প্রসঙ্গ চকরিয়া প্রেসক্লাব ভাঙ্গা-গড়ার ইতিহাস কতো কথা-কতো ব্যথা জবাব দেবো কাকে..?

প্রসঙ্গ চকরিয়া প্রেসক্লাব ভাঙ্গা-গড়ার ইতিহাস
কতো কথা-কতো ব্যথা
জবাব দেবো কাকে..?

সংলাপ-১: ১৫আগস্ট রাত ১২টায় মোবাইলের রিংটোন বাজলো, ঘুম থেকে উঠে ফোন রিসিভ করলাম। বললাম তুমি কে? প্রতি উত্তরে সে বললো; আজ ফেসবুকে একটি নির্বাচনের খবর দেখলাম। তা সত্যি নাকি? তখন আমি জানতে চাইলাম তোমার পরিচয় বলো। সে প্রতি উত্তরে আমাকে বললো, আমিও একজন সাংবাদিক। তবে ছোট্ট চাঁদাবাজ। ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পড়ে জানতে পারলাম বড় চাঁদাবাজরা নাকি এখন থেকে আমাদের প্রতিহত করবে। আমি তাকে বললাম তুমি তাদেরকে পানের দোকানের সামনে সাক্ষাত পেলে কদম বুচি করিও। তাহলে হলুদ খামে তোমার নামে দেয়া চাঁদার অংকটাও তাদের ন্যায় বেড়ে যাবে। স্যার… ওরাও ওই খাম নেয়? আমি তাকে বললাম দোকানদার থেকে জিজ্ঞাস করিও…।

সংলাপ-২: স্যার হোটেলে বসে রুটি-হালুয়া ভাগ করে খাওয়া যায়। বানরের পিঠা ভাগ করে নেওয়ার মতো পদ-পদবি কি ভাগ করে নেয়া যায়? যেমন খুলে দৃষ্টান্ত দিয়ে ওই কমিটি নিয়ে বললো, সভাপতি ২ভাগ, সহ-সভাপতি ৪ভাগ ও ভাঙ্গার বাপকে রাখা হয়েছে ১৫নম্বরে।

সংলাপ-৩: স্যার আপনার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা জীবনে চকরিয়ায় কয়টি প্রেসক্লাব দেখেছেন? বর্তমানে কয়টি প্রেসক্লাব বিদ্যমান রয়েছে। উত্তর প্রবীণ সাংবাদিক বললো, আজ যারা বড় সাংবাদিক হিসেবে নিজকে মনে করে, তারা আমার সাংবাদিকতা জীবনের শিশুকালে তাদের অনেকেরই জন্ম হয়নি। তবে যে কজন ওই সময়ের সাংবাদিক ছিল তাদের মধ্যে অনেকেই সাংবাদিকতা করেনা। দু’একজন জুনিয়র সহকর্মী আছে, তারাও জানে চকরিয়া প্রেসক্লাবের ভাঙ্গা-গড়ার ইতিহাসের কথা। ৮০ থেকে ৮২ সাল পর্যন্ত প্রথম গঠিত চকরিয়া প্রেসক্লাবটির অবস্থান ছিল তৎসময়ের চিরিঙ্গা বহুমুখি সমবায় সমিতির পুরানো অফিস ভবনে। এরপর সাংবাদিকদের মধ্যে কলহ-বিবাদ ব্যাপক আকার ধারণ করায় প্রেসক্লাবটি স্থানান্তরিত হয় আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সে ৩য় তলায়। তৎসময়ের দায়িত্বশীলরা অফিসের মাসিক ভাড়া বকেয়া রাখায় সেখান থেকে প্রেসক্লাবটির অশ্রুকান্না সবার নজরে এসে পুনরায় স্থানান্তরিত হয় চিরিঙ্গা বহুমুখি সমবায় সমিতির ৩য় তলায়। এগুলোর শেষ খবর কি? তা সবিস্তরে জানার জন্য আনোয়ার শপিংয়ের মালিক আনোয়ার ও সমবায় মার্কেটের কর্মচারী আলম ভাইয়ের কাছ থেকে এর সত্যতা জানা যাবে। এরপর সম্মিলিতভাবে রূপালী শপিং কমপ্লেক্সের ৩য় তলায় প্রেসক্লাবের কার্যালয়টি স্ব-গৌরবে চলে আসছে। ওই ক্লাবে পরপর ইতিহাস সৃষ্টিকারী স্বচ্ছ ব্যালট ও স্বচ্ছ ব্যালট বক্স নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দুটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়। যা চকরিয়ার ইতিহাসে অতীতে কোন সময়ের জন্য হয়নি। বর্তমান তৃতীয় মেয়াদে দ্বি-বার্ষিক চকরিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন -২০১৮ এর যখন প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন ক্ষমতালোভী ও প্রেসক্লাব ভাঙ্গার পুরানো কারিগররা এটিও ধ্বংস করার জন্য অবেশেষে হোটেলে বসে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করেছে।

উপদেশ:
কেউ করে সরবে- কেউ করে নীরবে, কার সংসার কিভাবে চলে তা সকলেই যানে।
অতএব সাধু সাবধান।

সূত্র- প্রবীণ সাংবাদিক জাকের উল্লাহ চকোরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.