কুতুবদিয়ায় ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে মেম্বারের নোটিশ সর্বত্র তোলপাড়

‘আহ্বানে’ সাড়া না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকি শ্রমিক লীগ নেতার

কুতুবদিয়া প্রতিনিধিঃ অপরাধ কর্মকান্ড ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসলে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মো. নুরুল ইসলাম। এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ তিনি কুতুবদিয়ার পাড়া-মহল্লাসহ সর্বত্র প্রচার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছাড়াও নুরুল ইসলাম লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য। শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে সব পরিবারের ছেলেরা ডাকাতি ও রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপে জড়িত তারা যদি ২৪/২৫ নভেম্বর ২০১৮ এর মধ্যে র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করে আত্মসর্মণ না করে তাহলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গ্রেফতারপূর্বক ক্রসফায়ার দেয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পাড়া, মহল্লায়, সমাজে ও এলাকার যদি কেউ ডাকাতি ও রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপে জড়িত থাকে, তাহলে আত্মসমর্পণের জন্য তারা যেন তার (নুরুল ইসলাম) সাথে যোগাযোগ করে। যদি আত্মসমর্পণ করে তাহলে তাদের সরকার কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ও পুনর্বাসন করা হবে।

এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক লীগ সভাপতি মো. নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কুতুবদিয়া্ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন,  বিষয়টি সবেমাত্র শুনেছি।  এই ধরণের নোটিশ জারি করার এখতিয়ার তার নেই।  তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
নুরুল ইসলামের এমন কর্মকান্ডে চরম বিব্রত শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীরা। কুতুবদিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম সিকদার রাসেল বলেন, ‘শুনেছি তিনি (নুরুল ইসলাম) নাকি সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পন করার জন্য আহ্বান জানিয়ে নোটিশ জারি করেছে। ব্যক্তিগতভাবে এটা করার এখতিয়ার তার নেই। কিভাবে এই ধরণের একটি নোটিশ দিয়েছে, সেটা বোধগম্য নয়। এটা নিয়ে আমরা বিব্রত।’

তিনি আরও বলেন, ‘নোটিশের বিষয়টি শোনার পর তার সাথে একবার যোগাযোগ হয়েছে। কিন্তু কোন সদুত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দেন তিনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আনচারী বলেন, নুরুল ইসলাম শ্রমিক লীগের সভাপতি ছাড়াও স্থানীয় লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার। তার এলাকা সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য এটা করে থাকতে পারে। কিন্তু এভাবে নোটিশ দেওয়ার অধিকার তার নেই। দল থেকেও এই ধরণের কোন নির্দেশনা নেই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.