চকরিয়া পৌরশহরকে আর্বজনামুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে পরিবেশবান্ধব গার্ভেজ ডাম্পিং স্টেশন চালু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমউদ্বোধন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম

অফিস ডেক্সঃ
চকরিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৯৪ সালে। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে ভোগান্তিতে নাকাল ছিলো পৌরসভার সর্বস্তরের জনসাধারণ। ময়লা অপসারণে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকার কারনে পৌরশহরের অলিগলিতে যত্রতত্র আবর্জনা স্তুপ করে রাখতে বাধ্য হতো পৌর কর্মপক্ষ। এ অবস্থার কারনে আবহওয়া দুষিত হয়ে পড়ছিল, বিপর্যয়ের মুখে ছিলো পরিবেশ। অবশেষে সেই ভোগান্তি থেকে লক্ষাধিক পৌরবাসিকে রক্ষা করতে এবার পরিবেশ বান্ধব উদ্যোগ নিয়েছেন পৌর প্রশাসন। এরই আলোকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসদরের থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে ইসলামনগর এলাকার পাহাড়ি জনপদে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে ‘গার্ভেজ ডাম্পিং স্টেশন’ কার্যক্রম।
চকরিয়া পৌরসভার পরিবেশবান্ধব ‘গার্ভেজ ডাম্পিং স্টেশন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো.আলমগীর চৌধুরী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশিরুল আইয়ুব, লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার, চকরিয়া পৌরসভার সচিব মাসউদ মোর্শেদ, বিএমচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউল আলম। উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কাউন্সিলর রেজাউল করিম, কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব, কাউন্সিলর জিয়াবুল হক, কাউন্সিলর জাফর আলম কালু, কাউন্সিলর ফোরকানুল ইসলাম তিতু, কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, নারী কাউন্সিলর রাশেদা বেগম, আঞ্জুমান আরা বেগম, যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম আদর, শেফায়েত ওয়ারেসী, পৌর মৎস্যজীবিলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদসহ পৌরসভার সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
চকরিয়া পৌরসভার সচিব মাসউদ মোর্শেদ বলেন, পৌরসভার দুই কিলোমিটার অদুরে লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় ৪ একর জমির উপর স্থাপন করা হয়েছে গার্ভেজ ডাম্পিং স্টেশন। এই স্টেশন চালু করতে পৌরসভার মেয়র ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন।
প্রসঙ্গত: ১৯৯৪ সালে চকরিয়া পৌরসভা প্রতিষ্টা পায়। প্রথমে ইউএনওরা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বর্তমান কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন পরবর্তী প্রথম নির্বাচনে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আনোয়ারুল হাকিম দুলাল। তিনি তৃতীয় শ্রেণীর পৌরসভা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নিত করেন।
এরপর ২০০৬ সালে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নিত করেন। তার আমলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলোচিত বৃহত্তর বাস টার্মিনাল নির্মাণ ছাড়াও পাড়া-মহল্লার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০১১ সালে চকরিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ নুরুল ইসলাম হায়দার মেয়র নির্বাচিত হন।
বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব রয়েছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো.আলমগীর চৌধুরী। তিনি ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি চকরিয়া পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় রুপান্তর করতে ইতোমধ্যে ৩০ কোটি টাকার বেশি অর্থবরাদ্দের বিপরীতে শতাধিক মেগাপ্রকল্প গ্রহন করে পৌরসভার প্রতিটি জনপদে নালা-নর্দমাসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বেশ ক’টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। কিন্তু, পৌরবাসি জলাবদ্ধতা ছাড়াও গণশৌচাগার এবং ময়লা-আবর্জনা নিয়ে মহা দূর্ভোগে ছিলো।
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠার ২৪বছর পর চকরিয়া পৌরসভাকে আবর্জনামুক্ত করে পরিবেশ বান্ধব করতে গার্ভেজ ডাম্পিং স্টেশনের শুভ সুচনা হলো। অচিরেই পৌরসভার শহর এলাকায় গণশৌচাগারের কাজও শুরু হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে চকরিয়া পৌরসভার প্রতিটি জনপদ। সরকারের সফল উদ্যোগের ফলে আজ পৌরসভার লক্ষাধিক জনগনের ভোগান্তি লাগব করতে ও ময়লা আর্বজনামুক্ত সত্যিকার অর্থে উন্নতমানের নগরী গড়তে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ভেজ ডাম্পিং স্টেশনের সুচনা হয়েছে।
একইসাথে চকরিয়া পৌরসভাকে যানজটমুক্ত স্বপ্নের মেগাসিটি বির্নিমানেও কাজ চলছে। ইতোমধ্যে যানজট নিরসনকল্পে চকরিয়ার চিরিঙ্গা সেতু থেকে ভেন্ডিবাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় আধুনিকমানের ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়ারে থাকলে একনেকে অনুমোদন সাপেক্ষে চলতিবছরই শুরু হবে নান্দনিক ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ। এটি হবে চকরিয়া পৌরবাসির জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার শ্রেষ্ট উপহার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.