কক্সবাজারের ইসলামপুরে বনকর্মীদের উপর হামলায় আহত-২

সেলিম উদ্দীন,কক্সবাজার।

কক্সবাজার সদরের ইসলামপুরে দুই বনকর্মীর উপর হামলা চালিয়েছে বনদস্যূরা।আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ।ঘটনা জড়িত কেউ আটক হয়নি।১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোর ৬ টায় এ ঘটনাটি ঘটে বর্ণিত ইউনিয়নের পূর্ব নাপিত খালী বিএফডি বাগানে। আহতরা হল নাপিতখালী বিট কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এফজি গাওহারুল জান্নাত (২৮) ও এফজি জসিম উদ্দীন (৪০)।
নাপিটখালী বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান,ঘটনার সময় ২০০১ সালের বিএফডি বাগান এলাকায় গাছ কাটার শব্দ শুনে তাদের নিয়মিত টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এসময় তাদের আটকের চেষ্টা করলে উত্তর নাপিত খালী এলাকার মৃত খুইল্লা মিয়ার ছেলে শীর্ষ বনদস্যু নুরুর নেতৃত্বে দক্ষিণ নাপিত খালীর মৃত মনুর আলমের ছেলে মনজুর আলম,উত্তর নাপিত খালী এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে শাহ আলম, শাহাব উদ্দীনের ছেলে আবদুল হাফেজ, নুরুল হুদার ছেলে আবদুল মতলবসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন দুর্বৃত্ত বনকর্মীদের উপর হামলা চালায়।তাদের শোর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
খবর পেয়ে ফুলছড়ি রেঞ্জ ও বিট অফিসের স্টাফরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ঈদগাঁওস্থ বেসরকারি একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে এফজি গাওহারুলের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হামলার জেরে বন বিভাগের জমির উপর নির্মান করা দুর্বৃত্তদের কয়েকটি বসত ঘর উচ্ছেদ করে দেন বনকর্মীরা।
ফুল রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া তাদের নামে বিভিন্ন আদালত এবং থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে উল্লেখিত নুরু,শাহ আলমের নেতৃত্বে কয়েক বছর ধরে সরকারী বনজ সম্পদ ধবংস,টাকার বিনিময়ে প্লট দখল করে দেওয়া,মাদার ট্রি পাচার, রিজার্জ জমি দখলসহ হরেক রকম অপরাধ করে আসছে।তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নির্ভয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরু তার নিজ এলাকা খুটাখালীতে বিভিন্ন চুরি, ছিনতাই, বন ধবংস
মুলক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় কয়েকবছর আগে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল এলাকার লোকজন। রাতারাতি ইসলামপুরে বসত বাড়ী ও পাহাড়ে আস্তানা গড়ে তুলে পুরনো পেশায় জড়িয়ে পড়ে।তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে রয়েছে আরেক বনদস্যু শাহ আলম।
সচেতন এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন,এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.