চকরিয়ায় মেয়ের জামাই ও তার পরিবারকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ধরা খেলেন শ্বাশুর

চকরিয়া অফিস:
পারিবারিক দ্বন্দের জের ধরে চকরিয়ায় নজু মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার মেয়ের জামাইসহ পুরো পরিবারকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো পুলিশের জালে ধরা খেলেন। উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নে ঘটেছে এ ঘটনা। এনিয়ে ১২ নভেম্বর বিকেলে চকরিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগে জানান, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরণদ্বীপ মসজিদ পাড়া গ্রামের নূরুল আলমের ছেলে মিজানুর রহমানের সাথে বিগত ২০০২ সালে বিয়ে হয় ৬নং ওয়ার্ডের সওদাগরঘোনা গ্রামের নজু মিয়ার মেয়ে ইয়াছমিনের। সুন্দর সংসারে ২সন্তানও রয়েছে। কিন্তু গত ৩মাস পূর্বে আকর্ষ্মিকভাবে সন্তানের শ্বাশুর (বেয়াই) নজু মিয়া বলেন, তার মেয়ে আলাদা সংসার করবে। ছেলে এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত নজু পরিকল্পনা করে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে মেয়ের শ্বাশুর বাড়ির লোকজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টায় হুমকি প্রদান করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬নভেম্বর সন্ধ্যায় নুরুল আলমের বাড়িতে অস্ত্র রয়েছে মর্মে থানা পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেন অভিযুক্ত নজু মিয়া। এর প্রেক্ষিতে থানায় কর্মরত শিক্ষানবিশ সহকারি পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ২০জনের একদল পুলিশ নুরুল আলমের বাড়িতে তাৎক্ষনিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পূর্বে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থানের কারণে অভিযুক্ত নজু মিয়া পুলিশ পৌছার পূর্বে অস্ত্র ঢুকিয়ে দিতে পারেননি। ফলে বসতবাড়িতে অধিকতর তল্লাসীর পরও অস্ত্রের কোন সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশকে তথ্য প্রদানকারী সোর্স অভিযুক্ত পুত্রের শ্বাশুর মামলাবাজ নজু মিয়াকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযানকালে পুলিশের সাথে চিরিংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন বিএ, ইউপি সদস্য, চৌকিদার-দফাদারসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে নজু মিয়ার দেয়া তথ্য ষড়যন্ত্র মূলক বলে বুঝতে পারেন।
ভূক্তভোগী পরিবারের নূরুল আলমের ছেলে শিক্ষানবীশ আইনজীবী রেজাউল করিম বলেন, পুলিশকে মিথ্যা তথ্যা দেয়া নজু মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন হবে। পরবর্তিতেও এ ধরণের আরো ঘটনার আশঙ্খায় আমার পিতা নুরুল আলম বাদী হয়ে গত ৮ নভেম্বর’১৯ইং থানায় সাধারণ ডায়েরী (নং ৪৭১/১৯) দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত নজু মিয়া প্রকাশ মামলাবাজ নজু গং বর্তমানে আদালতে একের পর এক মিথ্যা, হয়রানী মূলক ও সাজানো মামলা এবং অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। ভূক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে আইনী সহায়তা চেয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নূরুল আলম ও তার পরিবার এলাকায় অত্যন্ত সহজ সরল ও ভাল পরিবার হিসেবে পরিচিত। তারা কখনো অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা অবৈধ পথে ছিলেননা। কিন্তু পুত্রবধুকে ব্যবহার করে ছেলের মামলাবাজ শ্বাশুর যে পরিকল্পনা করেছিল তা অত্যন্ত দু:খজনক।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত চিরিংগা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। পুলিশকে ব্যবহার করে নুরুল আলমের পরিবারকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে সফল হতে পারেনি।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, নুরুল আলমের বাড়িতে অস্ত্র মজুদ রয়েছে খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং বাড়ি তল্লাসী করি। কিন্তু অস্ত্রের সন্ধান না পাওয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী নজু মিয়াকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.