এমপি কমলকে সদর ছাত্রলীগ সভাপতি তামজিদ পাশার খোলা চিঠি

 

 

ওমর ফারুকঃ
খোলা চিঠি
আসসালামু আলাইকুম,
জনাব সাইমুম সরওয়ার কমল ভাই
মাননীয় সংসদ সদস্য,কক্সবাজার সদর-রামু (৩),

আমি কাজী তামজিদ পাশা, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,সদর উপজেলা শাখা, কক্সবাজার। গত কিছুদিন আগে আমি আমার ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম যেখানে নেত্রী  মাদক,সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এমপিদের ও ছাড়বেনা এই ধরনের একটা নিউজ। যেখানে আমি কারো নাম উল্ল্যেখ করিনি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আপনার পারসোনাল সহকারী #ইয়াছিন আমার নাম মেনশন করে সোসাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের খারাপ মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দেয়। যা আমি এবং আমার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মানহানী করেছে । আমি দীর্ঘ ১৩ বৎছর ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি কক্সবাজার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগ প্রতিষ্টা লগ্ন থেকে তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আজিম কনক ভাই এবং সাধারণ সম্পাদক এম এ মনজুর ভাইয়ের নেতৃত্বে কলেজ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক কমিটির নেতৃত্বে প্রথমে আর এ সি ডিপার্টমেন্ট কমিটির প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়ে সিনিয়র সহ সভাপতি হয়, এর পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী আহমদ ভাইয়ের একক সাক্ষরিত কলেজ কমিটির সহ সভাপতি হয়। পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে  নিজের ইউনিয়নকে সাজাতে খুরুশকুল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়কের দায়িত্ব নিয়ে প্রত্যেক ওয়ার্ড কমিটি সম্মেলন করে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলর দিয়ে নতুন নেতৃত্বদের দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিদায় নিয়ে বিএসসি ইন ইন্জিনিয়ারিং করার জন্য চট্টগ্রামে একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখানেও বসে থাকতে পারিনি, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রতিষ্টা করি পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগ। মনোনীত হয় সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক। পরবর্তীতে আমার কার্যকলাপে সন্তুষ্ট হলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন তানিম ভাই সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনীত করে। মা বাবার কষ্টের টাকা ব্যয় করে দিনরাত পরিশ্রম করে খেয়ে না খেয়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার জন্য, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এখনো নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কোন আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠন তেমন ভাবে সহযোগিতা করেনা। তারপরও পরিবারের টাকায় সদর ছাত্রলীগের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যেখানে স্বাধীনতা পরবর্তী কোন কমিটি হয়নাই আমি আর আমার সম্পাদক কমিটি দিয়ে জয় বাংলার স্লোগান অক্ষুন্ন রেখেছি। হয়ত কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ভূল হয়েছে, পরে আমরা তা সংশোধন করার চেষ্টা করেছি। স্কুল,মাদ্রাসায় কমিটি দিয়ে নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জানাতে কাজ করে যাচ্ছি। যত নির্বাচন হয়েছে প্রত্যেকটা নির্বাচনে নৌকার জন্য কাজ করে গেছি। ইউনিয়ন নির্বাচন থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাচন এবং মাননীয় কমল ভাই আপনার বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য সদর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেছি। অথচ আজ দুঃখের বিষয় আপনার অনুসারী আপনার পারসোনাল সহকারী ইয়াছিন একের পর এক মিথ্যা রটনা রটাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, যেখানে আপনাকে ট্যাগ করেছে। যে ছেলের নাম দিয়ে আমার বদনাম করছে তাকে সংগঠন বিরুধী কাজের সত্যতা পাওয়ায় সংগঠন থেকে অব্যহতি দিয়েছি।অথচ আপনি জেনে ও না জানার ভান করে আছেন। ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস, যে সংগঠন স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিয়ে স্বাধীনতা আনতে পারে তারা কখনো মৃত্যুকে ভয় পায়না। গত আগষ্ট মাসে আমার উপর হত্যার উদ্যেশ্যে হামলা হয়, একপর্যায়ে তারা আমাকে নদীতে ফেলে দেয়, এক মাছ ধরার নৌকার মাঝি এসে আমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।  এখনো আমি সম্পূর্ণ সুস্থ না। কিডনী এবং মাথায় আঘাত লেগেছিল। আল্লাহর রহমতে মানুষের দোয়ায় এখনো বেচে আছি। আর যারা আঘাত করেছিল তারা আপনার অনুসারী ছিল। আপনি তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে দেননি। মূল হুতাদের আপনার ক্ষমতায় মামলা থেকে বাদ দিয়ে দেন। আর আমার এক ছোটভাইকে ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে দিয়ে দিল তারা, আর আপনি সেই অস্ত্র মামলার ভয় দেখিয়ে আমার বড় ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাষ্টার কাজী দিদারুল আলমকে মূল হুতাদের মামলা থেকে বাদ দিয়ে দিতে বাধ্য করেন।আপনি দেখতে আসবেন বলেও একবার দেখতে আসার সময় হয়নি, কারণ আপনার অনুসারী যারা আমাকে হামলা করেছে তারা কষ্ট পাবে তাই। আজকে মানুষকে তারা বলে বেড়ায় সদর ছাত্রলীগের সভাপতিকে মেরেছি তারপরও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে পারেনাই। আপনি ক্ষমতাধর মানুষ, জাতীয় সংসদের সদস্য আমি সামান্য মানুষ আপনার ক্ষমতার কাছে কিছুইনা। তাইতো ছাত্রলীগের কর্মীর কিছু হলে বিচার হয়না।  ছাত্রলীগতো এতিমের সংগঠন জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নাই। আপনি যাদের জন্য আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন অথচ আপনার নির্বাচনে তারা দুপুরের পর কেন্দ্রে এসেছিল জামাত বিএনপির সাথে আতাত করে।আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি শ্রদ্ধা করি, তাই বলছি আজকে আপনার পিএ আমার বিরুদ্ধে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে আমার সম্মান হানি করেছে তাদের বিরুদ্ধে যদি আপনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করেন তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব। ওহ আরেকটা কথা আইনতো আপনার হাতে বন্ধি জানি ন্যায় বিচার পাব না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মায়ের কাছে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় থাকবেনা।  এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরে হয়ত আপনি আমাকে মেরে ফেলতেও পারেন। তবে মৃত্যুকে আমি ভয় পাইনা। সত্য বলতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোন নেতা কর্মী ভয় পাইনা। পরিশেষে জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মীর জয় হোক। ভাই লীগের পতন হোক।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.