চকরিয়ায় ভীসা জালিয়ত চক্রের খপ্পরে পড়ে নি:স্ব একাধিক পরিবার, ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

চকরিয়া অফিস:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভিসা জালিয়ত চক্রের খপ্পরে পড়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে একাধিক পরিবার। বর্তমানে বেশ কয়েকটি পরিবার থেকে ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে পড়েছে ওই চক্রটি। এনিয়ে ভূক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন; চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মগনামা পাড়া গ্রামের মৃত মাস্টার আবদু ছালামের পুত্র নুরুল আনোয়ার (মাশুক) প্রকাশ দালাল মাশুক, তার সহযোগি বড় ভাই নুরুল আবছার ও অপর সহযোগি পাসপোর্ট অফিসের দালাল ঈদগাও তেতুল গাছতলা ফকিরা বাজার গ্রামের ছৈয়দ আলম শিমুল। প্রতারণার অভিযোগে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সিআর ৮৫৯/১৪৯ মামলার বাদী চকরিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের করাইয়াঘোনা গ্রামের মো: নুরুল হোছাইনের পুত্র মো: শাহাব উদ্দিন ড্রাইভার। মামলাটি সিআইডি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
চকরিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভূক্তভোগী মো: শাহাব উদ্দিন জানিয়েছেন, নুরুল আনোয়ার (মাশুক) প্রকাশ দালাল মাশুক ও তার সহযোগিদের খপ্পরে পড়ে তিনিসহ চকরিয়া, পেকুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে সৌদি আরবে চাকুরীর ভিসা দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার প্রতারণার ফাঁদ থেকে রক্ষা পায়নি কৃষক,শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন।
অভিযোগে জানাগেছে, ভিসা জালিয়তচক্র দালাল মাশুক তার ছেলে সৌদি আরবে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং এলাকার বেকার লোকজনকে সৌদি আরবের ভিসা দিয়ে চাকুরীর দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তেমনিভাবে বাদী সাহাব উদ্দিন ড্রাইভারের ছেলেকে সৌদি আরবের ভিসা দেওয়ার কথা বলে চলতি ২০১৯ সনের ১০ আগষ্ট পর্যন্ত নগদে ও এসএ পরিবহনে বিভিন্ন দফায় ৪লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোন ভিসা দিতে পারেনি। বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দালাল মাশুক। এছাড়াও তার সন্ধান নিতেও লাখোধিক টাকা খরচ করেছেন। একইভাবে ২০১৬সনে বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গ্রামের আক্তার আহমদের ছেলে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে ৮লাখ টাকা, পহরচাঁদা গৌবিন্দপুর গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে আবদু ছাত্তারের কাছ থেকে ২০১৬সনে ৩লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চিরিংগা ইউনিয়নের বুড়িপুকুর গ্রামের ইব্রাহিম খলিল কাকনের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা ভিসা দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন। এভাবে বিভিন্ন ভূক্তভোগী লোকজনের কাছ থেকে অন্তত ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দালাল মাশুকসহ তার সহযোগিরা। বর্তমানে দেশ থেকেও সুকৌশলে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.