এবার নাঈমকে ঘোষিত পুরষ্কার দিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে থাকার আহবান জানিয়েছেন কক্সবাজারের রিদওয়ান , ব্যাপক ভাইরাল

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ঃ বহুল প্রতিভার অধিকারি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ার কৃতি সন্তান  সংবাদ ও সমাজ কর্মী এ, কে , এম রিদওয়ানুল করিম তার ফেইসবুক আ্ইডির টাইমলাইনে দেশের আলোচিত শিশু বীর নাঈমকে তার ভাল কাজের পুরষ্কার ঘোষণাকারী, আমেরিকা প্রবাসী ওমর ফারুক সামিকে অনুরোধ জানিয়ে এক হৃদয় বিদারক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন । ইতিমধ্যে এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে শিশু বীর নাইমের ভাগ্য পূনরায় ফিরিয়ে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। রিদওয়ান এ প্রতিনিধিকে বলেন , “ নাঈম আমার কোন নিকট আত্মীয় কিংবা পূর্বপরিচিত নয় তার একটি ভাল কাজের কারণে চিনতে পারছি। অন্যের ভুলের কারণে  ছোট্ট একটি অবুঝ শিশুর স্বপ্নকে তছনছ হতে দেখে আবেগ ভালবাসার টানে সেই আমেরিকা প্রবাসী ওমর ফারুক সামিকে অনুরোধ জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিই । যদি এ  লিখাটির কারণে শিশু বীর নাঈমকে ক্ষমা সুন্দর দুষ্টিতে দেখে পূনরায় নাঈমের পাশে দাঁড়ায় তাতে আমার লিখাটা স্বার্থক হবে এবং দেশবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ খাকবে  শিশু নাঈমকে ক্ষমা করে দিয়ে তার স্বপ্ন পুরণে এগিয়ে আসে এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। রিদওয়ান তার লিখাটি সবাইকে শেয়ার করার অনুরোধ করেন।

পাঠকের সুবিধার্থে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলঃ

ভুল হতেই পারে ঘোষিত পুরষ্কার কেন দিবেন না ? হ্যালো ওমর ফারুক সামি আপনাকে বলছি

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া একটা বাচ্চা ছেলে তার জ্ঞান, বুদ্ধি থাকলেও কতটুকু। একজন সাংবাদিকের বিবেক, বুদ্ধি আছে বলে আমরা তাকে সাংবাদিক হিসেবে সম্মানের চোখে দেখি। একজন সাংবাদিকের সামান্য লিখনি কিংবা উপস্থাপনার মাধ্যমে ব্যক্তি, দেশ ও জাতির বিশাল সাফল্য, কল্যান যেমন সম্ভব ঠিক বিপরীত সেই সাংবাদিকের সামান্য ভুলের কারণে একটি পরিবার, একটি এলাকা এমনকি একটি রাষ্ট্র পর্যন্ত ধবংস হতে পারে । তাই একজন সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যাক এদিকে গেলাম না ।

প্রসঙ্গত বলছিলাম শিশু বীর নাঈমের কথা।
একটা ছোট বাচ্চা ছেলে নাঈম সে বনানী অগ্নিকান্ডে যে একজন সৎ নাগরিকের পরিচয় দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছিল তা সত্যি প্রশংসার। যদিও কাজটি ছিল সামান্য একটা পাইপ চেপে ধরে ফায়ার সার্ভিসকে অাগুন নির্বাপনের কাজে সহায়তা। ধরতে গেলে তেমন কিছুই না। তারপরেও বলব ছোট্ট শিশু নাঈম সেদিনের একটি ভাল কর্মের কারণে সারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে অল্প সময়ে স্থান করে নিয়েছিল। আমরা বাঙ্গালীরা বড়ই হুজুগী জাতি। ভাল লাগলে হঠাৎ করে আবেগে সবকিছু উজাড় করে দিতে পারি। আবার সামান্য ভুলের কারণে কারো ফুটন্ত জীবন শেষ করতে এক সেকেন্ডে নীতি বিসর্জন দিতে একটু চিন্তা করতে পারি না । এটা আমাদের দেশের মানুষের স্বভাবে পরিনত হয়েছে। নিশ্চয় এ রকম স্বভাব কারো পছন্দ হওয়ার নয়। আমার কাছে এটা ঘৃন্য স্বভাব বলে মনে করি। এ স্বভাব যাদের আছে তাদেরকে আমি মানুষ বলতেও ঘৃনা করি। এবার আসি আসল কথায়, আপনাদেরকে বলতে চাই কেন এ রকম স্বভাবটা ভাল নয়, আসলে মোটেও ভাল নয়। কাউকে আবেগে হঠাৎ বিশাল অংকের পুরষ্কার ঘোষণা আবার হঠাৎ করে তা প্রত্যাক্ষান করবেন এটা কোন ধরনের নীতি আমার বুঝে আসে না। হ্যালো এবার ওমর ফারুক সামি আপনাকে বলছি, আপনি ভাল কাজের প্রসংশার পুরষ্কার ঘোষণা করেছিলেন শিশু নাঈমের জন্য ৫ হাজার ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৪ লাখ টাকা সাথে পড়াশুনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এটা শুনে সারা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ শিশু নাঈমকে যেমন গ্রহণ করে হৃদয়ের মনি কোটায় স্থান দিয়েছিল ঠিক তেমনি ভাবে ভাল কাজের পুরষ্কার ঘোষণা করে রীতিমত ২য় হিরু হিসেবে মানুষের প্রশংসায় পঞ্চবিমুর হয়ে উঠেছিলেন। নাঈমের সাথে দেশের সমস্ত মিডিয়ায় আপনার ছবিও সমান তালে ভাসতে দেখেছি। আপনি শুধু পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় চলে এসেছেন। এখনো নাঈম কিংবা নাঈমের পরিবারে একটি টাকাও দেয়ার সুভাগ্য আপনার হয়নি। খ্যাতি কিন্তু আপনার আকাশচুম্বি তা আমরা প্রত্যক্ষ অনুধাবন করেছি। আপনিও নিজেকে নিয়ে ঐ সময়ে হয়েতু গর্বভোধ করেছেন। খুশি হয়ে একটা ভাল কাজের পুরষ্কার ঘোষণা করে যে প্রশংসা আপনি পেয়েছেন তা কোটি কোটি টাকা খরচ করেও পাওয়া সম্ভব নয়। মাত্র চার লাখ টাকার খ্যাতি আপনাকে সারা বাংলাদেশ এমনকি বিদেশের মাটিতেও পরিচিত হয়ে গেছেন। আমি আপনার নাম কোন দিন শুনিনি, দেখিনি কোথাকার তাও জানি না। তবে শিশু নাঈমকে পুরষ্কার ঘোষণা করছেন সেই ব্যক্তি আপনি ওমর ফারুক সামি হিসেবে আপনার নাম এখন আমার মুখস্থ। আমেরিকা প্রবাসী আপনার ছবিটাও পরিচিত হয়ে গেছে আমার। শুধু আমি আপনাকে চিনতে পারছি ভাল কাজে এগিয়ে আসছেন তাই। আমার মত সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন আপনাকে চিনে গেছে। ১৬ কোটি মানুষের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আছেন এখন আপনিও । এবার আসি শিশু নাঈমের কথায়, ১০ বছরের একটা বাচ্চা ছেলে নাঈম। মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে তার এখন জ্ঞান থাকলেও কত জ্ঞান থাকবে, বুদ্ধি থাকলেও মিডিয়ার জ্বালায় সে এখন প্রায় অর্ধ পাগল হয়ে গেছে। আমি হলে ফুল পাগল হয়ে যেতাম সত্যি কথা। ছোট একটি বাচ্চাকে মিডিয়া উপরে তুলতে গিয়ে আবার সেই মিডিয়ার কারণে একটি ফুটন্ত স্বপ্ন ধবংসের ধারপ্রান্তে পৌছে যাবে এটা কখনো কল্পনাও করি নাই। তা হতেও পারে না, একটি বীজ অঙ্কুরেই ধবংস হোক সেটা কারো কাম্য নয়। আমরা রাজনৈতিক কারণে এতই নিচু জাতিতে পরিচিত হব তা ভাবতেও অভাক লাগে। একটা বাচ্চা ছেলে সে রাজনীতি কি বুঝে, এখানে ভুলটা নাঈমের নয়। আমি কোনভাবে নাঈমকে দোষ দিতে নারাজ। সে অপরাধ করেনি তাকে অপরাধি বানানো হয়েছে । যে ছেলেটা এখনো শুদ্ধ করে কথা বলতে পারে না সে কিনা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। এ লজ্জা তার নয় এটা আমার আপনার সকলের লজ্জা। তাকে শুধু শুধু রাজনীতিতে টেনে কি লাভটা হয়েছে তা আমার অল্প জ্ঞানে বুঝে আসে না। যার কাল থাবায় একটি বিকশিত গোলাপ ফুলের স্বপ্ন অকালেই শেষ হয়ে যাবে। যে ছেলেটার স্বপ্ন রাজনীতিবিদ হওয়ার ছিল না সে হতে চাই দেশের সেবক পুলিশ অফিসার। শিশু নাঈম হয়েতু পড়াশুনা শেষ করে পুলিশ অফিসার হবেই একদিন ইনশাল্লাহ। আল্লাহ কার কপালে কি লিখে রাখছে সেটা আল্লাহই ভাল জানেন। শিশু নাঈম যে ভুলের কারণে মানুষের ভালবাসা হারিয়ে ঘৃনার পাত্র হয়ে গেছে। কি কারণে সেটা এদেশের সবাই জানে নাঈম অপরাজনীতির শিকার। ভুলটা কার ছিল সেটাও সবাই জানি, নাঈম অত্যন্ত গরিব পরিবারের সন্তান বাবা থেকেও নেই। টাকার অভাবে বস্তিতে বসবাস করছে তারা, ছেলের পড়াশুনার জন্য মা বিশাল অংকের সহযোগিতা পাওয়ার আশায় এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। অন্তত ছেলের ভাল কাজের সুবাদে পরিবারটি ঘুরে দাড়াবে এমন আশা বুক পেতে বসেছিল। কে জানে হঠাৎ কাল বৈশাখির ঝড় এসে সব স্বপ্ন ভেঙ্গে লন্ডভন্ড করে দিবে? ওমর ফারুক সামিকেও সে ঝড়ে হাত পা গুটিয়ে বিমুখ হতে হবে? ওমর ফারুক সামি আপনি হয়েতু অঢেল সম্পত্তি টাকা পয়সার মালিক তাই একটি ভাল ছেলের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছেন নিঃসন্দেহে ধরে নিতে পারি আপনি একজন অত্যন্ত ভাল মনের মানুষ। একটি স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়া যায়, একটি বিকশিত গোলাপকে ফুলে পরিনত হওয়ার আগে কিভাবে বুঝবেন এটি গোলাপ ফুল নয়। আপনার মনে এখন হয়েতু নাঈম ও তার পরিবারকে নিয়ে খারাপ সন্দেহ এসে গেছে তা স্বাভাবিক বটে কিন্তু আপনি কি একটি বার ভেবে দেখতে পারেন না। তাদের বুক ভরা আশাকে কি আপনি হঠাৎ করে দূরে ঠেলে দিতে পারেন। নাঈম ও তার মায়ের আকুতি আপনার কি কানে বাজে না তারা একটু ভুলের জন্য কত অসহায় হয়ে পড়ছে। কত বার ছেলেটা বলছে আমাকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে আমি না বুঝে ভুল করেছি। আমি পড়ালেখা করতে চাই । টাকা গুলো পড়াশুনা করতে খরচ করব আরো কত ইত্যাদি ইত্যাদি। মা ছেলের ভুলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছে তা কি আপনার কানে পৌছে না। একটি বার ভেবে দেখুন কাউকে হঠাৎ করে ভুল বুঝতে নেই। কাউকে জানতে হহলে চিনতে হলে গভীরে যেতে হবে। ভুল মানুষেই হতে পারে তাই বলে কি ভাল কাজের ঘোষিত পুরষ্কার পাবে না কেন? এমন কেন হবে আপনি যে কাজের জন্য তাকে পুরষ্কার দিচ্ছেন দায়িত্ব নিয়েছেন নাঈমের সে ভাল কাজ কি চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল। ঘোষিত পুরষ্কার কেন দিবেন না? নাঈম ভুলের জন্য আজ অনুতপ্ত। বাচ্চা মানুষ তার প্রতি কি আপনি এভাবেই নির্দয় হতে পারেন? আপনি নিজেই তো বলছেন, “ছেলেটি অপরাজনিতির শিকার।
“এই ছেলে তো রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। আমার কষ্টার্জিত টাকায় নোংরা রাজনীতি কেনো? আমি বলেছিলাম, পড়াশুনার জন্য টাকা দিব। রাজনৈতিক নোংরামি করতে হলে নিজের টাকায় করুক।
এতিমখানায় টাকা দিতে আমি নিজেই তো পারি।”,

আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন ছেলেটি ষড়য়ন্ত্রের শিকার।

মনে রাখবেন ওমর ফারুক সানি টাকা পয়সা মানুষের চির দিন থাকে না, থাকে মানুষের ভালবাসা আর কর্মের ফল। মাত্র চার লাখ টাকা আপনার কাছে কিছুই না যৎ সামান্য এ টাকার জন্য একটি পরিবারকে তুষের আগুনের মত জ্বালানো ঠিক হবে না। নাঈমও হাতে নাগালে পাওয়া টাকার শোক সইতে পারবে না চিরদিন হারানোর ব্যথায় ব্যথিত হবে আর সাথে শুনতে হবে মায়ের বকুনি। আল্লাহ না করুক হয়েতু এমনও হতে পারে, না পাওয়ার শোকে ছেলেটি মারাও যেতে পারে। তখন কিন্তু আপনাকে বড় ভুলের মাশুল গুনতে হতে পারে। আপনি যে পুরস্কার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেটা সারা দেশের মানুষ সাক্ষী। আপনি আপনার দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করুন। যদি এর ব্যর্থয় ঘটে মনে রাখবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসেবে ঘৃনার পাত্র হয়ে থাকবেন।
পরিশেষে বলব ভুলটা যেই করুক না কেন? অন্তত একটি পরিবারকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করার জন্য হাত জোড় করে বলছি ওমর ফারুক সামি হ্যালো আপনাকে আবার বলছি নাঈমকে ৫০০০$ ডলার পুরস্কার না দেন। কিন্তু তাকে পড়াশোনার খরচটা থেকে অন্ততপক্ষে বঞ্চিত করবেন না। আশা করি কথাটা রাখবেন। অসহায় পরিবারের পাশে থাকবেন।

এ.কে. এম রিদওয়ানুল করিম

সংবাদ ও সমাজ কর্মী।
মোবাইল ঃ ০১৯৮৪৭৯৭৮৪০।

সূত্র ঃ ফেসবুক Akm Redwanul Karim

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.