বিপদগামী হচ্ছে যুব ও ছাত্র সমাজ;  চকরিয়ায় জুয়ার আসর  ফের রমরমা

বিএম হাবিব উল্লাহ,চকরিয়া
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা জুড়ে অসংখ্য স্থানে আবারো জুয়াড়ীদের দৌরাত্ম বেড়ে গিয়ে দেদারচ্ছেই চলছে জুয়াড়ীদের রমরমা আসর। ফলে বিপদগামী হচ্ছে উঠতি বয়সি যুব ও ছাত্র সমাজ। শংকিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবক মহল। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল জরুরী ভিত্তিতে পুলিশী অভিযানসহ জুয়াড়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছেন।
গেল ক‘দিন আগেই চকরিয়া উপজেলার শাহারবিল মাইজঘোনা গ্রামের মাতামুহুরী নদী লাগোয়া এলাকায় জনতার ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাপ দিয়ে মহিউদ্দিন নামের এক জুয়াড়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ কারনেই পুলিশের ভয়ে অনেক নিরীহ লোক সে সময়ে বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী ওই স্থানে প্রতিদিনই বসে জুয়ার আসর। যা এলাকায় চরম আতংক কাটতে না কাটতেই ফের এসব জুয়ার আসর দেদারছেই চলছে। এদিকে স্থানীয়রা পুনরায় জুয়াড়ীদের দৌরাত্মে যে কোন মুহুর্তে আবারো অপ্রিতিকর ঘটনার শংকা প্রকাশ করে জরুরী ভিত্তিতেই জুয়াড়ীদের বেশ কিছু স্থান চিহিৃত করে অভিযান চালাতে চকরিয়া থানার ওসির আশু নজরদারী ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে করে বলেন, উল্লেখিত মাইজঘোনা গ্রাম ছাড়াও চকরিয়া উপজেলার শাহারবিল ইউনিয়নের পুর্ব শাহারবিল মরহুম শাহা আলম মাষ্টারের বাড়ীর সামনে মনপুরা মার্কেটের পেছনে রাতদিন ২৪ ঘন্টাই চলে পেশাদার বেশ কিছু জুয়াড়ীদের তত্বাবধানে নিয়মিত জুয়ার আসর। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক বেশ ক‘জন স্থানীয় অভিভাবক প্রতিবেদককে বলেন, জৈনক আনোয়ার নামের ব্যাক্তির নেতৃত্বে এ স্থানে চলে নিয়মিত জুয়ার আসর। প্রতিবাদ করার সাহস কেউই পায়না। কারন এ লোক নিজেকে দলের লোক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়েই এ স্থানে জুয়ার আসর পরিচালনা করে। স্থানীয়দের সুত্র ধরে মোবাইল ফোনে চেষ্ঠা করেও আনোয়ার নামের এ লোকের বক্তব্য নেয়া হয়ে উঠেনি। তবে সে শাহারবিল এলাকারই বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সুত্র মতে, ঘাইট্যারচর এলাকা, সওদাগরঘোনা রাবার ড্যাম ও বাগগুজারা রাবার ড্যাম এলাকা, কসাইপাড়া, বাস টার্মিনাল এলাকা, মাতামুহুরী ব্রীজের নীচে, বাটাখালী ব্রীজের নীচে, জলদাশ পাড়া চর এলাকা সহ পুর্ব শাহারবিল মনপুরা মার্কেট এলাকা সহ আরো অনেক স্থানে প্রতিনিয়ত জুয়ার আসর বসে বলে বিভিন্ন সুত্র প্রতিবেদককে জানিয়েছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে সরজমিন প্রতিবেদক মনপুরা মার্কেটে গিয়ে দেখা মিলে দোকানের পেছনে এবং আঙ্গিনায়ও দিন দুপুরে ১০/১২ জনের পৃথক দুটি দলবদ্ধ লোকজন হাতে তাস নিয়ে খেলায় মত্ত রয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্ব স্ব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও তথ্যনির্ভর খবরের ভিত্তিতে অবশ্য জুয়াড়ীদের আস্তানায় অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, রীতিমত মাদক কিংবা জুয়ার বিরুদ্ধে থানা প্রশাসন সব সময়ই স্বোচ্ছার থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.