চকরিয়ায় পৃথক ৫টি গণসংবর্ধনায় জাফর আলম শেখ হাসিনার হাতে হারানো আসন উপহার দেওয়া হবে

আবদুল মজিদ,চকরিয়া:
কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনে সব কল্পনা-জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রাপ্তিতে চকরিয়া-পেকুয়ার সর্বস্থরের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজমান। ২৫ নভেম্বর সকাল দশটার সময় আওয়ামীলীগের ধানমন্ডী দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি জাফর আলমের হাতে তুলে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।এদিকে জাফর আলম মনোনয়ন পাওয়ার খবর চকরিয়া-পেকুয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলী, যুবলীগ, স্বেচ্চাসেবকলী, শ্রমিকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ, চকরিয়া পৌরসভা, চিরিঙ্গা শহর ও পেকুয়ায় তার সর্মথকদের মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে।
২৬ নভেম্বর জাফর আলম চকরিয়ায় আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন গুলো। তাকে বরণ করতে দুপুর ২টা হতে রাত ৮টা পযর্ন্ত চকরিয়া উপজেলার প্রবেশদার হারবাং ইনানী রিসোর্ট , লক্ষ্যারচরের জিদ্দাবাজার, চকরিয়া পৌরসভাস্থ কাজী মার্কেট চত্তর, ডুলাহাজারা বাজার ও সীমান্ত এরিয়া খুটাখালী বাজারসহ মোট পাঁচটি পথসভাস্থল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও শুভাকাংঙ্কি জাফর আলমকে করণ করেন।একইভাবে প্রস্থুত পেকুয়া ও সাংগঠনিক মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগও বরণ করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা ভোটে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ। তবে ওইসময় আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাফর আলম। কিন্তু জাতীয় রাজনীতির নানা সমীকরণে আসনটি জাপা প্রার্থী ইলিয়াছকে ছেড়ে দেন মহাজোট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন জাফর আলমও। এতে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বয়কট করার কারণে মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হন। ওইসময় থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও রাজনীতির মাঠের হাল ছাড়েননি জাফর আলম। চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলাবাসীর সবসময় সুখে দু:খে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নিবার্চিত হয়ে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে ব্যাপক অবদান রাখেন। দলের যে কোন কর্মসূচী পালনেও অসামান্য ভূমিকা পালন করেন জাফর আলম। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরেও আসেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব জরিপ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার জরিপে উঠে আসে জাফল আলমের নাম। এরপর থেকে শেখ হাসিনার গুডলিস্টে অন্তর্ভূক্ত হন তিনি। ইতোমধ্যে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে ভোট যুদ্ধে লড়াই করতে ২৫জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। শেষ পর্যন্ত মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেলেন জাফর আলম। গতকাল দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি জাফর আলমের হাতে তুলে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
পথসভায় আলহাজ্ব জাফর আলম বলেন,দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এই আসনে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে নৌকার বিজয় সু-নিশ্চিত করবো।নেতার্কমীদের আশা পূরণ হয়েছে। ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে চকরিয়া-পেকুয়ার হারানো আসনটি উদ্ধার করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেব ইনশাআল্লাহ।জনগনের পাশে অতীতেও ছিলাম আছি থাকব।তিনি আরো বলেন,আমাকে জয়যুক্ত করে জননেত্রী শেখ হাসিনা উপহার দিতে পারলে চকরিয়ায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আশ্বস্থ করেছেন।
উপরোক্ত পথসভায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামিলীগের সদস্য আমিনুরশিদ দুলাল,চকরিয়া উপজেলা আওয়ামিলীগের সাঃসম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরি, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম,মাতামহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামিলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর বুলবুল,সাঃ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামিলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরি, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামিলীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী,পেকুয়া উপজেলা আওয়ামিলীগের যুসাঃসম্পাদক আবুল কাশেম,কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও চকরিয়া পৌর আওয়ামিলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু,সাঃ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরি, সহসভাপতি ওয়ালিদ মিলটন, যুগ্ন সম্পাদক ফেরদোস ওয়াহিদ,ডুলহাজারা ইউনিয় আওয়ামিলীগের সভাপতি জামাল হোসেন চৌধুরি, যুগ্ন সাঃ সম্পাদক মনছুর আলম,প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত আলী,চকরিয়া পৌর কাউন্সিলর জিয়াবুল হক,রেজাউল করিম,আওয়ামিলীগনেতা লায়ন আলমগীর চৌধুরি, উপজেলা স্বেচ্ছসেবকলীগ সভাপতি শওকত ওসমান,উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি জামাল উদ্দিন,হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম,সাঃ সম্পাদক মেহরাজ উদ্দিন মিরাজ,খুটাখালী ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাহাদুর আলম,সাঃ সম্পাদক বেলাল আজাদ,লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম,সাঃ সম্পাদক খ.ম.আওরঙ্গজেব বুলেট,বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সহ-সভাপতি কফিল উদ্দিন, চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ,সাঃ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির,পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর হোসেন,সহ-সভাপতি ও সমাজসেবক খলিলুল্লাহ চৌধুরি, সাঃ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেল,।লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সাইকুল ইসলামসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.