কক্সবাজার শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরীতে ভূল রিপোর্ট : বিপন্ন মন্ত্রী পরিষদ সচিবের মা

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন

কক্সবাজার শহরের সেভরণ ডায়গানস্টিক সেন্টারে স্থাপিত শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরীতে ভুঁয়া টেস্ট রিপোর্ট তৈরি, যন্ত্রপাতির মান খারাপ সহ রোগীদের টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে জাল জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। এবার শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী ভুল রির্পোটের শিকার হলেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলমের মা শহীদ জননী আলমাছ খাতুন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আলমাছ খাতুনের রক্ত ও  ইউরিন টেস্ট করতে দিয়ে ভূল রিপোর্টেরশিকার হন এই অশীতিপর বৃদ্ধা।

শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী কর্তৃপক্ষ তাহার চিকিৎসা পত্রে ভুল রির্পোট দিয়ে চরম অবেহেলা করেছে বলে এমন অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।
প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগি ও তাদের স্বজনদের নানা প্রতারণার শিকার হতে হয় বলে জানান ভোক্তভোগীরা।

গত বছরের ১১ নভেম্বর (২০১৭) কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কে হয়রানীর কেন্দ্রবিন্দু বেসরকারি ক্লিনিক সেভরণ হাসপাতাল ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-৭। সেভরণ ডায়গানস্টিক সেন্টারে স্থাপিত শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরীতে ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট তৈরি, যন্ত্রপাতির মান খারাপ সহ রোগীদের টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে জাল জালিয়াতি করার প্রমান পাওয়ায় সেই সময় ৪ লাখ টাকা নগদ জরিমানাও করেছিল র‌্যার।

জানাযায়,বৃদ্ধা আলমাছ খাতুন দীর্ঘ এক মাস ধরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ৩০ নভেম্বর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার ফাহিম রোগীর রক্ত ও ইউরিন পরীক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা পত্রে লিখে দেন। জেলা সদর হাসপাতালে ওই পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষার জন্য যান রোগীর স্বজনরা। সেখানে ওইদিন রোগির রক্ত নিতে পারলেও ইউরিন দিতে পারেনি। পরবর্তীতে ইউরিন নেওয়ার কথা থাকলেও শেভরণ ল্যাবরেটরীতে রোগীর ইউরিন সংগ্রহ না করে রক্তের পরীক্ষা পত্রের সাথে ইউরিনের পরীক্ষার রির্পোটসহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অতপর ভুল রিপোর্টটি রোগীর স্বজনসহ হাসপতালের দায়িত্বরত সেবিকা ও চিকিৎসকের নজরে আসেন। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে হৈচৈ পড়ে যান।

এব্যাপারে শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরীর ম্যানেজার সজিব শর্মার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি, ভুল রির্পোটের কথা স্বীকারও করেন। একই সাথে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পুচুনুও শেভরণের ভুল রির্পোটের বিষয়টিতে অবগত আছেন বলে জানান।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শেভরণ কর্তৃপক্ষ এমন অবেহেলা করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসংগত, গত বছরের ১১ নভেম্বও (২০১৭) কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কে হয়রানীর কেন্দ্রবিন্দু বেসরকারি ক্লিনিক সেভরণ হাসপাতাল ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-৭।
ওই অভিযানে সেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল ও সি-সাইড হাসপাতালকে সাড়ে ৭ লাখ নগদ টাকা জরিমানা করা হয়। সেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চলে যতসব বেআইনি কারবার। ল্যাবে চলে অবৈধ টেস্ট করে সাধারণ রোগীদের হয়রানি। যারা টেস্ট করেন সেই সব রিপোর্টে নেই কোন চিকিৎসকের স্বাক্ষর। কারণে অকারণে টেস্ট দিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় হাসপাতাল নামের কসাইখানা। সেভরণ ডায়গানস্টিক সেন্টারে স্থাপিত শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরীতে ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট তৈরি, যন্ত্রপাতির মান খারাপ সহ রোগীদের টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে জাল জালিয়াতি করে আসছে।

বিশেষ করে  সেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্থাপিত শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী ও ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের  বিরুদ্ধে রয়েছে সব চেয়ে বেশি অভিযোগ। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাবের অভিযানে ভোক্তা অধিকার আইনে সেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪ লাখ নগদ টাকা, বেসরকারি ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালকে ৩ লাখ নগদ টাকা ও সি-সাইড হাসপাতালকে ৫০ হাজার জরিমানা করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.