ছুটি শেষ তবুও সৈকতে পর্যটকের ভীড়

শাহেদুল ইসলাম মনির॥
শনিবার শেষ হয়েছে ঈদুল আযহার ছুটি। টানা ৫ দিনের ছুটি শেষে সবাই ফিরছে কর্মস্থালে। এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারে পর্যটনে। তারপরও রোববার ও সোমবার সমুদ্র নগরী কক্সবাজারে এখনো পর্যটকের ভীড় রয়েছে চোখে পড়ার মত।
এ বিষয়ে কক্সবাজার হোটেল মোটেল ও রেস্তোরা মালিক সমিতির মুখপাত্র মো. কলিম উল্লাহ বলেন, গতকাল কক্সবাজার পাঁচ শতাধিক হোটেল মোটেল, কটেজ, ফ্লাটের ৫০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। সার্বসাকূল্যে সমুদ্র নগরীতে এখনো প্রায় ৬০ হাজার পর্যটক অবস্থাান করছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান কোম্পানি নাগু বলেন, ঈদের দিন থেকে কক্সবাজারের আবহাওয়া দারুন উপভোগ্য। প্রতিদিন ভোরের দিকে ৫/ ১০ মিনিটের বৃষ্টি। এরপর রৌদ্রজ্বল দিন। গরম টা স্বাভাবিক। আবহাওয়া এমন থাকলেও ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসার টার্গেট পূরণ হবে।
এদিকে গতকাল বিকিলে কলাতলী সমুদ্র সৈকতে গিয়ে দেখা যায় , হাজার হাজার মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে সমুদ্র সৈকতে। শিশুরা ঘোড়ায় চড়ছে, কিশোর, যুবকও যুবতীরা জেট স্কীতে চড়ে সাগরের ঢেউ ভাঙ্গছে। কেউ বা ক্ষিপ্তগতিতে চালাচ্ছে বীচ বাইক। কেউ ব্যস্ত ফটোসেশনে, কেউ বা সেলফি তুলতে। কেউ সাগরে সাতর কাটছে, কারো :২য় পৃষ্ঠায় কলাম -১
সৈকতে পর্যটকের ভীড়
কন্ঠে গান, কেউ প্রিয়জনের হাতে রেখে হাত হাটছে হাটু পানিতে, কেউবা বালুর চরে দাড়িয়ে নিচ্ছে ফুচকার স্বাদ, কারো হাতে রং বেরংয়ের বেলুন, কেউ বা উড়াচ্ছে ঘুড়ি।
কলাতলী পয়েন্টে দেখা মিলে সদ্য বিবাহিত এক দম্পত্তির। কথা প্রসঙ্গে মাহফুজ দম্পত্তি জানান, বিয়ে করেছেন মাস খানেক আগে। কিন্তু দুজনেরই অফিসের ছুটি না মেলায় মধু চন্দ্রিমায় যাওয়া হয়নি। ঈদের ছুটিকে দুটো দিন বাড়িয়ে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় বের হন।
তাঁরা আরো জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দুইদিন কক্সবাজার, দুইদিন রাঙ্গামাটি ও বাকি সময় চট্টগ্রাম থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কক্সবাজারের রুপ ও সৌন্দর্যদেখে তাদের সিডিউলে পরিবর্তণ আনা হয়। ছুটির সবকটাদিন তারা কক্সবাজারেই কাটাবে ।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু সমুদ্র সৈকত নয়, শহরের বার্মিজ মার্কেট, শুটিকী পল্লী, দরিয়া নগর, বৌদ্ধমন্দির, হিমছড়ি ও ইনানী, টেকনাফের মাথিনের কূপ, মহেশখালির আদিনাথ মন্দির, চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, রামুর র‌্যাংকোট মন্দির, ১০০ ফুট শয্যা বৌদ্ধ মূর্তি, রামুর চা ও রাবার বাগান, নাইক্ষ্যংছড়ির লেকও পর্যটকের পদভারে মুখরিত।
শহরের বাজারঘাটায় শুটকি কিনতে আসা যশোরের মমতাজ আহমেদ বলেন, কক্সব্জাারে বেড়াতে আসছি জানতে পেরে স্বজনরা অনেক বায়না দিয়েছেন। তাই তাদের বায়না পূরণ করতে বার্মিজ আচার, জুতা, লুঙ্গি, ফতোয়া ও রাখাইন নারীদের বিশেষ পোষাক কেনার পাশাপাশি শামুক ঝিনুকের মালা, চিরুণী, গলার হার, কানের দুল ও ঝারবাতি সহ অনেক কিছুই কিনেছি। এছাড়া পরিবারের জন্য লইট্টা ওছুরি শুটকি কিনতে এখানে এসেছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বলেন, কক্সবাজার ভয়ংকর সুন্দর। তবে কক্সবাজারে শুদ্ধ ভাষায় কথা বললেই পন্যের দাম, রিকশা ভাড়া, অটো ভাড়া, রুমভাড়া ও খাবার সহ সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। এমনকি পান সিগারেটের দামও বেড়ে যায়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম ) আশরাফুল আশ্রাফ বলেন, ২ টি ভ্রাম্যমান আদালত ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মীর নজরদারীর কারণে এবার বড় ধরণের কোন দূর্ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকদের কেউ হয়রানি করার সাহসও পায়নি। যেদিন পর্যটক থাকবে ততদিন শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাা এমনই থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.