কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৭ ঘণ্টা চিকিৎসা বন্ধ, রোগীদের আহাজারি

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন এবং চিকিৎসক-নার্সদের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে চিকিৎসা পায়নি রোগীরা। চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে রোগীরা। অনেকে হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চলে গেছে। তবে গরীব রোগীরা পড়েছে চরম বেকায়দায়। তারা চিকিৎনা না পেলেও সদর হাসপাতালে বেডে গড়াগড়ি খাচ্ছে। এতে পুরো হাসপাতাল জুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে সরেজমিন পরিদর্শন, রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। এতে সর্বত্র নিন্দার ঝড় চলছে।

জানা গেছে, ভুল চিকিৎসায় আনোয়ার হোসেন নামের এক মৎস ব্যবসায়ী নিহতের অভিযোগ উঠে। (৪ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে এক সংঘর্ষ বাধে।েএই ঘটনার জের ধরে ওই রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের লাঞ্ছিত করেন। এসময় ওই রোগীর স্বজন ও নার্সদের সাথে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনার পর থেকে সব ধরণের চিকিৎসা বন্ধ করে দেয় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। একই সাথে নার্সরাও সব ধরণের সেবা বন্ধ করে দেয়।

মৃত আনোয়ার হোসেন এর স্বজনরা জানায়, সামান্য পেট ব্যাথা নিয়ে আনোয়ার হোসেন সদর হাসপাতালে যায়। পরে উপর থেকে নিছে নেমে একটি ডাবও পান করে। পূনরাই উপরে উঠে কর্তব্যরত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। ওই মুহুূর্তে ডাক্তার ইনজেকশন পুশ করার সাথে সাথে কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যায় তিনি। পরে কর্তব্যরত নার্সরা তার চিকিৎসার ফাইল সরিয়ে ফেলে। এর জের ধরে মৃত আনেরায়ারে স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের লাঞ্ছিত। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘নিহত’র স্বজনদের অবরুদ্ধ রাখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান গিয়ে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তারপর থেকে চিকিৎসা ও সেবা বন্ধ করে দেয় চিকিৎসক ও নার্সরা।

এদিকে চিকিৎসাধীন অন্য রোগী ও রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, ওই অপ্রীতিকর ঘটনা পর থেকে সব ধরণের চিকিৎসা ও সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। শুধু তাই নয়; রোগীদের হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বলে চিকিৎসক ও নার্সরা। অনেক রোগীকে জোর করে বেরও করে দেয়া হয়। চিকিৎসা সেবা না না পেয়ে অনেক মুর্মূষু রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এতে অনেক বাধ্য হয়ে সদর হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চলে যায়। কিন্তু মুমূর্ষু হওয়া সত্ত্বেও অর্থাভাবে অধিকাংশ রোগী হাসপাতালেই পড়ে থাকেন। এতে তাদের আর্তচিৎকার এবং আহাজারিতে হাসপাতালজুড়ে এক ভীতিকর ও অমানিবক পরিবেশ তৈরি হয়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল জুড়ে বিরাজ করছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বাধ্য হয়ে হাসপাতালে পড়ে থাকা রোগী ও রোগীর স্বজনের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ। অনেক রোগী কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বেডে। অনেক অপেক্ষায়- কখন মিলবে চিকিৎসা। অনেক রোগী ও রোগীর স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা গেছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন আবদুল মতিন জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে বিস্তারিত জানতে তিনি এই প্রতিবেদককে তার অফিসে যেতে বলেন।

সচেতন লোকজন বলছেন, একজন রোগীর মৃত্যু মারা গেছে। অস্বাভাবিক হলেও স্বজনেরা েএকটু কিছু করতে পারেন। তার কারণে পুরো হাসপাতালের সেবা বন্ধ করে দেয়া কতটা অমানবিক কাজ তা কিন্তু ওই চিকিৎসক ও নার্সদের বুঝে আসে না। তারা মানুষ না কসাই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.