বন্ডে ইনভেষ্টমেন্ট: ১ লাখ টাকায় ১৮ বছরে ১৬লাখ!

 

জীবনে অনেক বসন্তের কোকিলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে। আর্থিক সমস্যায় পড়লে কাউকে খুঁজে পাবেন না। সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক এর “WAGE EARNERS DEVELOPMENT BOND” এ বিনিয়োগ এর সুযোগ রেখে, সারাজীবন আপনার আর্থিক সমস্যার সমাধান দিয়ে যাচ্ছে। আপনি শুধু বন্ডে বিনিয়োগ করুণ। নিচের লিখাটি মন দিয়ে পড়ুন।

পরিকল্পনা করুন নিম্ন লিখিত ভাবে: আপনার একটি মেয়ে জন্ম হলে, তাকে নমিনি রেখে মাত্র এক লাখ টাকার বন্ড খরিদ করুন। মেয়ের বয়স ৫ বছর হলে বন্ড মূল ও লাভ এ টাকা ১,৭৯,০০০/= হয়ে যাবে। বার বার বন্ড এর টাকাটা মূল ও লাভ রি-ইনভেস্টমেন্ট করুন। ধরে নিতে পারেন প্রতি ছয় বছরে এই এক লাখ টাকার বন্ড।

আপনার মেয়ের যখন ৬ বছর বয়স হবে, তখন টাকা ২,০০,০০০/= (দুই লাখ টাকা) হয়ে যাবে, কেননা আপনি রি-ইনভেষ্ট করেছেন। অতএব মেয়ের বয়স যখন ১২ বছর হবে, তখন দুই লাখ টাকা হয়ে যাবে ৪,০০,০০০/= চার লাখ টাকা। ১২ বছর বয়সে ৪,০০,০০০ টাকা হয়ে যাবে ৮,০০,০০০/= (আট লাখ টাকা)। মেয়ের বিয়ের বয়স, ১৮ বছর বয়সে ৮,০০,০০০/= টাকা হয়ে গেছে ১৬,০০,০০০/= (ষোল লাখ টাকা)।

আপনি মেয়েকে নমিনি করে মাত্র ১,০০,০০০/= এক লাখ টাকা, তাকে গিফট দিয়েছিলেন, প্রথম জন্ম তারিখে। সরকার রি-ইনভেস্ট করার নিয়ম রেখেছে, আপনি ৫ বছর পর পর তাই করেছেন। মেয়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে পিতা-মাতা বিয়ের খরচ নিয়ে, যেখানে চারদিক অন্ধকার দেখে, সেখানে পরিকল্পনা করার কারণে আপনি চারদিকে শুধু আলো দেখেন।

কৃতজ্ঞ সরকারের প্রতি, সরকার এই বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে, রি-ইনভেস্ট করার সুযোগ রেখে, সজাগ প্রবাসীদেরকে আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকার, পরিবারের সদস্যদের বিয়ে, EDUCATION, সঠিক পরিকল্পনা করার সুযোগ করে দিয়ে, এক দিকে প্রবাসীদেরকে সহযোগীতা করেছেন, অন্যদিকে সরকারের এই বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক তথা বাংলাদেশের ৩৩ বিলিয়ন ডলার + রিজার্ভের একমাত্র উৎস বলে বিবেচিত।

বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে, আপনার মেয়ের বিয়ে যদি ২৪ বছর বয়সে হয়, তবে বিয়ের সময় মেয়ের হিসাবে জমা থাকবে ১৬,০০,০০০ X ২ = ৩২,০০,০০০/= (বত্রিশ লাখ টাকা)। পিতা- মাতার চিন্তার প্রশ্নই আসে না। যদি আপনি দুই লাখ মাত্র রাখতেন, হয়ে যেত ৬২ লাখ টাকা মেয়ের বা ছেলের ২৪ বছর বয়সে।

বন্ডে ইনভেস্টমেন্টটা খুব বড় নয়, অল্প আয়ের প্রবাসীরা বুঝলে করতে পারবে, সারাজীবন আর্থিকভাবে ভাল থাকবে। পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হবে না। রিজার্ভ ও ডবল হতে বেশী সময় লাগবে না। চলুন নিজের জন্য ও দেশের জন্য, প্রবাসীদের জন্য সরকারের দেওয়া এই সুযোগ কাজে লাগাই।

চল্লিশ বছর ভাল ভাবে প্রবাসে আয় করেছেন, এমন একজন পিতা, মেয়ের বিয়ের খরচ যোগার করতে, মানুষের নিকট সাহায্য চাইতে দেখে এই লিখাটা, লেখার ইচ্ছা হলো, সবাইকে সজাগ করার জন্য। যদি কারো ভাল লেগে যায়, বুঝতে পারে, গ্রহণ করে সরকারের এই বন্ড এ বিনিয়োগ সুবিধা, তবে অবশ্যই ভাল লাগবে।

লেখক: সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ বিজিনেস কাউন্সিল, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.