পেকুয়ায় ২৮ বছর পর ৬ সন্তানের জননী ছাবেকুন্নাহার জানলেন তার পিতৃপরিচয়

পেকুয়া প্রতিনিধি :::

মোছাম্মদ ছাবেকুন্নাহার (২৮)। পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের অাজারা বেগমের গর্ভজাত সন্তান ও কুতুবদিয়া উপজেলার মোঃ মিজানের স্ত্রী। ৬ সন্তানের জননী ছাকেকুন্নাহার ২৮ বছর পার হতে চললেও জানতেন না তার পিতা কে। প্রতিদিন মাকে জ্বালাতন করতেন পিতৃ পরিচয় দেওয়ার জন্য। পিতার পরিচয় দেওয়ার মত স্বামী অার সন্তানের কাছে কোন জবাবই ছিল না সাবেকুন্নাহারের।

২৮বছর ধরে মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছিলেন তিনি। মা লজ্জায় বলতেন না তার সন্তানকে পিতার পরিচয়। তবে মাঝে মধ্যে সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিয়ে তার পিতার বাড়িতে গেলেও প্রভাবশালীর কঠোর বার্তায় কিছুই করতে পারেনি। একপর্যায়ে অাত্মহত্যার মত ঘটনার দিকে ছুটে চলছিলেন ছাবেকুন্নাহার।

তার নিভু জীবনে অাশার প্রদীপ হয়ে এসেছেন স্থানীয় কিছু প্রবীণ ব্যক্তি। জানালেন তার পিতার পরিচয়। অাশ্বস্থ হয়ে মা অাজারা বেগমকে প্রশ্ন করলেন তার পিতা কে। অবশেষে মা বললেন তার পিতা রাজাখালী ইউনিয়নে সুন্দরী পাড়া এলাকার মৃত হাজ্বি মেহের অালী মাতবরের পুত্র শাহাদত অালী মাতবর।
এমন ঘটনা সাংবাদিকদের বললেন পিতৃ পরিচয়বিহীন ছাবেকুন্নাহার। এঘটনাটি পুরো পেকুয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সন্তানের জ্বালাতনে শনিবার (৩০মার্চ) দুপুরে অাজারা বেগম সন্তানের পিতৃ দাবী নিয়ে রাজাখালীস্থ শাহাদত অালীর বাড়িতে যান। গিয়ে তার সন্তানের পিতৃদাবী করেন। একপর্যায়ে শাহাদত অালীর বাড়ির লোকজন হাকাবকা করে বের করে দেন।

অাজারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, অনেক অাগের কথা। তখন অামি হাজ্বি মেহের অালী মাতবরের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতাম। গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে ওই বাড়ির সন্তান শাহাদত অালীর সাথে সম্পূর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের অাশ্বাসে শারীরিক সম্পূর্ক হয়। বিয়ে না হয়েই কন্যা সন্তান ছাবেকুন্নাহারের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় অামাকে।

রাজাখালী ইউনিয়নের জন্য তারা খুব প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে ভূমিষ্ট সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পিতার বাড়িতে চলে যায়। ওই সময় স্থানীয় এলাকাবাসী বিষয়টি মিমাংসার করার জন্য বললেও তারা কর্ণপাত করেনি। সর্বশেষ বাধ্য হয়ে ওই কন্যা সন্তান পোষ্য হিসাবে অন্যের বাড়িতে দিয়ে দিই। তারপর বিয়ের পিড়িতে বসি। ওই মেয়ে বিয়ে দিয়ে সন্তান হয়েছে। তিনি এখন ৬ সন্তানের জননী। অবশেষে বাধ্য হয়ে নিজের সন্তানকে পিতার পরিচয় দিতে বাধ্য হলাম। অামরা অসহায় মানুষ। অামরা ভয়ে অাছি কখন না জানি কি হয়। সর্বশেষ শনিবার শাহাদত অালীর বাড়িতে গেলে তাদের সম্মানের দিকে থাকিয়ে কিছু না করার পরামর্শ দেন।

শাহাদত অালীর কন্যা দাবী করে ছাবেকুন্নাহার বলেন, মানসিক যন্ত্রনা নিয়ে অামি দীর্ঘ ২৮ বছর পার করেছি। একদিন দাদা মেহের অালী মতবর অামাকে স্বপ্ন দেখিয়ে বললেন, তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য। মাকে বললাম অামার পিতা কি শাহাদত অালী। তিনি হ্যা বলার পর অামার প্রাণ ফিরে অাসে। অন্তত দীর্ঘ বছরের দুঃখ কিছুটা লাঘব হল। এখন অামি পিতার দাবী নিয়ে ওই বাড়িতে যাব। না হলে অাদালত পর্যন্ত যাব। মামলার মাধ্যমে ডিএনও টেষ্টের অাবেদন জানাব। তারপরও অামার অাসল পিতার পরিচয় বের করবো।
স্থানীয় অাবদু শুক্কুর, বাদশা মাঝি, জামাল হোসেন, নুরুল হোসেন ও মনচুর এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেই সময় অামরা এরকম একটি ঘটনা শুনেছি। অাজারা বেগম কন্যা ছাবেকুন্নাহারকে নিয়ে বহুবার শাহাদত অালীর বাড়িতে যেতে দেখেছি। সর্বশেষ গতকাল কন্যার পিতৃদাবী নিয়ে অাজারা বেগম শাহাদত অালীর বাড়িতে গেছে এমন কথাও অামাদেরকে বলেছে। ঘটনাটি এখন পুরো পেকুয়ায় অালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি প্রকৃত ঘটনা তাই হয়ে থাকে মেয়েটাকে সন্তানের পরিচয় দেওয়া মানুষ্যত্বের কাজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.