পেকুয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধের ভাঙন পুনঃ নির্মাণ কৃষকরা আবার বীজতলা তৈরী করে আমন রোপনের স্বপ্ন দেখছে

চকরিয়া অফিস ঃ পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে স্বেচ্ছাশ্রমে বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধের পুনঃনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে এই ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদী থেকে ঢলের পানি ঢুকা বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার মাতামুহুরী নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আলেকদিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙ্গে যায়। রবিবার ওই ভাঙনটি পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ করে বন্ধ করে দেয়ায় কয়েকদিনের মধ্যে পেকুয়া সদরে ঢুকে পড়া বন্যার পানি বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই ভাঙনটি পুনঃনির্মাণ হওয়ায় এলাকার কৃষকরা নতুন করে বীজ তলা তৈরী করে আমনের রোয়ার দেয়ারও স্বপ্ন দেখছেন। রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়; পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের চকরিয়া সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম ভাঙনটি পুনঃনির্মাণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জানান; তিনি পেকুয়া আসনের এমপি জাফর আলম বিএ (অনার্স) এমএ’র নির্দেশে স্থানীয়দের সংগঠিত করে ভাঙনটি পুনঃ নির্মাণে হাত দিয়েছেন। তিনি জানান প্রায় ২শত লোক গত তিনদিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে রাতদিন কাজ করছেন। কোন লোককে মুজরি দিতে হয়নি। শুধুই ৫/৬ হাজার বস্তা, বালি, গাছ বাঁশের যোগান দিতে হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ভাঙনটির পুনঃনির্মাণ সম্পন্ন হয়। এলাকাবাসি সকলেই সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৪ জুলাই বেড়িবাঁধের ভাঙনটি সফল ভাবে বন্ধ করা গেছে। আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষ এ ভাঙন পুনঃনির্মাণে হাতে হাত লাগিয়েছেন। কেউ বলদি পুঁতেছেন, কেউ বা তর্জার বেড়া তৈরী করেছেন। পাশের এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় কাছাকাছি জায়গা থেকে মাটি নেয়াও সম্ভব ছিল না। ট্রাকের করে মাটি আনতে হয়েছে শিলখালী ইউনিয়নের পাহাড়ী টিলা থেকে। সেই মাটি প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ঘুর পথে ভাঙনস্থলে নিতে হয়েছে। সেখান থেকে মাটি গুলো বস্তায় পুরে ভাঙনে ফেলা হয়েছে একেক করে। আহা নির্মাণে কী অপার আনন্দ, না দেখলে বুঝাই যাবেনা। দেশের প্রতি, এলাকার প্রতি, মানুষের প্রতি মানুষের অন্তরে কি টান তা এ ভাঙনটি পুনঃ নির্মাণ করতে গিয়ে সকলেই দেখেছেন। কাউকে কাজ দেখিযে দিতে হয়নি। নিজেরাই নিজেদের কাজ মনে করে হাত চালিয়েছেন। আবালবৃদ্ধাবনিতা কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দর্শক হতে চাননি। সকলেই যে যেভাবে পারেন ভাঙনটি পুনঃনির্মাণে হাত লাগিয়ে এগিয়ে এসেছেন। ভাঙনটি যতক্ষণ নির্মাণ করা শেষ হয়নি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করেছেন। এলাকাবাসি জানান, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম তিনদিন ধরে ভাঙনস্থলে ছিলেন। তিনি শুধু তদারকিই নয়, মাঝে মধ্যে ভাঙন বস্তা ফেলতেও এগিয়ে গেছেন। ৮নং ওয়র্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শিলখালী ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির উদ্দিন মুন’র কথা না বললেই নয়। তাদের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। মোজাম্মেল বেচারা বালির বস্তা কাঁধে নিয়ে নিরবে ভাঙনে ফেলছেন আর ফেলছেন। এসময় একজন তার দিকে আঙ্গল হেলনি দিয়ে বললেন এরাই কর্মবীর। শুধুই মোজাম্মেল কেন, পেকুয়ার মেম্বার জিয়াবুল হক, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কাইছার, শিলখালীর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা জাফর আলম, লোকমান হাকিম, আবুল কালাম চকিদারসহ ওই এলাকার সকলেই ভাঙনটির নির্মাণে কর্মবীরের পরিচয় দিয়েছেন। সৈকত পাড়ার মোহাম্মদ মিয়া তার বাইক নিয়ে ভাঙনের জন্য জিনিসপত্র যোগান দিতে সাংবাদিক জহিরুল ইসলামকে নিয়ে কতবার পেকুয়া টু চকরিয়া, তারপর ভাঙনস্থলে ছুঁটেছেন তার কোন হিসেব নেই। এলাকাবাসি এ ভাঙনটি পুনঃনির্মাণ করে পুরো পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানষের উপকার করেছেন। সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম বলেন, এখানে আমি সংগঠক মাত্র, এলাকার প্রান্তিকজন, তাদের কী উদ্যোম, সাহস এদিন এদিকে একটু উঁকি মেরেছেন যারা তারা হাড়েহাড়ে বুঝতে পেরেছেন। নির্মাণ কাজ শেষে তিনি স্বেচ্ছাশ্রম দাতা এলাকার কর্মবীর লোকজনের উদ্দেশ্যে এভাবেই বলেছেন, ধন্যবাদ মেহেরনামা বাসি, ধন্যবাদ প্রতিবেশী শিলখালী ইউনিয়নবাসি, ধন্যবাদ যারা দেখতে এসেছেন। তিনি আরও বলেছেন এখানে প্রত্যেকের অবদান অন্তত আমার চেয়ে বেশী। এলাকার অনেক গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিবর্গ এ ভাঙন রোধে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেছেন। তাদেরকে শুধুই ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাইনা। সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম বলেছেন চকরিয়া পেকুয়া আসনের এমপি জাফর আলম বিএ(অনার্স ) এমএ এ ভাঙনটি পুনঃনির্মাণে সার্বক্ষনিক খোজখবর নিয়েছেন, সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রতি ভালবাসা, সহানুভুতি, ্আন্তরিকতা ও সহযোগিতার জন্য সাংসদ জাফর আলম বিএ(অনার্স) এমএ’র কাছে পেকুয়াবাসি কৃতজ্ঞ। ভাঙনটি বন্ধ করতে পারায় পুরো পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। অন্তত কৃষকরা আবারও আমনের বীজতলা তৈরী করে রোয়া দেয়ার স্বপ্ন দেখছেন। নির্মাণ কাজ শেষের দিন পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে অনেক নেতাকর্মী এ ভাঙনটির পুনঃনির্মাণ পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.