শিক্ষিকা হুমায়রা আজাদী’র মিথ্যা মামলার প্রেক্ষিতে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের বক্তব্য

শিক্ষিকা হুমায়রা আজাদী বাদি হয়ে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে কক্সবাজারের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আমার নামে যে আদেশটি দিয়েছেন তা একটি মামলার ক্ষেত্রে আইনগতভাবে প্রচলিত নিয়ম। যেহেতু আমি একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি, সেহেতু আদালতের আদেশের ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই। তবে শিক্ষিকা হুমায়রা আজাদী বাদি হয়ে দায়ের করা মিথ্যা মামলার বিষয়ে আমার অনেক অভিযোগ আছে। মুলত ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারী মালুমঘাট রিংভং দক্ষিণ পাহাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরির্দশনে যাই। তবে সেইদিন শিক্ষিকা আজাদীকে মারধর কিংবা অন্য কোনভাবে হেনস্তা করার কোন ঘটনা ঘটেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন শিক্ষা, শিক্ষিক ও উন্নয়ন বান্ধব জনপ্রতিনিধি। শিক্ষক সমাজকে সম্মান করা আমার রুটিন কাজের একটি।
অথচ বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষিকা মালেকা বেগমের সাথে প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা আজাদীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকা বিরোধের ঘটনাকে অনেকটা রং লাগিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় মহলের মদদে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারী তিনজনের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ তুলে আদালতে উক্ত নালিশী মামলাটি করেন শিক্ষিকা হুমায়রা আজাদী।
বিজ্ঞ আদালত, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার জেলা ও জেলার প্রতিটি উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, দলের অগণিত সমর্থক এবং আমার প্রিয় চকরিয়া-পেকুয়াবাসির উদ্দেশ্যে জানাতে চাই, আমাকে এবং আমার সহ-ধর্মীনিকে জড়িয়ে শিক্ষিকা হুমায়রা আজাদী বাদি হয়ে দায়ের করা মিথ্যা মামলাটি মুলত আমি অপরাজনীতির শিকার হয়েছি।
মামলার পেছনে আরো একটি বিষয় বিশেষ ভাবে কাজ করেছে। সেটি হচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন। ওইসময় জোটগত নির্বাচনে সরকারের অপর শরীকদলকে আসনটি ছেড়ে দেয়ার কারনে দলীয় প্রধান দেশরত্ম শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি দলের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিই এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম বলেন, দলীয় প্রধান দেশরত্ম শেখ হাসিনার নির্দেশে দশম সংসদ নির্বাচনে আমি দলের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকে অদ্যবধি সরকার প্রধানের সহযোগিতায় চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে সম্ভব সব ধরণের সার্বিক উন্নয়ন ও তৃনমুলে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করতে কাজ করে যাচ্ছি। ইত্যবসরে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে। উক্ত নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনে আমি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। সেইকারনে অনেকা ইষাণিত হয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় মহলের মদদে ঘটনা ছাড়াই কাল্পনিক অভিযোগ তুলে আদালতে উক্ত নালিশী মামলাটি করেন শিক্ষিকা হুমায়রা আজাদী।
যদিও বিজ্ঞ আদালতের নিদেশক্রমে তদন্তের দায়িত্বভার পেয়ে ওই বছরের ৩০ মার্চ মামলার অভিযোগ ব্যাপক যাছাই বাছাই শেষে তদন্তপূর্বক আদালতে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন তৎকালীন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন। প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসক মহোদয় ঘটনার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন বিজ্ঞ আদালতের কাছে। তারপরও বাদির নারাজির প্রেক্ষিতে আদালত যে আদেশ দিয়েছেন তার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। তাই আদালতে আমি আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে মামলাটি যে সাজানো ও পরিকল্পিত তা প্রমাণ করবো ইনশাল্লাহ। পরিশেষে আমি শিক্ষিকা হুমায়রা আজাদীর মিথ্যা মামলার বিষয়ে কোন ধরণের বিভ্রান্ত না হতে বিজ্ঞ আদালত, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার জেলা ও জেলার প্রতিটি উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, দলের অগণিত সমর্থক এবং আমার প্রিয় চকরিয়া-পেকুয়াবাসির বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

নিবেদক
আলহাজ জাফর আলম এমএ
চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, চকরিয়া
সভাপতি চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.