খালাফ হত্যায় একজনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন বহাল

সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায়ে সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় দেন।

ফলে এ মামলায় হাইকোর্টের দেয়া রায় একজনের ফাঁসির আদেশ ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল থাকলো।

দু’দফা শুনানি নেওয়ার পর বুধবার (০১ নভেম্বর) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের চূড়ান্ত এ রায় দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আল আমিন পটুয়াখালীর হাজিখালী গ্রামের ফারুক ঘরামীর ছেলে, লালু শরিয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার গোয়ালকোয়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে এবং খোকন ময়মনসিংহ নগরের নাটকঘর বাইলেনের আব্দুস সালামের ছেলে। খালাসপ্রাপ্ত সেলিম ভোলার শশীভূষণ থানার উত্তর চরমঙ্গল গ্রামের সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরীর ছেলে।

২০ আগস্ট রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত ১০ অক্টোবর রায়ের দিন রেখেছিলেন। সেদিন আসামি সাইফুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। আদালত ১৭ অক্টোবর পুনরায় শুনানির দিন রাখেন। সেদিন আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৩১ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার শুনানি হয়। আজ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী (৪৫)। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর পুলিশ গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আর সাড়ে চার মাস পর সাইফুল ইসলাম মামুন, আল আমিন, আকবর আলী, মো. রফিকুল ইসলাম নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের পরিচয় দেয়া হয় ‘ছিনতাইকারী’ হিসাবে।

তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। সেখানে গ্রেপ্তার চারজনের সঙ্গে সেলিম চৌধুরী নামে পলাতক আরেকজনকে আসামি করা হয়। ৩১ অক্টোবর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.