বিএনপি আন্দোলনের কথা বলে ১০ বছরে ২০টি ঈদেও আন্দোলন করতে পারেনি – চকরিয়ার জনসভায় -ওবায়দুল কাদের

এ,কে, এম রিদওয়ানুল করিমঃ আওয়ামীলীগ নেতারা একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে বিষোধগার করবেন না
বিএনপি-জামায়াত আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে ২০০১ সালের মতো ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসবে
২০০১সালে বিএনপি জোটের আমলে রক্তের বন্যা বয়েছিল। আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মীদের ঘরে থাকতে দেয়নি। গরু-ছাগল পর্যন্ত লুট হয়েছে। এমনকি ৫ বছরে ১০টি ঈদের নামাজ পড়তে পারেনি। মারা যাওয়ার মা-বাবার জানাজাও পড়তে পারেনি। জানাজা পড়তে এসে গ্রেফতার হতে হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে ২০০১ সালের মতো ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্ধী নয়, আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ। তাই আওয়ামীলীগ নেতারা একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে বিষোধগার করবেন না। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাসটার্মিনালে ২৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিকাল ২টায় চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন,‘বিএনপি এখন নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। ফখরুল সাহেবরা ঝিমিয়ে গেছে। বিএনপি নেতারা কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ঝিমায়, সংবাদ সম্মেলনে গেলে ঝিমায়। ু
ওবায়দুল কাদের বলেন,‘কোনো প্রকার কোন্দলে জড়ালে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না। জনপ্রিয়তা যার তাকেই আগামীতে মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ। আর যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন নেতাকর্মীরা তার পক্ষে এক সঙ্গে কাজ করবে।’ নমিনিশন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের আমলনামা নেত্রী হাতে পৌছে গেছে। জনমত জরিপে যিনি এগিয়ে আছেন তিনি মনোনয়ন পাবেন। মন্ত্রী বলেন,‘বিএনপি জামায়াত আওয়ামী লীগের মতো এমন জনসভা করতে পারবে না। কারণ তাদের সে জনপ্রিয়তা নেই। তাই একাদশ নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়ায় নৌকার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা। যার প্রমাণ চট্টগ্রাম থেকে চকরিয়ার পথে পথে মানুষের ঢল। বিএনপি এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপি নেতারা জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।’ আমি বলবো, বি.চৌধুরী, ড. কামাল, মান্না, মঈনুল ও ফখরুলরা যুক্তফ্রন্ট নামে ২০/৩০দল করে চেষ্টা করে দেখুন ঢাকায় চকরিয়ার মতো একটি সমাবেশ করে পারেন কিনা। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি চকরিয়ার চার ভাগের এক ভাগ লোকও ঢাকাতে হবেনা।
নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মহিলাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে শেখ হাসিনা। এই সম্মান কি আগে পেয়েছেন? বাচ্চার জন্মের পর রেজিস্ট্রেশনে মায়ের পরিচয় ছিলোনা। শেখ হাসিনা বল্লেন মা ১০ মাস কষ্ট করে সন্তান জন্ম দেয়। এ মায়ের নাম বাচ্চার পরিচয়ে থাকবেনা এটা হবে না। এ স্বীকৃতির মাধ্যমে সম্মান করেছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আমি আশা করবো আপানারাও সে সম্মানের মর্যাদা আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে দিবেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তিরে বিএনপির দূর্গে যে মানুষের উপস্থিতি হয়েছে। চকরিয়াতেও বিএনপির দূর্গ ভেঙ্গে গেছে। সাংবাদিকদের সমালোচনা করে বলেন, ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়া ঠিক থাকলেও কিছু কিছু প্রিন্ট মিডিয়া যে ভাবে জাতীয় ঐক্যের গঠন নিয়ে সংবাদ ছাপিয়েছে। অথচ ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহাসড়কে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। সেসব সংবাদ ছাপা হয়নি। ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের হাতে ১৪ কোটি মোবাইল। ৮ কোটি মানুষের হাতে ইন্টারনেট। কে দিয়েছে এসব? বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাই দিয়েছে। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফখরুল সাহেব চোখের পানি ফেলে বললেন, নেতাকর্মীদের নির্যাতনের কথা। কিন্তু আপনি ২০০১সালের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতনের কথা স্মরণ করুন। আর আপনাদের সেই আন্দোলনও দেশে হবেনা। আগামী ঈদের আন্দোলন বলতে বলতে ১০বছরে ২০টি ঈদ চলে গেলো, কই কোনো আন্দোলনইতো হয়নি। ভবিষ্যতে সেই আশাও আর করতে হবে। মন্ত্রী সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটে জনসভার মঞ্চে পৌছান এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ২০ মিনিটের বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম বি.এ (অনার্স) এম.এ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, বেগম জিয়া ও তার দোষররা এতিমের টাকা লুট করেছেন। আদালতে বিচারের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। এখন তারা জনসমর্থন হারিয়ে বিদেশী প্রভুদের কাছে নালিশ করছে। তারা এখন জাতীয় ঐক্যনামে জনবিতাড়িতরা যুক্তফ্রন্ট তৈরী করছে। তাদের জন্য সোহারোয়ার্দ্দী উদ্যান দিয়েছিল প্রশাসন, কিন্তু তাদের সেই শক্তি-সামর্থ না থাকায় জাতীয় নাট্যমঞ্চে সভা করেছে। আমাদের কাকা বি.চৌধুরী সরকারকে হুংকার দিয়ে বলছেন, এখন ক্ষমতা ছাড়। কাকা মনে রাখবেন, এই বিএনপি আপনাকে গলায় ধাক্কা দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের করে দিয়েছিল, ভবিষ্যতে কি করে আল্লাহ রাব্বুল আলমিন যানে। সেই অপেক্ষাও আমাদের করতে হবে। বি.চৌধুরী,কামাল,মান্নার মতো এই সমস্ত জনবিচ্ছিন্ন লোকদের দিয়ে জাতীয় কি আশা করতে পারে।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, উখিয়া টেকনাফ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান বদি, মহেশখালী কুতুবদিয়ার সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাবেক সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এডভোকেট আমজাদ হোসেন, সহসভাপতি রেজাউল করিম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক খালেদ মো: মিথুন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রনজিত দাশ, ইউনুছ বাঙ্গালী, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আমিনুর রশিদ দুলাল, চকরিয়া পৌরসভা চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, আওয়ামীলীগ নেতা সরওয়ার আলম, মোক্তার আহমদ চৌধুরী, অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন, এম আর চৌধুরী, মাতামুহুরী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এসএম জাহাংগীর আলম বুলবুল, সহ-সভাপতি মকছুদুল হক ছুট্টো, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আনসারী, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কাসেম, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোক্তার আহমদ চৌধুরী, কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আরঙ্গজেব মাতবর, চকরিয়া উপেজলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি
ফজলুল করিম সাঈদী,এমআর চৌধুরী, ছৈয়দ আলম কমিশনার, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহনেওয়াজ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, শওকত ওসমান চেয়ারম্যান, চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন, কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম, চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন মানিক, চকরিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশিরুল আইয়ুব, পৌরসভা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফেরদৌস ওয়াহিদ, সহসভাপতি তনপন কান্তি দাশ, সেলিম উদ্দিন, কাউন্সিলর রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান লিটন,, চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, চকরিয়া পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর হোছাইন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হায়দার আলী, সাবেক সভাপতি শেফায়েতুল কবির বাপ্পী, উপজেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক ও জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, চকরিয়া পৌরসভা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ধুলু, চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: মারুফ, সাধারণ সম্পাদক আরহান মো:রুবেল, পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.