বিধি বর্হিভূতভাবে এক শিক্ষক দু’কলেজে অধ্যাপনা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চকরিয়া উপজেলার একমাত্র আবাসিক মহিলা কলেজে বিধি বর্হিভুতভাবে সুজন কান্তি নাথ নামের এক শিক্ষক জাল সনদ দিয়ে শিক্ষকতা করছেন। অপরদিকে ওই শিক্ষক সুজন পেকুয়া উপজেলার শহীদ জিয়া বিজনেস ইনস্টিটিউটের এমপিও ভুক্ত ইংরেজী শিক্ষক। একই সঙ্গে দু’কলেজে শিক্ষকতা করা বিধি বর্হিভুত কাজ হলেও তিনি আইনের প্রতি তোয়াক্কা করছেনা। এ অভিযোগ অভিভাবক মহলের। সুজন কান্তি নাথ চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নাথপাড়ার প্রয়াত সুধীর চন্দ্র নাথের প্রথম পুত্র।
অভিযোগে জানা যায়, সুজন কান্তি নাথ চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজের ¯œাতক (পাশ) শ্রেনীর পূর্ণকালীন শিক্ষক। যার টিচার আইডি নং (১৪২৫৫৮৮)। অপরদিকে শহীদ জিয়া বি,এম আই’র একজন এমপিও ভুক্ত ইংরেজী শিক্ষক। যার ইনডেক্স নং (১১১০০১৮৪)। ওই শিক্ষক বেতন ভাতা উত্তোলনের সময় এক কলেজে একেক ধরণের স্বাক্ষর করে থাকেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে একই ব্যক্তি দু’কলেজে শিক্ষকতা করার কারণে উভয় কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। যার প্রমাণ স্বরূপ চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজের ৫শ জন শিক্ষার্থীর এইচএসসিতে ৯৫% শিক্ষার্থী এবং ¯œাতক (পাশ) পরীক্ষায় ও ২০১৭ এর ডিগ্রী শেষ বর্ষের পরীক্ষায় ৯৮% শিক্ষার্থী ইংরেজী বিষয়ে ফলাফল খারাপ করার অভিযোগ উঠেছে অভিভাবক মহল থেকে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারী শিক্ষকদের নীতিমালা ১৯৯২’র ২৪(চ) ও ২৬(৩) ধারা অনুযায়ী এমপিও বা স্থায়ী অথবা পূর্নকালীন শিক্ষক একাধিক কলেজে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করতে পারবে না। এ আইন বলবৎ থাকার পরও ওই দু’কলেজের গভর্ণিং বডি ও কলেজের অধ্যক্ষরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দীর্ঘদিন ধরে দু’কলেজেই শিক্ষকতা করার কারণে সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে উভয় কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সচেতন মহলের প্রশ্ন- একই সাথে ২৫/৩০ মাইল দূরত্বে অবস্থিত দু’ কলেজে একই সময়ে পাঠদান কোন একক ব্যক্তির পক্ষে আদৌ সম্ভব কিনা তা জানতে চেয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী। তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক সুজন নাথের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে দু’কলেজে এক সাথে শিক্ষকতা করার সত্যতা স্বীকার করেছেন চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এসএম মনজুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.