বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে মায়ানমার সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর গুলিবর্ষণ

বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে মায়ানমার সীমান্ত বাহিনীর গুলিবর্ষণ শুরুবান্দরবান: বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে মায়ানমার সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ফাঁকা গুলিবর্ষণ শুরু করেছে। এসময় সীমান্তে আতংক ছড়িয়ে পড়ে, তবে বিজিবি চরম ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে সকালে মায়ানমার সীমান্তে বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়নের করে রোহিঙ্গাদের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশে সরে যেতে নির্দেশ দিলে রোহিঙ্গাদের সাথে বাক-বিতণ্ডা হয়।

বিস্তারিত আসছে…

মায়ানমার সীমান্তে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘মায়ানমারে সীমান্তে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করতে প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থায় প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই’ বলে হুশিয়ার করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার বান্দরবানের পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বিজিবি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৯১তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেন, বান্দরবান বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবদুল খালেক, বান্দরবান বোমাং সার্কেল রাজা উচপ্রু চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি খুবই দক্ষ এবং শক্তিশালী। সীমান্ত সুরক্ষায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শক্তি আরও বৃদ্ধি করা হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বর্ডার গার্ড বিজিবির সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মায়ানমার সীমান্তে অহেতুক ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে।

তিনি বলেন, মায়ানমারের দাবি, সীমান্তের জিরোলাইনে আশ্রয় রোহিঙ্গারা মায়ানমারের ফেরার চেষ্টা করছে খবর পেয়েই নিরাপত্তা বাড়িয়েছে মায়ানমার। কিন্তু আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কারণ আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা জিরোলাইনে মায়ানমারের অংশে রয়েছে। তারপরও নোম্যান্সল্যান্ডের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মায়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯১তম রিক্রুট ব্যাচের ৫৩৫ জন নবীন সৈনিকদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক প্রথম স্থান অর্জনকারী ও সর্ববিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন সৈনিকের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। কুচকাওয়াজের প্যারেড কমান্ডার ছিলেন রামু ৫০ বিজিবির মেজর কাজী মঞ্জুরুল ইসলাম এবং প্যারেড অ্যাডজুটেন্ট ছিলেন এডি মো. শাহাদাত হোসেন।

এদিকে বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের সাথে মায়ানমার সেনাদের বাক-বিতণ্ডা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমার সীমান্তে বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়নের করে রোহিঙ্গাদের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশে সরে যেতে নির্দেশ দিলে রোহিঙ্গাদের সাথে বাক-বিতণ্ডা হয়।

এসময় রোহিঙ্গারা মায়ানমার সেনাদের জানিয়ে দেয়, তারা মায়ানমারের নাগরিক। তারা আরো জানায়, নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে তারা কোনভাবেই বাংলাদেশে যাবে না। তারা মায়ানমারের নাগরিক, তাই তারা মায়ানমারে ফেরত যাবে। মায়ানমারে তাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানায় রোহিঙ্গারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.