গৃহঋণ নিয়ে জটিলতায় সরকারি চাকরিজীবীরা

গৃহঋণ নিয়ে জটিলতায় সরকারি চাকরিজীবীরা

গৃহঋণ নিয়ে জটিলতায় সরকারি চাকরিজীবীরা
অনলাইন ডেস্ক

গৃহ নির্মাণ ঋণের আবেদন ক্রটিপূর্ণ হওয়ায় অধিকাংশ সরকারি চাকরিজীবীর স্বল্পসুদে গৃহ নির্মাণ আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫০ জন সরকারি চাকরিজীবী ৫ শতাংশ সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণ পেয়েছেন। ইতিমধ্যে ঋণ নিয়ে তারা বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার কাজ শুরু করেছেন। আর ঋণ আবেদন বাতিল হয়েছে এক হাজারেরও বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার পর সবচেয়ে বেশি ঋণ আবেদন করেছেন যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটি সর্বাধিকসংখ্যক চাকরিজীবীদের ঋণ দিয়েছে। গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারছেন।

সূত্র জানায়, ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাইভেট প্লটের ঋণের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে বিভিন্ন দলিল জমা দিতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জমির মূল মালিকানা দলিল; এসএ/আরএস রেকর্ডীয় মালিক থেকে মালিকানা স্বত্বের প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক দলিল; সিএস, এসএ, আরএস, বিএস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিটি জরিপ খতিয়ান জাবেদা নকল; জেলা/সাব রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃক ইস্যু করা ১২ বছরের নির্দায় সনদ (এনইসি) । আর, ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে জমা দিতে হবে রেজিস্ট্রি করা বায়নাচুক্তি এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল (বন্ধক দেওয়ার আগে) ।

সরকারি/লিজ প্লটের জন্য ঋণ আবেদনের সাথে যে প্রমাণাদি জমা দিতে হবে, সেগুলো হচ্ছে প্লটের বরাদ্দপত্রের ফটোকপি, দখল হস্তান্তরপত্রের ফটোকপি, মূল লিজের দলিল ও বায়না দলিলের ফটোকপি, ফ্ল্যাট ক্রয়ের রেজিস্ট্রি করা বায়নাচুক্তি, ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল (বন্ধক দেয়ার আগে) ।

এছাড়াও উভয়ক্ষেত্রে ঋণ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে নামজারি খতিয়ানের জাবেদা নকল, হাল সনের খাজনা রসিদ, জমির মালিক কর্তৃক ডেভেলপারের দেয়া রেজিস্ট্রি করা আমমোক্তারনামা দলিল, জমির মালিক এবং ডেভেলপারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি করা ফ্ল্যাট বণ্টনের চুক্তিপত্র, অনুমোদিত নকশার ফটোকপি, ফ্ল্যাটের মাটি পরীক্ষার রিপোর্টের ফটোকপি, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত ছকে ইমারতের কাঠামো নকশার ফটোকপি ও ভারবহন সনদ, ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্ঘস্মারক, সঙ্ঘবিধি ও রিহ্যাবের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি, ডিজাইন মোতাবেক কাজ করার ব্যাপারে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের দেয়া আন্ডারটেকিং, অন্য কোনো ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নাই মর্মে ডেভেলপারের দেয়া স্ট্যাম্প পেপারে ঘোষণাপত্র, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, বেতনের সনদপত্র, সত্যায়িত ছবি ও সই। ঋণ নেয়ার জন্য সরকারের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান মনোনীত করার আগে অর্থ বিভাগের গৃহঋণ সেলের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু যারা আবেদন করেছেন, তাদের অধিকাংশ এই নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করতে পারেননি। ফলে তাদের আবেদন ক্রটিপূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন কাগজ দেয়ার কথা বলা থাকলেও অধিকাংশ আবেদনকারী তার পুরোটা জমা দেননি। কেউ আবার ৮০ ভাগ ঠিকঠাক কাগজ দিলেও বাকি ২০ ভাগ দিতে পারেননি। ফলে তাদের আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়েছে। তাদের আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে।

সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ১৫০ জনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনও করেছেন। তবে যাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যাই বেশি। কিছুসংখ্যক রয়েছে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা। চাকরিজীবীরা সবচেয়ে ঋণ আবেদন করেছেন ৭৫ লাখ টাকার জন্য। বাকিরা করেছেন ৬৫ লাখ টাকা ঋণ চেয়ে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রণীত গৃহঋণ নীতিমালা অনুযায়ী ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ সুদ দেবে ঋণগ্রহীতা সরকারি চাকরিজীবী এবং বাকি ৫ শতাংশ সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে। ইতিমধ্যে ১৫০ জন ঋণ গ্রহীতার ভর্তুকির অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে অর্থ বিভাগ থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে গৃহ ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ হচ্ছে ৭৫ লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা। ঋণের বিপরীতে সুদের ওপর সুদ, অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদ নেয়া হবে না। কোনো ‘প্রসেসিং ফি’ বা আগাম ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ‘অতিরিক্ত ফি’ দিতে হবে না। ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ২০ বছর। সরকারি তফসিলি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.