শিশু পুত্র সালেহ মো: আল ওয়াসি’র খুনি মুন্নি আক্তারের ফাঁসি চায় শশিুর পরিবার

চকরিয়া অফিস:
বিভিন্ন পত্রিকায় আমার শিশু পুত্র সালেহ মোহাম্মদ আল ওয়াসি হত্যাকান্ড নিয়ে সংবাদের একাংশে আমাকে জড়িয়ে কিছু মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদের ওই অংশের সাথে আমার কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনার একমাত্র আসামী আমার শিশু সন্তান হত্যাকারী মুন্নী আক্তারের আমার কোন ধরণের সম্পর্ক নাই। মূলত: আমার বিবাহের অনেক পূর্বে (প্রায় ১০ বছর আগে) আমার পরিবার বিয়ের জন্য কনে দেখতে গিয়েছিল। পরবর্তীতে আমার সাথে বিয়ে হয় চকরিয়া পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের হালকাকারা গ্রামের মো: কামাল উদ্দিনের কন্যা রুনা ইয়াছমিনের সাথে। কিন্তু খুনি মুন্নি আক্তারকে বিয়ের পাত্রী দেখের সেই সূত্র ধরেই দীর্ঘ ১০ বছর পর এসে পরিকল্পিতভাবে আমার শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এমনকি খুনি মুন্নি আক্তার হত্যাকান্ডের ১দিন পূর্বে আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রী রুনা ইয়াছমিনকে বলেন যে, আমি একটি বেসরকারী এনজিও সংস্থা থেকে এসেছি গর্ভবর্তী মহিলাদের চেকআপ করার জন্য। আমার স্ত্রী তাকে (মুন্নী আক্তার) কোন এনজিও থেকে এসেছো তার (এনজিও) নাম বল। সে বলেছে আমি নতুন এনজিওতে ঢুকেছি, আমি এনজিও’র নাম জানিনা। তখন আমার স্ত্রী সন্ধেহ হয়। এসময় আমার স্ত্রী স্থানীয় প্রতিবেশি আরো ২জন মহিলা ডেকে এনে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ওই সময়ও তার হাতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত থলে (ব্যাগ) ও সাদা রংগের ইউনিফর্ম ছিল। একইভাবে হত্যাকান্ডের দিন আমার শিশু পুত্র আল ওয়াসি সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় শিশুদের সাথে খেলা করার সময় একটি চিপ্স হাতে দিয়ে ওই সাদা ইউনিফর্ম (এপ্রো) ঝাপিয়ে শিশুপুত্র কোলে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় সুমি নামে এক মহিলা দেখতে পান। নিখোজ হওয়ার ২০মিনিট পর শিশু পুত্রকে খোজাখুজি করলে সুমি নামে ওই মেয়ে বলেন যে, পৌরসভার বাটাখালী গ্রামের খলিলুর রহমান ওরফে হইল্যার মেয়ে মুন্নি আক্তার সাদা এপ্রো (ইউনিফর্ম) মোড়িয়ে শিশুটিকে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয়দেরকে বলেন। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাসহ স্থানীয়রা এর সূত্র ধরে খুনি মুন্নি আক্তারকে রাত ৮টার পর গ্রেফতার করা হলেও শিশুটিকে অক্ষত উদ্ধার করা হয়নি। পরবর্তীতে পরদিন সকাল ১০টার দিকে মাতামুহুরী নদীতে শিশুর মৃত দেহটি পাওয়া গেলে থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশু আল ওয়াসিকে হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। এরপর তাকে (খুনি মুন্নি আক্তার) পুলিশ আদালতে নিয়ে গেলে বিজ্ঞ আদালতে সে নিজ হাতে শিশুটিকে খুন করে সন্ধ্যায় মাতামুহুরী নদীতে ফেলে দিয়েছে মর্মে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। উল্লেখিত মুন্নি আক্তার একজন চরিত্রহীন। ইতিপূর্বে তার আরো ২বার বিবাহও হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদের একাংশে আমাকে জড়িয়ে তার সাথে পরকিয়া সম্পর্ক রয়েছে মর্মে যে মিথ্যাচার করা হয়েছে আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে আমার নিস্পাপ শিশু পুত্র সালেহ মোহাম্মদ আল ওয়াসি (বয়স ২বছর ৩মাস) হত্যাকারী খুনি মুন্নি আক্তারের দৃষ্টান্ত সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবী করছি। অন্যথায় আমাদের পরিবারে সারাজীবন এর চরম ভোগান্তি ও শিশু পুত্র হত্যাকান্ডের নির্মম পরিসমাপ্তি ঘটবেনা। আমাদের পরিবারে আজীবন সন্তান হারানোর যন্ত্রণা থেকে যাবে। এর শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে এই নরপশু পাষন্ড খুনি মুন্নি আক্তারের চরিত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক এ প্রত্যাশা রহিল। পরিশেষে আমাদের পরিবারের জন্য যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছেন, বিশেষ করে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, পৌরসভা, সাংবাদিক মহল, আত্মীয়স্বজন ও প্রিয় চকরিয়াবাসীর কাছে আমার পরিবার চির কৃতজ্ঞ থাকবে। সকলের কাছে আমার মরহুম শিশু সন্তান শহীদ সালেহ মোহাম্মদ আল ওয়াসি’র জন্য দোয়া কামনা করছি। বিবৃতি দিয়েছেন মো: সাহাব উদ্দিন (শিশু শহীদ সালেহ মোহাম্মদ আল ওয়াসি’র পিতা), সবুজবাগ আবাসিক এলাকা, ৪নং ওয়ার্ড, চকরিয়া পৌরসভা,কক্সবাজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.