মহেশখালীতে আটক ৮ নেতাকর্মী কারাগারে: পৃথক ২টি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও পুলিশের কাজে বাঁধার ঘটনায়

মহেশখালী প্রতিনিধিঃ
মহেশখালীতে বিএনপির বৈঠক থেকে আটক ৮ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়েরকৃত নাশকতা ও পুলিশ এ সল্ট মামলার আসামীদের আদালতে মাধ্যমে ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন মহেশখালী থানা পুলিশ। এঘটনায় কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ বোখারিকে প্রধান আসামী করে আটক ৮ নেতাকর্মীসহ ৬৫ জনের বিরুদ্ধে ও অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি ও পুলিশের কাজে বাঁধাদানের ঘটনায় আলাদা দুইটি মামলা দায়ের করেছেন মহেশখালী থানার এস.আই মাহমদুল হক। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে উক্ত মামলা ২টি রেকর্ড হয়। অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবী, পৌর সদরের গোরকঘাটা লামার বাজারস্থ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিকের নিজস্ব অফিসের সামনে আটককৃত নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিং করা কালীন পুলিশ বিনা উস্কানিতে শান্তিপূর্ণ মিটিং নেতাকর্মীদের ব্যাপক লাঠিচার্জ করে ধরপাকড় করে। তারা বিনা দোষে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবী করেন। জানাগেছে, মহেশখালীতে বিএনপির নেতা কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা নেওয়ার সময় পুলিশ অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহেশখালী পৌর সদরে পুলিশের এ অভিযান চালানোর সময় পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। আহত হয়েছে ৮ পুলিশ সদস্য। গ্রেফতার করা হয়েছে কক্সবাজার জেলা বিএনপি সহ -সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ বোখারীসহ ৮ জনকে। পুলিশ জানায়, মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুবক্কর ছিদ্দিক স¤প্রতি ভারত সফর করেন। সেখানে তিনি সে দেশের আদালতে বিচারাধীন মামলার আসামি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী আলহাজ¦ সালাহ উদ্দিন আহমদের সাথে দেখা করে ঘটনার দিন মহেশখালী জেটিঘাটে পৌঁছলে শত শত বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে সেখান থেকে আবু বক্কর ছিদ্দিকের নেতৃতে¦ একটি স্বাগাতিক মিছিল হয় উপজেলা সদরে। পরে তারা পৌর শহরের লামার বাজার এলাকায় গিয়ে আবু বক্করের অফিসে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তারা নানা নাশকতার পরিকল্পনা নিচ্ছিল বলে পুলিশের কাছে খবর আসে। এমন খবর পেয়ে মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় বৈঠককারীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে পুলিশের আরও দুইটি ইউনিট অভিযানে যোগ দেন। এসময় পুলিশ তাদের চত্রভঙ্গ করতে ব্যপক লাঠিচার্জ ও অন্ততঃ ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ৮ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ বোখারী, মাতারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস্তেফাজুল হক, মহেশখালী উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মাষ্টার কবির আহমদ, ধলঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিন্নত আলী, শাপলাপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমান, কালারমারছড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বদর উদ্দীন সাদেক, মাতাবাড়ি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হাসান মুরাদ ও ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল করিম। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আহতরা হলেন, মহেশখালী থানার এস.আই রাজু আহমদ গাজী, এএসআই জুয়েল, জায়েদ আজিজ, রাম ধন ও কুসুম বড়ুয়াসহ আরও ৫ কনস্টবল। তাদেরকে মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির ৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার হওয়ায় মহেশখালী উপজেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে পুলিশের চলতি অভিযান কোন দিকে মোড় নিচ্ছে তা দূর থেকে মনিটরিং করতেছে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিশাল একটি অংশ।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ মহেশখালী প্রতিদিনকে বলেন,পুলিশের কাছে তথ্যছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা অরজকতা সৃষ্টি করতে নাশকতা পরিকল্পনা নিচ্ছিল। তাই মহেশখালীতে আইনশৃংখলা পরিস্থিনি অনুকুলে রাখতে পুলিশ অভিযান চালালে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর চড়া হয়ে হামলা করে। এসময় বিএনপির ৮ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.