চকরিয়ায় উত্তাল জনতার ভালোবাসা আমাকে ভোটের মাঠে নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে-সাঈদী

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগনের মনোনীত নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ক্রীড়া সংগঠক শ্রমিকনেতা আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী বলেছেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে অনুসারী কয়েকজন নেতা ছাড়া দলের তৃনমুলের কোন নেতাকর্মী এবং সমর্থক নেই। ১২ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার চকরিয়া শহরের কাজী মার্কেট চত্বরে তাকে (গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীকে) দেয়া সংবর্ধনা এবং পরদিন বুধবার চকরিয়া শহরের চিরিংঙ্গাস্থ জনতা মার্কেট চত্বরে আমাকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে উত্তাল জনতার উপস্থিতিতি তারই প্রমাণ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বদরখালী সমিতি প্রাঙ্গনে সমিতির সকলস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সভ্য ও পোষ্য এবং বদরখালী বাসির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, নৌকা প্রতিকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বহুবছর ধরে আওয়ামীলীগ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছেন। তাঁর দাপটে নিকট আত্মীয়রা বন উজাড় থেকে শুরু করে বহু খাসজমি ও বনবিভাগের জমি দখল করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরা অবহেলার শিকার হয়েছেন।
পক্ষান্তরে আমি আওয়ামী রাজনীতিতে রাজপথে ছিলাম বলেই বিরোধী জোটের ৪০টি মামলার আসামী হয়েছি। তৎমধ্যে তদবীর করে ১০টি মামলা থেকে বাদ পড়েছি। দলীয় বহু নেতাকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতা করে জামিন নিয়েছি। কিন্তু দল থেকে আমি কোন ধরনের সুবিধা নিইনি। আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সবসময় রাজপথে অগ্রভাগে ছিলাম। কোনদিন ঘরে বসে থাকিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের আশ^াসে অতীতে বহু সুবিধা পেয়ে ছেড়ে দিয়েছি। আমি ছাড়াও দলের অনেক সিনিয়র ও পরিচ্ছন্ন নেতা এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে জনসমর্থন নেই সেই ধরণের প্রার্থীকে দলের মনোনয়ন দেয়ায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা হতাশ। সেই কারনে আমাকে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা আওয়ামীলীগের সকলস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থক গোষ্ঠী এবং চকরিয়া উপজেলার উত্তাল জনতা অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অংশনিতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
তাই আমি দলের নেতাকর্মী এবং জেগে উঠা চকরিয়া উপজেলার ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের অনুপ্রেরণায় নির্বাচন করতে যাচ্ছি। চকরিয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগন হচ্ছে আমার শক্তি। ইতোমধ্যে উত্তাল জনতা সেই ভালোবাসা আমাকে দিয়েছেন। ভোটের ময়দানে আমাকে নতুন স্বপ্ন দেখার জন্য সাহস দিয়েছেন। তাই জনগনের এই ভালোবাসা নিয়ে আমি আগামীতে এগিয়ে যেতে চাই। তিনি চকরিয়াবাসির উদ্দেশ্যে বলেছেন, আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতীক দিলেও দলের সবাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ইতোমধ্যে বিষয়টি গণমাধ্যমে পরিস্কার করে বলেছেন। সুতারাং এখানে কেউ ভয়ভীতি দেখাতে পারবেনা। তাই বললো সংগ্রামী চকরিয়াবাসি আপনারা দলমত নির্বিশেষে ভয়-ভীতির উর্ধ্বে উঠে আমার প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে যাবেন। এটা আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা রাখি।
গতকাল সারাদিন বদরখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ শেষে দুপুরে তিনি বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির মাঠে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। বদরখালী সমিতির সভাপতি হাজি নুরুল আলম সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা পরিমল বড়–য়া, সাবেক ছাত্রনেতা বদরখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বদরখালী সমিতির প্রভাবশালী সদস্য আলহাজ¦ হামিদ উল্লাহ, যুবনেতা হাসান আল বসরী। উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা রাজু সহ বদরখালীর প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামীলীগ নেতা আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সভা শেষে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী চকরিয়া উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে গনসংযেগ করেন। ওইসময় এলাকার সর্বস্তরের জনগনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
সকালে তিনি সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুরস্থ দারুল হিকমাহ্ একাডেমীর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী।
দারুল হিকমাহ এসোসিয়েটসের সভাপতি ড. গিয়াস উদ্দিন হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু তৈয়ব। বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক এমইউপি হাজী মোজাহের রহমান, ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান এমইউপি মো. সেলিম রেজা, একাডেমিক এডভাইজার ফরিদুল আনোয়ার ও দারুল হিকমাহ এসোসিয়েটসের সদস্য ইদ্রিস রাশেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মু. রিদুয়ানুল মোস্তফা টিপু। এসময় এসোসিয়েটসের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবদুস সামাদ, ডাঃ কাইছার হামিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক-অভিভাবিকা, এসোসিয়েটসের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.