শরীক দলের ৩ প্রার্থীসহ ১৯জন চকরিয়া-পেকুয়া আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিলেন ১৬ জন

আবদুল মজিদ,চকরিয়া
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসীল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি’র ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ রয়েছে আগামী ২৩ ডিসেম্বর। এ উপলক্ষে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ঢাকার ধানমন্ডীস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় হতে সারাদেশ থেকে আসা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন পত্র ফি: জমা দিয়ে দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, জাতীয় সংসদের আসন নং ২৯৪, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে গতকাল রবিবার (১১ নভেম্বর) পর্যন্ত আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৬জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা হলেন; কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম বিএ(অনার্স)এমএ, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, সহসভাপতি এডভোকেট আমজাদ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ মিথুন, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য উম্মে কুলছুম মিনু, জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবকল্যাণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সজিব, মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল, যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট ফয়াসাল উদ্দিন সিদ্দিকী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম, চকরিয়া পৌরসভা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি এম খলিল উল্লাহ চৌধুরী।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ৩য়দিন পর্যন্ত ১৬জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও দলীয় মনোনয়ন বোর্ড যাকেই নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে নৌকার বিজয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করে কাজ করবেন। বিশেষ করে তিনি এলাকায় রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে যিনি সরকার বিরোধী পক্ষকে দমন করেছেন তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য নেত্রীর প্রতি আহবান জানান।
অপরদিকে মহাজোট থেকে এই আসনটি চায় শরীকদল জাতীয় পার্টি (এরশাদ) বর্তমান সাংসদ হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ, জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি ও জেলা চেয়ারম্যান এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ এবং ওয়ার্ককাস পার্টি হাজী আবু মো: বশিরুল আলম।
এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচনের মোড় অন্যদিকে ঘুরে গেছে। বিগত ২০১৪ সনের নির্বাচনে বিএনপি জোট নির্বাচনে না আসায় চকরিয়া-পেকুয়ার এই আসন থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় এমপি নির্বাচিত হন মহাজোটের অন্যতম শরীকদল জাতীয় পার্টির আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ। ইতিপূর্বে বিগত ৩টি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন আওয়ামীলীগের সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি। ওই সময়ে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার স্ত্রী এডভোকেট হাসিনা আহমদ।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানায়, চকরিয়া উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়নের ৯৯টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে এক লাখ ৪৮ হাজার ৮০৫ জন পুরুষ ও এক লাখ ৩৫ হাজার ৬০৬ জন নারী মিলিয়ে ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৪১১ জন। পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৪০ ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৫৫ হাজার ৬২০ জন পুরুষ ও ৫০ হাজার ৬৫০ নারীসহ ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬ হাজার ২৭০ জন। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ৯০ হাজার ৬৮১জন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.