পড়ুন চকরিয়ার মানবতাবাদী লেখক তামীমের প্রবন্ধ- মানবতা আজ আমায় কেদেঁ কেদেঁ ডাকছে ।

           
প্রবন্ধের নাম:- মানবতা আজ আমায় কেদেঁ কেদেঁ
ডাকছে ।
লেখক:- কবি ও প্রাবন্ধিক তানভীর মোর্শেদ তামীম
পুরো পৃথিবীর মানুষ গুলো কত নিষ্ঠুর তা স্বচক্ষে না দেখে ও প্রতিচ্ছবি দেখলে বুঝা যায়। মানুষ জাতি আজ পৃথিবীর মাঝে বিরাজমান সকল প্রাণীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের সোনালী মুকুট পরিধান করার পর ও যে নিশংস আচরণ প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান করছে তা কখন ও মেনে নেওয়া যায় না। আজ নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিতে বড্ড বেশী ঘৃণ্যা হয়। আমরা মানুষ জাতিকে আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে এই অপরুপ বসুন্ধরার সুভাসে পাঠিয়েছে কিন্তু আজ আমাদের মধ্যে তার বিন্দমাত্র রেশ নাই বরং আমাদের ক্রিয়াকলাপ হিংস্র পশুর চেয়ে ও অধম।একজন মানুষ হিসেবে এইকথাটা আমার বলতে যদি ও অনেক কষ্ট হচ্ছে কিন্তু কয়েকটা কথা লিখার জন্য কলম যখন ধরেছি তখন বলতেই হবে হিংস্র পশু যেমন অন্য পশুর রক্ত খেয়ে তার পিপাসা মেটায় ঠিক তেমনি আজ আমরা ও মেতে উঠেছি রক্তাক্ত খেলায়। আমাদের মধ্যে আজ মানবতার কোন সুঘ্রাণ নেই আছে শুধু শ্রেষ্ঠত্ব জাহিল করার জন্য অমানবিক কাজকর্মের দৃষ্টান্ত।আমরা আজ কতটা মানবতাহীন তা আমরা একটু সচেততনভাবে দৃষ্টি রাখলেই বুঝতেই পারব। আজ বলতে গেলে বিশ্ব মানবতা চরম বিপর্যয়ে বিশ্ব মানবতা আজ কতটুকু বিপর্যয়ের শিখার তা সিরিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের দিকে তাকালে বুঝা যায়। ইহুদী খ্রিষ্টানরা আজ ক্ষমতার লোভে,অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস কে পুজি করে,রাজ্য দখল করার মোহে এবং নিজিদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে অমানবিক নির্যাতন সিরিয়ার মুসলিমদের উপর চালাচ্ছে তা দেখলে নিজের অজান্তেই অশ্রু ঝরে পড়বে প্রত্যেক হূদয়বান মানুষের। কি নিষ্ঠুর গণহত্যা চালাচ্ছে ইহুদী খ্রিষ্টান আর তার দোসররা তা ভাবতে ই অনেক কষ্ট অনুভব হয় আজ আমার স্বচ্ছ হূদয়ে । আজ সিরিয়া প্রত্যেক স্থানে ঘর্টার, বেয়নেট আর বোমার শব্দে প্রকম্পিত আকাশ বাতাস। শুধু তাই নয় মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মসজিদ কে ও জ্বালিয়ে দিচ্ছে নরপশুরা। এইসব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে তারা থেমে যাচ্ছে না নিষ্পাপ শিশুদের কে ও ওরা ধারালো অস্থের আঘাতে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে । আর প্রায় পিতার হাতে পুত্রের লাশ এর চেয়ে বড় বেদনাদায়ক ঘটনা একজন পিতার জন্য আর কি হতে পারে।আজ সিরিয়ার আকাশে বাতাসে লাশের গন্ধ আর নদী সাগরে দেখা যাচ্ছে রক্তের স্রোত।সবচেয়ে বড় কষ্ট হয় নিষ্পাপ শিশুদের করুণ চাহনি দেখলে আর বাচার জন্য তাদের আকুতি মিনতির দৃষ্টি। কিন্তু হাজার ও আকুতি মিনতি করার পর ও রেহায় পাচ্ছে না এই নিষ্পাপ শিশুগুলো ইহুদী খ্রিষ্টান দের পোষা নরপশুদের ধারালো বেয়নেটের মুখ থেকে।অসহায় মানুষের হাহাকার চিৎকার আর চোখের জলে ভেসে যাচ্ছে আজ সিরিয়া অঞ্চল । পিতা মাতার হাতে সন্তানের লাশ, সন্তানের হাতে পিতা মাতার লাশ, ভাইয়ের হাতে বোনের লাশ আর বোনের হাতে ভাইয়ের লাশের চেয়ে ভারি বহন আর কি হতে পারে? শুধু তাই নয় ক্ষমতার জোরে চালিয়ে যাচ্ছে অমানবিক নির্যাতন সিরিয়ার মুসলিমদের উপর ।এরপর ও আজ নিরবতার ভূমিকা পালন করতেছে বিশ্বমানবতা । কেন বিশ্বমানবতা এমন নিরব ভূমিকায় অগ্রসর হচ্ছে তা স্পষ্ঠত বুঝা যাচ্ছে ।তাদের নিরবতার পেছনে একটায় কারণ আর তা হল তারা যদি মানবতার পক্ষে কথা বলে তাহলে হয়ত তাদের মুকুট হারাতে হবে ক্ষমতাধরদের হাতে ।কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না আমরা যে মানুষ ! আর তাইতো এগিয়ে আসতে হবে মানবতার ডাকে। আজ শুধু সিরিয়ায় নয় মায়ানমারে ও মানবতার লঙ্গন ঘটেছে অকাতরে । মায়ানমার সরকার বিদেশী জলসায় মেতে উঠে মানবতা কে কেটে টুকরু টুকরু করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে।রোঙ্গিয়াদের রক্ত স্রোত এর ই সাক্ষ্য বহন করছে।আজ বিশ্ব মুসলমান প্রতিটা পদে পদে লাঞ্চিত কিন্তু মুসলিম নেতারা রাজত্ব হারার ভয়ে নিরব। কিন্তু এই নিরবতা যে একদিন আমাদের দুঃখের কারণ হয়ে দাড়াবে তা হয়ত আমরা উপলব্ধি করতে পারছি না ।সিরিয়ার নিরাপরাদ মানুষ গুলো আজ জীবন্ত লাশ হয়ে যাচ্ছে অমানবিক নির্যাতনের শিখার হয়ে।তাদের দেখলে ই বুঝা যায় আজ মানবতার কত বিপর্যয় ঘটেছে। এভাবে আর কতদিন ?আর কত রক্তের স্রোত পাড়ি দিলে মানবতার কন্ঠ সোচ্চার হবে ? মানবতা তুমি কি আজো ঘুমন্ত পরীর মাঝে লুকিয়ে আছ? তোমার কি একটু ও কষ্ট হয় না এই নির্মম দৃশ্য দেখার পরও ? বুঝতে পারছি তোমার খুব কষ্ট হয় কিন্তু নিজের অবস্থান এর যাতে পরিবর্তন না হয় সেদিকে তোমার খেয়াল আর তাইতো সবকিছু শুণার পর ও কানকে বলছ বধির হও,চোখ কে বলছ অন্ধ হও, তককে বলছ স্পর্শহীন হও আর কন্ঠকে বলছ বাক্যহীন হও। না এভাবে আর নিজের অবস্থানের কথা চিন্তা করলে হবে না। কারণ আমাদের নিরবতার কারণে আজ হাজার হাজার মানুষ রক্তাক্ত হচ্ছে ভয়ংকর ছোবলে । আর নয় নিরবতা । আসুন এবার নিরবতার দোয়ার ভেঙ্গে ফেলি আর মানবতার পক্ষে কথা বলি । তবে ই মানবতার জয় হবে । আর তখন ই আমরা প্রকৃত অর্থে মানুষ হব। পরিশেষে মানবতার জয় হবে ই এটাই কামনা করে এখানে আজ বিদায় নিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.