চকরিয়ায় ফের কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় টমটমের ৪ যাত্রী নিহত

কক্স টিভি ডেস্ক॥
গত মঙ্গলবার সকালে চকরিয়ার বরইতলীতে বাসে ধাক্কায় নিহত হয় লেগুনার ৭ জন যাত্রী। এর ২৪ ঘন্টা পার না হতেই ফের উপজেলার হারবাংয়ে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় প্রান গেল টমটমের ৪ যাত্রীর। গতকাল বুধবার সকাল ১১ টায় হারবাং ইনানী রিসোর্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পরে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন চকরিয়া উপজেলার হারবাং মুসলিমপাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. তাজউদ্দিন (২২), হারবাং জমিদার পাড়ার ছৈয়দ আহমদের ছেলে আবু তাহের (৫০) পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের আবদুল খালেকের ছেলে ইউনিছ মিয়া (৩৫), ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রেমবাজার এলাকার সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪৩)।
আহতরা হলেন চকরিয়ার হারবাং গয়ালমারা এলাকার দলিলুর রহমানের
ছেলে জালাল উদ্দিন (৪৮), আবুল হোছাইনের ছেলে নূর হোছাইন (৪২), চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রেমবাজারের সেলিম উদ্দিনের শিশু কন্যা তাছফি (৮) ও অজ্ঞাত এক মহিলা (২৮)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সুত্রে জানা যায়, একটি টমটম ৯জন যাত্রী নিয়ে বরইতলী রাস্তার মাথা থেকে হারবাং যাচ্ছিল। কিন্তু ইনানী রিসোর্ট এলাকায় কক্সবাজারগামী কাভার্ড ভ্যান টমটমটিকে চাপা দেয়। এতে দুই যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যায়। সাত যাত্রী সবাই আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এসময় হাসপাতালে আরো দুইজন মারা যায়। গুরুতর আহত ৫জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
তিন চাকার যানের কারণে দুর্ঘটান ঘটছে অভিযোগ উঠায় গতকাল বুধবার চকরিয়ার মাতামুহুরীর ব্রীজ পয়েন্টে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনা (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মো.ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত বসানো হয়। এসময় বৈধ কাগজপত্র বিহীন যানবাহনের পাশাপাশি মহাসড়কের চলাচল নিষিদ্ধ তিন চাকার গাড়ি জব্দ ও জরিমানা আদায় করেন।
চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত চৌধুরী বলেন, আশংকাজনক আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) নুরে আলম পলাশ বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত কাভার্ড ভ্যান ও টমটম জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্ব-স্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) খোন্দকার মো.ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত বলেন, নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন করতে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান।
ইউএনও বলেন সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য উপজেলা সরকারী কমিশনার (ভুমি) খোন্দকার মো.ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতকে প্রধান করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে পুলিশের একজন, হাইওয়ে পুলিশের একজন, সাংবাদিক প্রতিনিধি ২জন, ফায়ার সার্ভিসের ১জন, নিসচার সভাপতি, দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুইজন গণ্যমাণ্য ব্যাক্তি তদন্ত কমিটিতের থাকবেন। নেয়ার পথে মা হাসিনা মারা গেলেও তার শিশু কন্যা তাছফিকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.