মোজাম্মেল হক চৌধুরী ষড়যন্ত্রের শিকার :সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা

ঢাকা ঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার ঃ
যাত্রী স্বার্থ বিরোধী সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস করতে মালিক-শ্রমিকদের কায়েমীস্বার্থের শিকার হয়েছে দেশের যাত্রী আন্দোলনের প্রবক্তা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব যাত্রীবন্ধু মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
আজ সোমবার নগরীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সামসুদ্দীন চৌধুরী এই তথ্য জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে যাত্রী কল্যাণ সমিতি অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে সততার সাথে যাত্রী অধিকার আন্দোলনকে চাঙ্গা করেছেন। সকল মহল এ আন্দোলনকে নৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন। সড়ক নিরাপত্তায় সরকার যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কাজ করে। আমাদের সংগঠনের উদ্দেশ্য কাউকে দায়ি করানা, যাত্রী সাধারণের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ দেখিয়ে দেওয়া। দেশের ১৬ কোটি যাত্রীকে যারা জিম্মি করেছেন তারা গুটিকতক। এই অপশক্তি কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে ভুল বুঝিয়ে নিজেদের অপকর্ম, সড়কে নৈরাজ্য চালানোর জন্য মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে নানা ভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এই হুমকি-ধমকি তাঁকে যাত্রী অধিকার আন্দোলন থেকে বিরত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির আজকের তারিখে পূর্বের নিধারিত কর্মসূচি ‘কার স্বার্থে সড়ক আইন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল যাত্রীবন্ধু মোজাম্মেল হক চৌধুরী। কিন্তু কায়েমীস্বার্থে একটি গোষ্টীর প্রতিহিংসার শিকারে আজ তিনি কারাগারে। একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। দোষ তার একটাই তিনি সড়কে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ করেন, সোচ্চার থাকেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি একটি নিবন্ধিত সংগঠন দাবী করে তিনি বলেন এই সংগঠন যাত্রীর অধিকার, যাত্রী সচেতনতা, নিয়ে কাজ করে। সংগঠনটি ইতিমধ্যে যাত্রী অধিকার আদায়ে একমাত্র সংগঠন হিসেবে গণমাধ্যমের সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখছে। প্রতিদিন রাস্তায় মৃত্যুর মিছিল অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। কয়েকদিন আগে বুলগেরিয়ায় ১৭ জন যাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে সে দেশের ৩ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। অথচ এদেশে শত শত লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, কোন জবাবদিহিতা নেই। মোজাম্মেল হক চৌধুরী সড়কে মানুষ হত্যার বিচার চায়। সড়কে অবৈধ গাড়ী, অবৈধ চালক, অবৈধ কর্মকান্ডের অবসান চায়। প্রতিনিয়ত যাত্রী হয়রানি, যাত্রী হত্যা, ভাড়া নৈরাজ্যের অবসান চায়। এটাই তাঁর অপরাধ। বর্তমান অবস্থা এমন পর্যায়ে এসেছে, বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা এর নিশ্চয়তাই নেই, এর একমাত্র কারণ সড়কে নৈরাজ্য।
গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞাজানিয়ে তিনি বলেন, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া এই মিথ্যা মামলার সত্য উদ্ঘাটন করে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। সত্য বের হয়ে এসেছে। প্রমাণ হয়েছে সাংবাদিক সমাজ সত্যের পথে। সাংবাদিকের কলম আপোষহীন। এজন্য গণমাধ্যমকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
দেশের জন্য মানুষের জন্য কাজ করা ব্যক্তিকে যদি এভাবে হয়রানি করা হয়, নির্যাতন করা হয়, মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় তাহলে আমরা কার কাছে যাবো। কি জঘন্য নোংরামি করা হয়েছে তা সাংবাদ মাধ্যমে উদ্ঘাটন হয়েছেন। দুঃখের বিষয় বাদী যখন বলে, ‘আমি জানি না। আমাকে দিয়ে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। আমি মোজাম্মেল সাহেবকে কোনদিন দেখিনি। কোন চাঁদাবাজি তিনি করেননি। আমি চাঁদা দেইনি।’ সেই ক্ষেত্রে আমরা মনে করেছিলাম তিনি মামলা থেকে খালাস পেয়ে যাবেন। ন্যায় বিচারের স্বার্থে যারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় চক্রান্তকারীদের জয় হল। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর একটি বাণী প্রযোজ্য “গুলি খাই আমরা, দোষ হয় আমাদের”। আমরা মনে করি, সরকারের শেষ সময়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি মহল এধরণের জঘন্য দেশবিরোধী ও গণবিরোধী কর্মকান্ড করছে। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য দিনরাত কাজ করছেন সেসময়ে অধিকারকর্মীদের হেনস্তা করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কার স্বার্থে। ন্যায়বিচারের প্রতীক, সমৃদ্ধির প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের আকুল আবেদন নিরীহ সমাজদরদী মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করে যারা এধরণের ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এড. সুলতানা কামাল, মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সহধর্মিনী রিজু আক্তার চৌধুরী, গনসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি খায়রুল আমিন, যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দীন আহেমদ, নির্বাহী সদস্য আমান উল্যাহ মাহফুজ, ঢাকা মহানগর যাত্রী কল্যাণ সমিতির সদস্য মনিরুজ্জামান, মোঃ ফারুক সহ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.