জাপার মন্ত্রীদের সরিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ রওশনের

 

 

 

 

কক্সটিভি ডেস্কঃ বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ জাতীয সংসদে বলেছেন, তার দল জাতীয় পার্টি পরিচয় সংকটে ভুগছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, হয় মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের সরিয়ে দিতে, নয় সবাইকে মন্ত্রী করে নিতে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন বলেন, ‘জাতীয় পার্টি আসলে সরকারি দলে নাকি বিরোধী দলে- কেউ এমন প্রশ্ন রাখলে এর সদুত্তর দিতে পারি না। ফলে জাপা তার প্রাপ্য সম্মানের জায়গায় নেই।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকারে থাকা জাপার মন্ত্রীদের কারণে আমরা বিরোধী দলের ভূমিকায় কাজ করতে পারছি না।’ তাদের অপসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রওশন বলেন, ‘সরকারে থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের সরিয়ে দিন। সরকারে থাকা বিরোধী দলের মন্ত্রীদের বাদ দিলে জাপা বেঁচে যেত। হয় কয়েকজন মন্ত্রীকে সরিয়ে নিন, নইলে সবাইকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে নিন।’ এ সময় স্পিকারসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সাংসদদের সবাইকে হাসতে দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভায় জাপার তিনজন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে একজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী। দলটির এই ভূমিকা নিয়ে বিপুল সমালোচনা আছে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন মহলে। দলটির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একাধিকবার বলেছেন, তারা পরিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করার জন্য মন্ত্রিসভা থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে আনবেন। কিন্তু তা আর করেননি তিনি।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা খাদ্যে ভেজাল, পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, শিক্ষার্থীদের বিপদগামী হওয়াসহ দেশের নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে নিজের উদ্বিগ্নের কথা জানান সংসদে।।

রওশন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দিন-রাত যথেচ্ছভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। লেখাপড়া হচ্ছে না, শুধুই প্রশ্নপত্র ফাঁস। মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।’

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায়ও বলে দেন বিরোধীদলীয় নেতা। বলেন, ‘একটি বয়সসীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত, যেখানে সুনির্দিষ্ট বছর পর্যন্ত কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে না।’

নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের ক্ষেত্রে অনিরাপদ খাদ্যকেও দায়ী করেন সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। বলেন, ‘বিষাক্ত খাবার খেয়ে আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ গড়তে হলে সোনার ছেলে তৈরি করতে হবে। নইলে হবে না।’

দেশের মাথাপিছু আয়ের যে হিসাব সরকারের পক্ষ থেকে দেখানো হচ্ছে সে বিষয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। বলেন, ‘দেশে পাঁচ কোটি মানুষের কোনো কাজ নেই। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে দুই লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাহলে দেশের মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধি কীভাবে বাড়ছে তা বোধগম্য নয়।’

দেশে কাঙ্খিত বিনিয়োগ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করে বিনিযোগের সহজ সুযোগ সৃষ্টি করতে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে তিনি। একই সাথে দেশের কর্মসংস্থান বাড়াতে সচ্ছল ব্যক্তিদের বেশি করে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান জাপা নেতা।

পরে সংসদ নেতার বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতার গঠনমূলক সমালোচনার প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর আগের বিরোধী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে পার্লামেন্টে অশালীনভাবে কথা হতো। তখন কোনো গঠনমূলক আলোচনা হতো না। কিন্তু বর্তমান বিরোধী দলের নেতা (রওশান এরশাদ) সরকারকে নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.