বদরখালী সমিতির প্রকল্প ইজারায় অনিয়ম-দূর্নীতি চরমে

আবুল হোসেন, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি অনিয়ম দূর্নীতির আতুঁরঘরে পরিণত হয়েছে। প্রকল্প ইজারাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে চলছে নীরব অনিয়ম। সমিতির সভ্য ও পোষ্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে বর্তমানে সমিতির লাগামহীন দুর্নীতির লাগাম টানার কেউ নেই। এ ঘটনায় সমিতির অন্তত ৪০ হাজার সভ্য ও পোষ্যদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজসে তহবিলের প্রায় ৩৫লাখ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কতিপয় কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মামলা পরিচালনা করে চলছেন। অপরদিকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করার জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পিতভাবে সমিতির মালিকানাধীন ১নং বøক লবণ মাঠ ও চিংড়ি প্রকল্পটি গোপনে ফাঁতানো ইজারা দেয়ার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ঘরণার কয়েকজন কর্মকর্তা ও এক কর্মচারী।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ওই লবন মাঠ চিংড়ি প্রকল্পটি ইতোমধ্যে ইজারা দেয়ার জন্য বেশ ক’বার তারিখ ঘোষনা করা হলেও কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট চক্রের পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লাখ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার জন্য কৌশলে ইজারা কার্যক্রম বারবার পেছানো হয়। ফলে ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া অনেকে কতিপয় ওই চক্রের কারসাজিতে পড়ে অন্ধকারে ঘুরপাক খাচ্ছেন। এমনকি কবে নাগাদ প্রকল্পটি ইজারা দেয়া হবে তাও জানাচ্ছেনা সমিতির সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ উঠেছে, সমিতির কর্মকর্তারা তাদের দুর্নীতির প্যাকেজ ডিল বাস্তবায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে ওই প্রকল্পটি চুক্তিভিত্তিক ইজারা দেয়ার অনুমতি দিতে আবেদন করেন। কিন্তু জেলা সমবায় কর্মকর্তা সমিতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং আর্থিকভাবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে তাদের আবেদনটি নাকচ করে দিয়ে সমিতির উপ-আইনের ৪১ ধারা মোতাবেক প্রকাশ্যে ইজারা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
জেলা সমবায় কর্মকর্তার নির্দেশের প্রেক্ষিতে সর্বশেষ ১২ ফেব্রæয়ারী প্রকল্পটি প্রকাশ্যে ইজারা দেয়ার তারিখ ঘোষনা করেন সমিতির সংশ্লিষ্টরা। ওইদিন সমিতির তিনজন সভ্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইজারা কার্যক্রমে অংশগ্রহন করলেও কৌশলে ওইদিনও ইজারা কার্যক্রমও বন্ধ করে দেন সমিতির কর্মকর্তারা। তবে ওইদিন ইজারা কার্যক্রমের পরবর্তী তারিখ ঘোষনা করা হবে জানালেও গতকাল পহেলা মার্চ পর্যন্ত জানানো হয়নি। এ অবস্থার পরও প্রকল্পটি ইজারা নিতে ইচ্ছুক অন্তত ৪-৫জন প্রকৃত চিংড়ি ব্যবসায়ী বর্তমানে উদগ্রীব হয়ে আছেন। তাঁরা প্রতিদিন সমিতির অফিসে ধর্না দিচ্ছেন। কিন্তু তাদেরকে ইজারা সংক্রান্ত কোন তথ্য দিচ্ছেনা সংশ্লিষ্টরা। এসব অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অপরদিকে এখনো প্রকল্পটি ইজারা নিতে অংশ নেয়া রেজাউল করিম বাদল নামের একজনের আড়াই লাখ টাকার পেঅর্ডার সমিতির ব্যাংক হিসেবে গচ্ছিত আছে।
সমিতির একাধিক সভ্য অভিযোগ তুলেছেন, ইজারা কার্যক্রমে লুকোচুরির আশ্রয় নিয়ে সমিতির বর্তমান সেক্রেটারী ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম ইকবাল বদরী সহ সমিতির ওই চক্রটি কৌশলে নুর আজম ও শফিউল আলম নামের দুইজনকে পাইয়ে দেয়ার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুইজনের মধ্যে নুর আজম সমিতির বর্তমান সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আলী আজম বাহাদুরের ছোটভাই। অন্যজন বিএনপির সক্রিয় কর্মী।
সমিতির সভ্যরা অভিযোগ করেছেন, লুকোচুরির মাধ্যমে নুর আজম ও শফিউল আলম নামের দুইজনকে প্রকল্পটি গোপনে ইজারা দেয়া হলেও সমিতি রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। কারণ প্রকল্পটি প্রকাশ্যে ইজারা দেয়া হলে যে পরিমাণ রাজস্ব আসবে, তা গোপনে দেয়া হলে রাজস্বের পরিমাণ অপ্রতুল হবে বলে আশঙ্কা করছেন সমিতির সভ্যরা।
অভিযোগ উঠেছে, সমিতির এসব কর্মকর্তারা প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমিতির উপ-আইন, সমবায় সমিতি আইন ও সমবায় বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে চলছেন। মুলত তাদের ক্ষমতাবলে বর্তমানে সমিতির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সমিতির পুরানো কয়েকজন সভ্য।
অপরদিকে সমিতির একটি সুত্র জানিয়েছে, বর্তমান সম্পাদক ইকবাল বদরী পৈত্রিক জায়গা-জমি দখল বেদখল ও খুনের ঘটনা নিয়ে মামলায় আসামি হয়েছেন। এসব মামলা চালাতে তিনি সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজসে তহবিলের লাখ লাখ টাকা উত্তোলণ করে ব্যবহার করছেন। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় সমিতির সভ্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, বদরখালী সমিতি কী আসলে তাঁরা কয়েকজনের, না কী সমিতির ৪০ হাজার সভ্য পোষ্যের সম্পদ।
সমিতির সভ্য পোষ্যরা বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির হাজার কোটি টাকার সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বর্তমান কমিটির সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অনিয়মের এসব ঘটনায় ইতোমধ্যে সমিতির সভ্যদের পক্ষ থেকে জেলা সমবায় কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা সমবায় কর্মকর্তা, চকরিয়ার ইউএনও, থানার ওসি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.