পেকুয়ায় সরকারী তদন্তে ভূঁয়া ঠিকানার প্রমাণ মিললেও ‘এফডব্লিউএ’ পদে সরকারী চাকুরী পাচ্ছে সেই প্রার্থী!

পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় তিন সদস্য বিশিষ্ট সরকারী তদন্ত কমিটির সরেজমিন তদন্তে চাকুরী প্রার্থীর ঠিকানা ভূঁয়া প্রমাণিত হলেও উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউ) পদে সরকারী চাকুরী পাচ্ছে সেই বিতর্কিত প্রার্থী! এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতিকে দায়ী করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। চাকুরীর আবেদনে প্রার্থীর দেওয়া ঠিকানা ভূঁয়া বলে প্রমাণিত হওয়ার পরও ‘রহস্যজনকভাবে’ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সেই ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থীকেই নিয়োগ দিচ্ছে! এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ জানা যায়, কক্সবাজার পরিবার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক জারীকৃত বিজ্ঞপ্তির স্মারক নং ও তারিখ:জেপপ/কক্স/১৭/৪৮৫ তাং ১৭/০৭/২০১৭ ইংরেজী এর আলোকে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ পেকুয়া উপজেলা মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটের শুন্য পদের বিপরীতে পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউ) পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়েছিল। শুণ্য পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের গ্রামগুলো হচ্ছে ধারিয়াখালী, বাইন্যা ঘোনা, বাজার পাড়া, শরৎঘোনা, করলিয়া পাড়া, মৌলভী পাড়া, বহদ্দার পাড়া, ঘাট মাঝির পাড়া, পুরাতন বহদ্দার পাড়া। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্য কেউ উক্ত পদে আবেদন করতে পারবেনা বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অভিযোগ উঠেছে, মগনামার ১/খ ইউনিটের অধীন গ্রামগুলোর বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও সাইদুন্নেসা রুমি স্বামী সালেহ আহমদ সাং মাঝির পাড়া, মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের ‘ভূঁয়া নাগরিক সনদপত্র’ দাখিল করে আবেদন করে গত ২৫/০৭/২০১৮ইংরেজী তারিখ প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে সে উত্তীর্ণ হয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্টিত হওয়া গত ১৮/০৮/২০১৮ইংরেজী তারিখ ভাইভা পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছিল। সে তার আসল ঠিকানা গোপন করে ঘাট মাঝির পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেঁজে আবেদন করেছিল বলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে এসছে।

জানা গেছে, গত ০৮/১১/২০১৮ইংরেজী তারিখ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে পরিচালক (প্রশাসন) রমজান আলীর স্বাক্ষরিত ফলাফলে ওই ভূঁয়া ঠিকানা প্রার্থী চুড়ান্তভাবে উর্ত্তীণ হয়ে এখন নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে! সাইদুন্নেসা রুমির স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে মগনামা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড়ের মাঝির পাড়া গ্রামে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল ঘাট মাঝির পাড়া। দুইটি গ্রামের নামের মিল থাকায় ওই সুচতুর প্রার্থী ইউনিয়ন পরিষদের জাল নাগরিকত্ব সনদ তৈরী করে আসল ঠিকানা গোপন করে অন্য ঠিকানায় এফডব্লিউ পদে আবেদন করেছিল। ফলে ওই ওয়ার্ড়ও প্রকৃত ঠিকানার আবেদনকারীরা সরকারী চাকুরী থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এদিকে ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চুড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ায় সাইদুন্নেসা রুমি, রোল নং ১৭৩৮০২০৪ এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যা ঘোনা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং পেকুয়া উপকূলীয় প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন গত ১৬/০৮/২০১৮ইংরেজী তারিখ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপ-পরিচালক বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেয়ে উপ পরিচালক কক্সবাজার সদও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছেরাজ আহমদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক ছেরাজ আহমদ তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও পেকুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জসীমমুদ্দিন মো: ইউসুফ, তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্র অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত করে গত ২৩/০৯/২০১৮ইংরেজী তারিখে উপপ/সদর/২০১৮/২৮৬ নং স্মারকমূলে উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, কক্সবাজার মহোদয়ের বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তারা লিখিতভাবে উল্লেখ করেন সাইদুন্নেসা রুমি মাঝির পাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা যাহা ৩ নং ওয়ার্ড়ের অন্তভূক্ত। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে (ধারিয়াখালী, বাইন্যা ঘোনা, বাজার পাড়া, শরৎঘোনা, করলিয়া পাড়া, মৌলভী পাড়া, বহদ্দার পাড়া,ঘাট-মাঝির পাড়া, পুরাতন বহদ্দার পাড়া) উল্লেখিত গ্রামসমূহ ১ ও ২ নং ওয়ার্ড়ের অন্তভূক্ত। ঘাট মাঝির পাড়া ও মাঝির পাড়া দুটো আলাদা গ্রাম ও দুটো গ্রামের মাঝে দুরত্ব রয়েছে। মধ্যখানে হাইওয়ে সড়ক রয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড় সদস্যেও যৌথ স্বাক্ষরে প্রত্যয়নপত্রে (সংযুক্ত) তাহা উল্লেখ আছে। সাবির্ক তদন্ত ও বিশ্øেষনে পেকুয়া উপজেলাধীন মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে পরিবার কল্যাণ সহকারী নিয়োগ প্রত্যাশী সাইদুন্নেসা রুমি, রোল নং ১৭৩৮০২০৪ এর বিরুদ্ধে সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে তথা তিনি বিজ্ঞাপিত এলাকার বাসিন্দা নহেন।

প্রাপ্ত অভিযোগে আরো জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে পরিবার কল্যাণ সহকারী (মহিলা) পদে চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাইদুন্নেসা রুমি, স্বামীর নাম: সালেহ আহমদ, গ্রাম: মাঝির পাড়া, ইউনিয়ন: মগনামা, উপজেলা: পেকুয়া, জেলা: কক্সবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা। তার ভোটার নম্বর ২২০৫৭৬০০০০৪৪। কিন্তু তার ওয়ার্ড় ও গ্রামের ঠিকানা গোপন করে মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে শুণ্য পদেন বিপরীতে পরিবার কল্যাণ সহকারী (মহিলা) পদে উত্তীর্ণ হওয়ার পর মগনামার ইউপি চেয়রম্যান কার্যালয়ের ৫১৩/১৮ ইং স্মারকমূলে সাইদুন্নেসা রুমি ঘাট মাঝির পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নহে মর্মে লিখিতভাবে জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.