সাঈদীকে চাঁদে-নয়! চকরিয়ার মাঠে-ঘাটে দেখা যাচ্ছে

জাকের উল্লাহ চকোরী :
বেশ কবছর আগে বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে গুজব রটিয়ে বলেছিল কারাবন্ধি মাওলানা দেলোয়ার হোছাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশের অনেক এলাকায় বহু ঘটনার জন্ম দিয়েছিল। যাহা কারো অজানা নয়।
আজকের সাঈদী সেই সাঈদী নয়। চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আগামী উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলূল করিম সাঈদী। চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সর্বত্রে হাটে-ঘাটে-মাঠে বাজারে ও চায়ের দোকানে ঝড় তুলেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাঈদী।
”বন্ধু মায়া লাগাইছে ফিরিতি শিখাইছে” কিযাদু করিয়া সাঈদী আনারস মার্কা নিয়ে পাগল বানাইছে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ৪জন হলেও প্রচার-প্রচারণায় রয়েছে ৩জন প্রার্থী। অপর শক্তিশালী প্রার্থী হচ্ছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। তিনি আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতিক নৌকা নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একজন প্রবীন আওয়ামীরীগ নেতা বললেন, নৌকা ভোট হচ্ছে নিরব, তবে নিরাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। ওস্তানের মা,র শেষ রাতে। তার পক্ষে রয়েছে ভোটের পুরানো কারিগর।
আরেক প্রার্থী শ্রমিক নেতা জহিরুল ইসলাম লড়ছেন দোয়াত কলম প্রতিক নিয়ে। তার কিন্তু ভোটের হিসাব ভিন্ন রকম। তিনি দাবী করেন, তার ৩০হাজার শ্রমিক ভোটার রয়েছেন। আবার ৩০হাজার শ্রমিকের রয়েছে ৩০হাজার বউ ভোটার। তাদের উভয়ের রয়েছে আরো ৬০হাজার শাশুড়-শাশুড়ি ভোটার। সব মিলিয়ে তার ভোটার সংখ্যা ১লাখ ২০হাজার।
সম্প্রতি ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন শেষ হয়েছে। দেশের টিভি চ্যানেল গুলোর বদৌলতে সোনার বাংলার ১৬ কোটি জনগন ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির দৃশ্য দেখেছেন শুধুমাত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধিরাছাড়া। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এদৃশ্য দেখেও দেখেননি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ওস্তাদরা।
আগামী ১০মার্চ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন। ১১মার্চ দেশের সর্বোচ্ছ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ২৮বছর পর অনুষ্টিতব্য ঢাকসু নির্বাচন।
দেশের ১ কোটি ৪৪লাখ ভোটার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এ দু নির্বাচনের ফলাফল কি হয়? এর উপর ভিত্তি করেই চকরিয়ার ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবে কি যাবে না তা অনেকাংশে নির্ভর করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করছি দেশ যেন আরেকটি ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বারের ঘটনা না ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.