সোমবার নতুন মন্ত্রী সভার শপথ

সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত দলীয় সদস্যদরে সাথে শপথ গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। তাঁদেরকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ৩ জানুয়ারি ২০১৯। [ফোকাস বাংলা]

সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত দলীয় সদস্যদরে সাথে শপথ গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। তাঁদেরকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ৩ জানুয়ারি ২০১৯। [ফোকাস বাংলা]
[ফোকাস বাংলা]

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে পরবর্তী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সোমবার তাঁর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।

এ বিষয়ে বঙ্গভবন সকল প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে বেনারকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন।

প্রেস সচিব বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের দলনেতা হিসাবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তাঁকে পরবর্তী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের প্রস্তুতি চলছে। আগামী সোমবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।”

রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার আগে বৃহস্পতিবার দলীয় সংসদ-সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শপথ নেওয়ার পর দলের সংসদ-সদস্যরা সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচিত করেন বলে বেনারকে জানান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান।

বৃহস্পতিবার ২৯৮ জন নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে ২৮৮ জন শপথ গ্রহণ করেছেন বলে বেনারকে জানান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর মধ্যে ২৫৪ আওয়ামী লীগ এবং ২১ জন জাতীয় পার্টির সদস্য।

তবে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সাত জন শপথ নেননি বলে জানান স্পিকার।

শপথে ঐক্যফ্রন্টের না

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সদস্যদের শপথ গ্রহণ চলাকালে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির সকল প্রার্থীদের নিয়ে এক জরুরি সভা করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঐক্যফ্রন্টের সদস্যরা শপথ নিচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “শপথ তো পার হয়ে গেছে, প্রত্যাখ্যান করলে শপথ থাকে নাকি আর?… আমরা শপথ নিচ্ছি না, পরিষ্কার করে বললাম।”

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ-সদস্য যদি সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করেন সে ক্ষেত্রে তাঁর সংসদ-সদস্যপদ বাতিল হবে।

আবার শপথ গ্রহণ না করা সংসদ-সদস্য স্পিকারের কাছে সময় চেয়ে পরে শপথ নিতে করতে পারেন। শপথ গ্রহণ না করায় সংসদীয় আসন শূন্য হলে ওই আসনগুলোতে উপনির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন।

নতুন নির্বাচনের দাবি

বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সাথে দেখা করে একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল।

এই প্রতিনিধিদলের প্রধান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশন মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বলেন, “ইতিমধ্যে এ নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। ফলাফল বাতিল করে আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করেছি।”

“একেবারে তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে যে অনিয়মগুলো হয়েছে এবং জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা করা হয়েছে, সেটাও আমরা নিয়ে এসেছি,” বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কিছু জানানো হয়নি। তবে গত ৩১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা পুনঃ নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ফাইল ফটো। [ফোকাস বাংলা]
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ফাইল ফটো। [ফোকাস বাংলা]

শপথ নেওয়া হলো না সৈয়দ আশরাফেরবৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অসুস্থতার কারণে বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বাংলাদেশের মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়।

সৈয়দ আশরাফ ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সৈয়দ আশরাফ পরিচিত ছিলেন।

পুরোপুরি বিরোধী দল হবে না জাতীয় পার্টি

নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে জয়ী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বেনারকে জানান, তাঁদের দল একসাথে সরকার এবং বিরোধীদলে থাকতে চায় বলে বৃহস্পতিবার দলটির সংসদীয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে

তিনি বলেন, “আমাদের এমপিরা জানিয়েছেন গত সংসদের মতো আমরা মন্ত্রিসভা ও বিরোধীদল দুই স্থানেই থাকব।”

চুন্নু বলেন, “আমাদের মধ্যে যারা মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাবেন না তাঁরা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। এভাবেই আমরা গত পাঁচ বছর সরকারে থেকেও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছি।”

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত মহাজোট প্রধান শেখ হাসিনাকে জানাব। তিনি যা করবেন আমরা তাই মেনে নেব।”

জাতীয় পার্টির সদস্যদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিলে দশম সংসদের মতো একাদশ সংসদেও কার্যত কোনো বিরোধী দল থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

“সরকারের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সংসদে কার্যকর বিরোধী দল হিসাবে ভূমিকা রাখা কঠিন,” বেনারকে বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দীন আহমেদ।

তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টির আসন সংখ্যা বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের চেয়ে বেশি। এখন জাতীয় পার্টির উচিৎ প্রকৃত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করে আমাদের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন আনয়ন করা।”

ড. নিজাম বলেন, “ক্ষমতায় থেকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন সম্ভব নয়।”

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমও সাংবাদিকদের বলেছেন, “জাতীয় পার্টির উচিৎ সংসদে একটি কার্যকর বিরোধী দল হিসাবে কাজ করা। তাদের মন্ত্রিসভায় আসা ঠিক হবে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.