লোহাগাড়ায় সিএনজি চালক হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত নিরপরাধ খোরশেদের মুক্তি দাবি করেছে বাবা

চট্টগ্রাম অফিস:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সিএনজি টেক্সি চালক আবদুল মোনাফ হত্যার ঘটনায় নিরাপরাধ যুবক খোরশেদ কে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং অভিলম্বে ছেলের মুক্তি দাবী করে সংবাদ সম্মেলনে করেছে পিতা মুছা সওদাগর।
সংবাদ সম্মেলনে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া মৌলভী পাড়ার গ্রেফতারকৃত যুবক খোশেদের বাবা মো. মুছা সওদার বলেন ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ঠাকুরদিঘীর পশ্চিম পাশে ধান ক্ষেত থেকে সিএনজি চালক আবদুল মোনাফের লাশ উদ্ধার করে লোহাগাড়া থানা থানা পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় সংবাদ সম্মেলনে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাছানুজ্জান মোল্যার বক্তব্য ২০ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
খোরশেদের পিতা বলেন অতিব দুঃখের বিষয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হত্যা মামলার সাথে জড়িত আসামীদের আটক করতে গিয়ে অন্যান্য আসামী সহ দুইজন খোরশেদ কে আটক করে। প্রথম জন খোরশেদ (সিএনজি চালক) পিতাঃ নুর নবী প্রকাশ বদ/বদিয়া, মাতা: কমরু, গ্রাম: নাগারা, পশ্চিমের দোকান, ইউনিয়ন: পদুয়া, থানা: লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় জন আমার ছেলে খোরশেদ। কিন্তু পুলিশ প্রথম জনকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। যার সাথে ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া মিজানুর রহমান সাহেদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। আমার ছেলে খোরশেদকে লোহাগাড়া থানায় নিয়ে গেলে আমি, থানায় দেখতে যাই। কিন্তু আমাদেরকে দেখা করার অনুমতি না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। পাঁচ দিন পর আদালতে খোরশেদের সাথে দেখা হয়। খোরশেদ আমাদের দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। সে জানায় অমানবিক নির্যাতন, ভয় ভীতির মাধ্যমে বাধ্য করেই আমার ছেলে খোরশেদ থেকে ১৬৪ ধারা মতে ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে জবানবন্দি আদায় করে। শারিরীক নির্যাতনের ছবি আপনাদেরকে দিলাম। দেখুন রিমান্ডে নিয়ে কি ধরণের নিযার্তন করেছে। উল্লেখ্য যে, থানা পুলিশ আদালতে যে অগ্রগামী প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে খোরশেদকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানোর কথা। আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন তিনজন আসামীর মাঝে শুধুমাত্র আমার ছেলেকে কেন শারিরীক নির্যাতনের পর হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। যেহেতু আমার ছেলে নিরাপরাধ সেহেতু ইচ্ছার বিরোদ্ধে নিরাপরাধ খোরশেদকে নির্যাতন পূর্বক ভয় ভীতির মাধ্যমে জবানবন্দি আদায় করে। আরো উল্লেখ্য যে, বাদী খতিজা বেগম ধৃত আসামী মিজানুর রহমান সাহেদ ও তার মায়ের চক্রান্তেই স্বামী আবদুল মোনাফকে হত্যা করে বলে দাবি করেন।
আমি একজন সাধারণ মানুষ। দারিদ্রতা যেন আমার পিছু ছাড়েনা। অভাব অনটনের সংসারে স্ত্রী,ছেলে,মেয়েদের নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করে আসতেছি। সিএনজি চালক আবদুল মোনাফের হত্যা সত্যি দুঃখজনক।আমি ও আমার পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকৃত হত্যাকারীরা আইনের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত হউক আমিও চাই।
মুছা সওদাগর বলেন, ধৃত আসামী মিজানুর রহমান সাহেদের বড় ভাই তারেকের সাথে নিহত আব্দুল মোনাফের দীর্ঘ দিনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। সাহেদের পরিবার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারায় তারেককে দীর্ঘ নয় মাস লুকিয়ে রাখে মোনাফ। মোনাফ তারেকের পরিবার থেকে কয়েক দফা টাকা নিয়ে তারেক কে ছেড়ে দেয়। মোনাফের কাছ থেকে ফিরে আসার পর তারেক কে বিদেশ পাঠিয়ে দেয় পরিবার। এই সময়ের মধ্যে মিজানুর রহমান সাহেদের মায়ের সাথে মোনাফের অবৈধ সম্পর্ক হয়। মায়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক মিজান ও তার বড় ভাই তারেক এবং পরিবারের লোকজন মেনে নিতে পারেনি। এ সম্পর্ক পরিবারের লোকজন জানতে পারলে ভূল বুঝা বুঝি সৃষ্টি হয় মোনাফের সাথে। তাই মোনাফের এ অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিশোধ নিতে ছোট ভাই মিজানুর রহমান সাহেদ কে মোনাফের কাছে সিএনজি ড্রাইভিং শিখার জন্য পাঠায়। এ সুযোগে মিজানের সাথে ও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা ইতি পূর্বে মামলা তদন্ত কারী কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার মহোদয়ের সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট হয়ে গেছে। মায়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক কে কেন্দ্র করে মিজানের পরিবার পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। তাছাড়া আব্দুল মোনাফের স্ত্রী মামলার বাদী নিজে ও জানেন। মামলার বাদী ও মিজানুর রহমান সাহেদের মাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনার রহস্য উমে¥াচন হবে এবং আমার নিরাপরাধ ছেলে খোরশেদ মুক্তি পাবে।
ছয় মাস পূর্বে মিজানুর রহমান সাহেদের গাড়ীর সাথে ধাক্কা লাগে। সে থেকে খোরশেদের সাথে মিজানের ভূল বুঝা বুঝি সৃষ্টি হয় এবং মিজানকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। অতচ আমার ছেলে খোরশেদের সাথে মিজান ও মোনাফের সাথে ভূল বুঝা বুঝি ছিল না। থানায় দু জন খোরশেদকে আটক করল। আসল খোরশেদকে থানা থেকে ছেড়ে দিল নকল খোরশেদ বিনা অপরাধে আসামী হয়ে জেলে গেল। এখন বিনা অপরাধে আমার ছেলের মত অনেকে জেল খেটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.