তুরস্ক আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে একত্রে চলতে চায়: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আলজিয়ার্স: তুরস্ক আফ্রিকাকে সঙ্গে নিয়ে এক সঙ্গে চলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

আফ্রিকার চারটি দেশে পাঁচ দিনের সফর শেষে শনিবার এরদোগান তার টুইটার একাউন্টে এই মন্তব্য করেন।

এরদোগান বলেন, ‘যেহেতু একটি নতুন বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সে কারণে আমরা আফ্রিকাকে সঙ্গে নিয়ে একত্রে হাঁটতে চাই।’

আলজেরিয়া, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল ও মালির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, তুরস্ক আলজেরিয়াকে এই অঞ্চলের ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীল’ একটি রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করে থাকে।

এরদোগান বলেন, ‘মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা প্রতিটি অঞ্চলে আমাদের বন্ধুত্বকে আরো বৃদ্ধি করা হবে এবং আমরা একটি ভাল অবস্থানে আসতে পারি, বিশেষ করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আঙ্কারায় স্বাস্থ্য, কৃষি, গণমাধ্যম এবং মানবিক সাহায্যের ক্ষেত্রে মৌরিতানিয়ার সঙ্গে যৌথ প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।’

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মৌরিতানিয়ায় বেসরকারি খাতে আমাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আশা করছি উভয় পক্ষেরই সমানভাবে লাভবান হওয়ার নীতির উপর ভিত্তি করে আমাদের সম্পর্ক বিকশিত হবে।’

রাজনীতি এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে সেনেগালের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক বৃদ্ধিকে আঙ্কারা সবসময়ই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন যে আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি তা বৃদ্ধি করা আঙ্কারার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমরা মালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করতে প্রস্তুত আছি। এর পাশাপাশি আমাদের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমাদের ভ্রাতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করব।’

আফ্রিকায় তার সফরকালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ‘কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়াই আমরা আফ্রিকাকে এবং আমাদের আফ্রিকার ভাইদেরকে ভালবাসি।’

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

আমি আফরিনে শহীদ হতে যাচ্ছি: তুর্কি সেনার শেষ কথা

সিরিয়ার আফরিনে বৃহস্পতিবার নিহত ৮ তুর্কি সেনার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। সেনাদের জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। নিহতদের শহীদ আখ্যায়িত করে শুক্রবার জুমা নামাজের পর তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। খবর ডেইলি সাবাহর

খবরে আফরিনে যুদ্ধ করতে যাওয়ার আগে সেনাদের শেষ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। নিহত মোহাম্মদ দিনেক নামে এক সেনার মা জানান, তার সন্তান আফরিনে যাওয়ার আগে বলেছিল ‘এলাকাটি খুব কুয়াশাচ্ছন্ন। আমাকে দোয়া করবেন। আমরা ওখানে (আফরিনে) যাচ্ছি শহীদ হওয়ার জন্য’। এ সময় মা তার ছেলের কফিন জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।

নিহত ২৪ বছর বয়সী আরেক সেনা হলেন বুরহান আকিকল। তার আত্মীয়রা জানান, আফরিনে যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, আমি যাচ্ছি (আফরিনে) শহীদ হতে’।

নিহত সেনা কর্মকর্তা আরিফ ডেমিরেল। তার মৃতদেহ যখন বিমান থেকে নামানো হয় তখন তার বোন মৃত ভাইয়ের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাকে স্বাগতম, হে আমার শহীদ ভাই’।

নিহত সেনাদের মধ্যে একজন সেনা গত ডিসেম্বরে বিয়ে করেছেন। কিন্তু আফরিনে অভিযানে কারণে তিনি তার বাসর অনুষ্ঠান স্থগিত করেন।

গত ২০ জানুয়ারি সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলে পিপলস প্রটেকটিভ ইউনিটের (ওয়াইপিজি) বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত অভিযান শুরুর পর থেকে আঙ্কারার জন্য বৃহস্পতিবার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। তুরস্কের সামরিক বাহিনীর দুটি পৃথক বিবৃতিতে হতাহতের এ সংখ্যা জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.