টেকনাফ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ‘ক্লিন ইমেজের প্রার্থী’ ইসমাঈল সিআইপি

॥ শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্স টিভি  ॥
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ‘ক্লিন ইমেজের ক্যান্ডিডেট’ ইসমাঈল সিআইপিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবী জোরালো হচ্ছে।
সরকার দলীয় প্রার্থীকে জয় ছিনিয়ে আনতে হলে তারুন্য নির্ভর ও ক্লিন ইমেইজ আর গণমানুষের পছন্দের ব্যক্তি, আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইসমাঈল সিআইপিকে আগামী উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানিয়েছেন তৃণমুল নেতা কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। তিনি ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র দলীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
এবারের উপজেলা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন পেতে একটি কথা বেশ শোনা যাচ্ছে, তা হলো ‘ক্লিন ইমেজের ক্যান্ডিডেট’। কিন্তু প্রার্থীদের কাছে এই শব্দমালার কী মানে?
টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. ইসমাঈল সিআইপি বলেন, ‘ক্লিন ক্যান্ডিডেট’ বলতে তিনি বোঝেন যে প্রার্থী পেশী শক্তিবিহীন এবং আর্থিক দুর্নীতি থেকে মুক্ত, মাদকের সাথে কোন ভাবে জড়িত নয় তাকে। একই সঙ্গে তাকে তার এলাকা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। এছাড়াও টেকনাফ হচ্ছে সীমান্ত এলাকা। মাদকের বুক খ্যাত এই উপজেলার বেশির ভাগ অধিবাসী কোন না কোন ভাবে মাদকের সাথে সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, আমি কোন ভাবে জড়িত নয়। বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স পাঠিয়ে পরপর ৫ বার সেরা করদাতা হয়েছি। এছাড়াও সরকার আমাকে সিআইপি ভুষিত করেছেন।
“যদি একজন উপজেলা চেয়ারম্যান (জনপ্রতিনিধি) জন-বান্ধব না হয়, এলাকায় সুপরিচিত না হয়, সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারে, হালাল রোজগার করতে না পারে, কিন্তু ভীষণভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী না হয়, সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় না, তাকে ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি বলা যেতে পারে।” উল্লেখিত বিষয়গুলোর বিপরীত দিকগুলো আমার রয়েছে বলে, আমি অবশ্যয় ক্লীন ইমেজের প্রার্থী।
“তাঁর রয়েছে ব্যবসায়িক সফলতা আর রাজনৈতিক সফলতা ও দূরদর্শিতা। তিনি একদিকে রাজনীতিবিদ, অপরদিকে সফল ব্যবসায়ী।
মো. ইসমাঈল সিআইপি বলেন,আমি মনে করেন, কেবল আওয়ামী লীগ নয়, যে কোন দলের জন্য ‘ক্লিন ইমেজের প্রার্থী’ দেয়া জরুরী।
এবারের নির্বাচনে ‘ক্লিন ইমেজের প্রার্থী’ দেয়ার দাবী কতটা আছে? জবাবে ইসমাঈল সিআইপি বলছেন, “সময় এসেছে মানুষ এখন ভীষণভাবে পরিবর্তন চায় এবং তারা যোগ্য এবং পরিষ্কার ইমেজের প্রার্থী চায়।”
দুর্নীতির অভিযোগ নেই, পেশী শক্তির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেনি, ইয়াবা (মাদক) ব্যবসার সাথে জড়িত নয় এমনসব বিভিন্ন বিষয়ে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবার জন্যে দলের প্রধান জননেত্রী শেেখ হাসিনার প্রতি দাবি উঠেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল এটিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে? নিজের দল আওয়ামী লীগের অবস্থান সম্পর্কে মো. ইসমাঈল সিআইপি ধারণা দিতে পারেননি।

কিন্তু তিনি বলছিলেন, “দল এক্ষেত্রে ভুল করলে, দল অবশ্যই নির্বাচনে পরাজিত হবে। সুতরাং আমার মনে হয়, দল নিজের স্বার্থেই ক্লিন প্রার্থী বাছাই করার চেষ্টা করবে।”
অনেক ভোটার এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিষয়টি দলের কাছে এবং এলাকার মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ফেসবুকে রাজনৈতিক নিরক্ষর, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং নানা দুষ্কর্মে জড়িত বদনাম আছে এমন কেউ যেন মনোনয়ন না পায়, সে বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

একটি দায়িত্ব শীল সুত্রেে জানা গেছে, এবারের টেকনাফ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী বেশীর ভাগ চেয়ারম্যান প্রার্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার অথবা তাদের পরিবারের ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। তাই টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ‘ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থী দেবার দাবী বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.