লামায় পুকুরে পানি দূষিত হয়ে মরছে মাছ ; ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

ছবির ক্যাপশন ঃ লামা (বান্দরবান) উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছ মরে পড়ে আছে।

লামায় পুকুরে পানি দূষিত হয়ে মরছে মাছ ; ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি, ২১ জুলাই’ ২০১৮ইং
———————————–
রাসায়নিক সার, মুরগীর ফার্মের বিষ্টা, গোবর ও মলমূত্র প্রয়োগে মাছ চাষের ফলে চরম দূষিত হয়ে পড়েছে পুকুরে পানি। পানি দূষিত হয়ে পড়ায় পুকুরের অসংখ্য মাছ মরছে অপরদিকে আশপাশের মানুষের দীর্ঘদিন ধরে নিত্য ব্যবহার করা পুকুরটি ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। লামা উপজেলা পরিষদের ভিতরের সরকারী পুকুরটি ব্যবহারে জনগনের পানি চাহিদার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
৮০’র দশক থেকে স্থানীয় উপজাতি-বাঙ্গালী ও বাজারের তিন শতাধিক পরিবার পানির উৎস হিসেবে উপজেলা পরিষদের পুকুরটি ব্যবহার করছে। এই পুকুরের পানি দিয়ে রান্না-বান্না, কাপড় ধোয়া ও অজু-গোসল করছে লোকজন। উপজেলা পরিষদের পিছনে ও মৎস্য অফিসের সম্মুখে অবস্থিত পুকুরটিতে কয়েকদিন যাবৎ মাছ মরে পঁচন ধরেছে। চারদিকের গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
লামা উপজেলা পরিষদের ভাউন্ডারীর মধ্যে ২টি পুকুর রয়েছে। উল্লেখিত পুুকুরের পানি ব্যবহার ও অজু-গোসল করছেন আশপাশের লোকজন ও লামা বাজারের ব্যবসায়ীরা। পুকুরটি ৩৫ বছরের অধিক সময় ধরে স্থানীয়রা ব্যবহার ও মসজিদের মুসল্লিরা অজু করে আসছে, তাতে মাছের খাদ্য-রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগে পানি দূষিত-দুর্গন্ধ করার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে জানায় সুশীল সমাজ। অপরটি নির্বাহী অফিসারের বাসভবন ও জোড়াবাড়ি মধ্যে হওয়ায় ও দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। অব্যবহৃত পুকুরটির পশ্চিম দিকের ভাউন্ডারির কিছু অংশ ভেঙ্গে সিঁড়ি করে দেয়া হলে এর পানি ব্যবহার করে অনেকগুলো পরিবার উপকৃত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুকুরটি মৎস্যজীবিদের কাছে ইজারা দেয়ার ফলে তারা বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের কারণে এই সমস্যার তৈরি হচ্ছে।
পুকুরের আশপাশের লোকজন বলেন, বর্তমানে এই পুকুরের পানি দূষিত হওয়ায় ব্যবহারে সাংঘাতিক ঝুঁকি রয়েছে। গোসল করলে গায়ে নানা রকম চর্মরোগের দেখা দিচ্ছে। ঘরের কোন কাজে পানি ব্যবহার করা যাচ্ছেনা।
শনিবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে পুকুরে মাছ পঁচা দুর্গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত পঁচা মাছগুলো তুলে ফেলে পানি বিশুদ্ধ না করা পর্যন্ত পানি ব্যবহারে স্থানীয়দেরকে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি।
তবে বন্যার পানি প্রবেশ ও পুকুরে ডেকোরেশনের মালামাল ধৌত করায় পানি দূষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপজেলা মৎস্য অফিসার রাশেদ পারভেজ।
উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, মৎস্যজীবিকে ইজারা দেয়া হয়েছে, কিন্তু রাসায়নিক সার ও বাজে খাদ্য ব্যাবহার নিষেধ করা হয়েছে। আশপাশের মানুষের ব্যবহার ও কোর্ট মসজিদের মুসল্লিদের অজু করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পুকুরের পানি বিশুদ্ধ করণে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.