চকরিয়ায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ইয়াবার চালান লুট, প্রশাসনের নীরবতা

মো: নাজমুল সাঈদ সোহেল,চকরিয়া

বর্তমান সরকার এবং আইন প্রয়োগ সংস্থা ইয়াবা ট্যাবলেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণাকে বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করে চলছেন প্রতিনিয়ত। তারপরেও থেমে নেই মরণনেশা ইয়াবার আগ্রাশন। ঠিক তেমনি কক্সবাজারের চকরিয়া সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ স্থানীয় জনসাধারণ ও সচেতন সুশীল সমাজের। ঘটনাটি ঘটে গত ২১শে ফেব্রুয়ারি চকরিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মৌলভিরকুম নামক এলাকায়। উক্ত বিষয়ে ওই এলাকাসহ পৌরশহর জুড়ে বিরাজ করছে আবাল বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সর্বস্থরে ক্ষোভ আর নানা গুণজন। চকরিয়া প্রশাসন ইতিপূর্বে মাদকের বিরুদ্ধে বেশ কটি সফল অভিযানে এলাকায় মাদক ব্যাবসায়ী প্রায় শূন্যের কোটায় বল্লেই চলে। কিন্তু কোটি টাকার চালান লুটের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে জনসমাজে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাগেছে, চকরিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মৌলভিরকুম বাজারস্থ মোহাম্মদ শফির পুত্র কামাল উদ্দিন ধলু এবং তার পুত্র মোহাম্মদ মজনু (পিত-পুত্র) মহসড়কে প্রকাশ্যে দিবালোকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইয়াবা চালানের একটি গড়ি গতিরোধ করলে ঘটনাস্থলে গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। উক্ত গাড়িটি রাস্তার একপাশে নিয়ে আসে এবং অপেক্ষা করতে থাকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যাক্তি উক্ত গাড়িটি পাশে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখাশুনা করেন। একই এলাকার ড্রাইভার কাইছারকে দিয়ে সন্ধ্যার পর তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে এসে গাড়ির ভিতরে লুকিয়া রাখা গোপন স্থান থেকে পাঁচ লক্ষ সত্তর হাজার পিচ ইয়াবা বের করে গাড়িটি অন্যত্রে সরিয়ে নেয়া হয়।পরবর্তী সময়ে গাড়িটির পার্টস খোলে পেকুয়া ও বাঁশখালীর বিভিন্ন স্ক্রাবের দোকানে বিক্রি করে দেন ধলু। বিষয়টি গোগন রাখতে বিনিময়ে দেয়া হয়েছে ড্রাইভার কাইচার এবং সঙ্গে থাকা দুই ব্যাক্তিসহ প্রত্যেককে ৪ হাজার পিচ ইয়াবা।
উক্ত ইয়াবা লুটপাটের খবরে এলাকায় গুঞ্জন বইতে শুরু করলে স্থানীয় সচেতন কয়েক যুবক স্বোচ্চার হয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি অবহিত করেন। তাদের মুখ বন্ধ রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এ লক্ষ টাকা দেয়া হয়। কিন্তুু তাতে সন্তুষ্টি না হওয়ায় সরণাপন্ন হন স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীর। স্থানীয় যুব সমাজের উদ্বৃতি দিয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা মিলে পুত্র মজনুর সহপাঠী ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়াস্থ ইমরান ছিলেন উক্ত ইয়াবা চালানের সংবাদ সরবরাহদাতা। গণমাধ্যমের একটি টিম ইমরানের সরণাপন্ন হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। মূল ঘটনার বিবরণ একের পর এক বর্ণনা দিতে থাকেন ইমরান, যাহা তার কথোপকথন ভিডিও আকারে ধারণ করে এ প্রতিবেদকের কাছে গচ্ছিত রয়েছেন। ইয়াবার চালান লুটপাটের আসল রহস্য বেরিয়ে আসার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে কোটি টাকার অংকের হিসাব থেকে সম্পুর্ণভাবে বঞ্চিত করায়।
স্থানীয় চকরিয়া পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন বলেন, মোহাম্মদ শফির পুত্র কামাল উদ্দিন ধলু ও তার পুত্র মো: মজনু কর্তৃক সাড়ে ৫ কোটি টাকার ইয়াবা চালান লুটের বিষয়টি শতভাগ সত্য। কিন্তু ঘটনার সত্যতা থাকলেও তার কালো টাকার প্রভাবের কারণে এবং উর্ধ্বতন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রভাবে তার একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছেনা। ইতিপূর্বেও উল্লেখিত মোহাম্মদ শফির পুত্র কামাল উদ্দিন প্রকাশ ধলু মাদকদ্রব্যসহ থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
ইয়াবার চালান লুটপাটের বিষয়ে মোহাম্মদ শফির পুত্র কামাল উদ্দিন ধলুর কাছে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাত্র ১০/১২ হাজার পিচ ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল যাহা ভাগবন্টনসহ প্রশাসনকে ম্যানেজ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে চকরিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। এরপরও বিষয়টি অধিক গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। তিনি পুলিশের বিশেষ টীমে ইয়াবার চালান লুটের বিষয়ে নজরদারীতে রাখা হয়েছে বলে জানান। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের চালান লুটকারী এবং সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.