চকরিয়ার বদরখালীতে বিয়ের প্রলোভনে যুবতীকে ৯মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ সমিতির ডাইরেক্টর শহিদের বিরুদ্ধে

চকরিয়া অফিস:
এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সমবায় প্রতিষ্ঠান চকরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির ডাইরেক্টর ৩সন্তানের জনক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে এবং সমিতির শালিসী বৈঠকে জমি-জমার বিচার পাইয়ে দেওয়ার অজুহাতে এক ছাত্রীকে বিগত ৯মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন ভূক্তভোগী। ঘটনাটি সর্বত্রে জানাজানি হওয়ার পর বর্তমানে লোকচক্ষুকে ফাঁকি দিতে গাঢাকা দিয়েছে ধর্ষণকারী ডাইরেক্টর শহিদ। এনিয়ে এলাকায় সর্বত্রে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার যুবতীকে বিয়ে না নাকরলে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে জানাগেছে।
অভিযোগে জানায়, বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতিতে ইউনিয়নের সাতডালিয়া পাড়া গ্রামের মৃত হাছান আলীর এক এতিম যুবতী মেয়ে গত ১ বছর পূর্বে মৃত বাবার সম্পত্তি বিরোধ মিমাংসার জন্য একটি আবেদন করেন। এরই ফাঁকে সমিতির প্রাঙ্গনে যুবতীর সাথে পরিচয় হয় সমিতির ডাইরেক্টর শহিদুল ইসলাম ও ডাইরেক্টর আহমদ উল্লাহ মেম্বারের সাথে। এ সময় আহমদ উল্লাহ মেম্বার সুষ্ঠু বিচারের আশ^াস দিয়ে যুবতীর আবেদনটি ডাইরেক্টর শহিদুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। এ সুযোগে পরবর্তীতে সমিতির ডাইরেক্টর শহিদুল ইসলাম নিজেকে অবিবাহিতা দাবী করে যুবতীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে উভয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এমনকি কক্সবাজার হোটেলে নিয়ে কয়েকবার অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। এভাবে চলা অবস্থায় ৬ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়ে যুবতী। কিন্তু বিয়ে করে ঘরে তোলার জন্য লম্পট শহিদুল ইসলামকে চাপ সৃষ্টি করলে নানাভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে যুবতীর আহমদ উল্লাহ্ মেম্বারের মাধ্যমে চকরিয়া সদরের একটি ক্লিনিকে গিয়ে ৬মাসের গর্ভের সন্তান কৌশলে নষ্ট করে ফেলে। এতে কিছুদিন অতিবাহিত হলেও বিয়ে করে ঘরে না তোলার কালক্ষেপন করা অবস্থায় ওই যুবতী ফের ৩ মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। ওই বিষয়টি আত্মীয় স্বজনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে কোন উপায় না পেয়ে তার মাকে সাথে নিয়ে সম্প্রতি বদরখালী বাজারে প্রকাশ্যে সমিতির ডাইরেক্টর লম্পট শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চান সম্ভ্রম হারানো যুবতী। এক পর্যায়ে বাজারে জনসম্মূখে শহিদকে টানা-হেঁছড়া করে গাড়িতে তোলার চেষ্ঠা করলে উপস্থিত লোকজন সুষ্ঠু বিচারের আশ^াস দিয়ে লম্পট শহিদকে ছেড়ে দেন। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর লম্পট শহিদ তার বাসা ছেড়ে স্ব-পরিবারে চকরিয়ার চিরিংগা সদরের সুবজবাগ এলাকায় গিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। সংসার জীবনে শহিদ বিবাহিত ও ৩সন্তানের জনক।
দীর্ঘ ৯মাস ধরে ধর্ষণের শিকার যুবতী কান্না জড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আহমদ উল্লাহ মেম্বার নামের একজন বয়স্ক লোকের কথায় সরলতার বিশ্বাসে লম্পট শহিদুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। যে সমিতিতে বিচার চাইতে গিয়ে আমি সম্ভ্রম হারিয়েছি, ওই সমিতিতে গিয়েই আমি আত্মহনন করে আহমদ উল্লাহ মেম্বার ও শহিদুল ইসলামের প্রতারণার কথা বদরখালীসহ সমগ্রদেশবাসীকে জানিয়ে দেব। এদিকে লম্পট শহিদুল ইসলাম থেকে বক্তব্য নেয়ার জন্য তার ব্যবহৃত ০১৮১৩-৩৭১৯৫০ নাম্বারে এবং তার দুইটি বাসায় গিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ নুরুল আলম সিকদার বলেন, সমিতির যেই হোক না কেন পাপের প্রাচিত্তের বিচার অবশ্যই হবে। তবে উল্লেখিত শহিদুল ইসলামের কোন সন্ধান না হওয়ায় তাকে এই মুহুর্তে বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছেনা।
বদরখালী পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (এসআই) মং থোয়াইং বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি আমি মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে কেউ এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হবে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.