারী’২১ইং সকাল ১১টার দিকে পাওনাদার নুরুল কবিরের স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৫২) ও ছেলে জামাল মিয়া (১৫)বাড়ি হতে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে জখম করে। লুট করে নিয়ে যায় ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ১ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন। বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করে সমাধানের চেষ্টা করলে তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬ জানুয়ারী সকাল ১১ ঘটিকায় ভূক্তভোগী পরিবারের নুরুল কবির তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে রংমহল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে চলাচল সড়কে পথরোধ করে প্রাণে হত্যার চেষ্টায় অবৈধ অস্ত্র নিয়ে জখম করে এবং ব্যবসায়ীক নগদ ১৫ হাজার ২শত টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

প্রতিমধ্যে অপহরণের হুমকি দিয়ে চলে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারী’২১ইং বিকাল ৩.১০ ঘটিকায় নুরুল কবিরের ছেলে আবদুল হামিদ সোনা মিয়া (৩১) ব্যবসায়ীক ১লাখ ৩২ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি হতে ডুলাহাজারা বাজারে যাওয়ার পথে জসিম মেম্বারের বাড়ির সামনে গতিরোধ করে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং রক্ষিত টাকা এবং তার ব্যবহৃত ২২ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পৃথক পর পর ৩টি ঘটনা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূক্তভোগী পরিবারের মো: নুরুল কবির বাদী হয়ে গত ৩০ জানুয়ারী’২১ইং চকরিয়া থানায় মামলা (নং জিআর ৪৮/৪৮) দায়ের করেন।

এতে আসামী করা হয়েছে; হামলা ও ছিনতাইকারী একই এলাকার মৃত ছৈয়দ নুরের পুত্র তৌহিদুল ইসলাম নিলু, দেলো করিমের পুত্র জয়নাল আবদীন, মৃত মো: হাসেমের পুত্র মো: রফিক, নুর মোহাম্মদের পুত্র মো: পাভেলসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫জনকে। কিন্তুদীর্ঘ সাড়ে ৩মাসেও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে না পারায় আসামীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মামলা তুলে নিতে বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়াও অভিযুক্ত তহিদুল ইসলাম, জয়নাল আবদীন ও মো: রফিকের বিরুদ্ধে রয়েছে আবদুল হামিদের স্ত্রী তছলিমা বেগম (২৩)কে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ০১,কক্সবাজারে মামলা নং সিপি ৩১/২১ রয়েছে। ওই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক সীপা রাণী বড়ুয়া গত ২৩ মার্চ’২১ইং আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ১নং আসামী তহিদুল ইসলাম বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্য না থাকাার সুযোগে গিয়ে কুপ্রস্তাবসহ স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছেন।
তার চিৎকার স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে ধৃত করেন। পরে অপরাপর ২জন আসামী তাকে ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং গৃহবধুকে উল্টো মারধরে প্রধান আসামীকে সহায়তার অপরাধ করেন। এছাড়াও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ও চকরিয়া থানাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু আসামীরা বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদী ও স্বাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে অপহরণ কিংবা প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে। ভূক্তভোগী নুরুল কবিরের পরিবার ও অসহায় গৃহবধু আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আইনী সহায়তা চেয়েছেন।
চকরিয়া থানার ওসি শাকের মো: যুবায়ের বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত এজাহার পাওয়ার পর তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। আসামীদের বাড়িতে না পাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এরপরও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.