চকরিয়ায় পারিবারিক কলহে গৃহবধুর আত্মহত্যা শীর্ষক সংবাদের ব্যাখা ও প্রতিবাদ

চকরিয়ায় পারিবারিক কলহে গৃহবধুর আত্মহত্যা শীর্ষক বিভিন্ন শিরোনামে জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা এবং অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সংবাদের সাথে বাস্তবতার কোন মিলনাই। তাই আমি সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসন, এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজনসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য সংবাদের প্রকৃত ব্যাখা নিন্মে তুলে ধরছি। আমার ছেলে শাওনুল কবিরের সাথে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিগত ২৮/১১/২০১৪ ইংরেজি তারিখে বিবাহ হয় উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়ন মুছারপাড়া এলাকার মৃত মহিউদ্দিনের কন্যা কুলসুমা জন্নাত রিমা’র। সুন্দরভাবে চলে তাদের দু’জনের সংসার। এমনকি আমাদের পরিবারের কারো সাথে কোন ধরণের বিরোধও ছিলনা। পত্রবধুর সাথে পুত্রের মাঝে-মধ্যে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সামান্য ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে তা সমাধান হয়ে যায়। সম্প্রতি আমার পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে পুত্র বধু ও স্ত্রীর মা সহ চিকিৎসা করার জন্যও পরামর্শ হয়। এত সুন্দরভাবে সংসার চলে যা ভাষায় প্রকাশ করে বলার মত নয়। পুত্রবধুকে আমার নিজের কন্যার চেয়েও বেশি ভালবাসতাম। ঘটনার পূর্বের দিন ২৩ ফেব্রæয়ারী সন্ধ্যায় আমাদের এলাকার একজন প্রবীণ আলেম আলহাজ্ব মাওলানা মোজাহের আহমদ হুজুর ইন্তেকাল করেন। তাহার মরদেহ দেখার জন্য আমি ও পুত্রবধুসহ পরিবারের সদস্যরা হুজুরের বাড়িতে যাই। হুজুরের মরদেহ দেখে এশারের সময় বাড়িতে পৌছার সময় পুত্রবধু কুলসুমা জন্নাত রিমা অপরিচিত এক মহিলার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। বাড়িতে আসার পর চিরিংগা ষ্টেশন এলাকার এক মামাতো বোনের স্বামীর সাথেও মোবাইলে কথা বলেন। এরপর পুত্রবধুসহ পরিবারের সদস্যরা এক সাথে রাতের খাবার খান। কিন্তু স্বামী শাওন একজন গাড়ী চালক হিসেবে গাড়ী নিয়ে কক্সবাজারে একটি রিজার্ভ ভাড়ায় যাওয়ায় অনেক রাত পযর্ন্ত অপেক্ষা করে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা। ওই সময় পুত্রবধুর বন্ধু নুরুচ্ছফার স্ত্রীর সাথে গভীর রাত পযর্ন্ত মোবাইল ফোনে একাধিকবার আজে-বাজে কথাবার্তা বলে। হয়তোবা ওই সময় আমার ছেলে শাওনকে নিয়ে সংসারে বিদ্ধেসমূলক মিথ্যা কথা বার্তা বলেছে। পরে রাত ১টা ১৫মিনিটের দিকে বিদ্যুত চলে গেলে আমি পুত্রবধু থেকে রাতে মোবাইলটি খুজি। তখন মোবাইলটি নিয়ে আমার মেয়ের নাতিসহকারে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে ফজরের আজান হলে আমার স্বামী মো:বশির ও পুত্র আসাদকে নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে চলে যায়। তখনও আমার ছেলে শাওন কক্সবাজার থেকে না আসায় তাকে ফোন করি। তখন সে চিরিংগা পুরাতন বাসষ্টেশনে এসে গাড়ী খারাপ হয়েছে জানিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফিরবেন বলে জানান এবং মাওলানা মোজাহের হুজুরের জানাজার নামাজ কয়টায় মায়ের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন পুত্রবধুকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ডাকি কিন্তু ঘুম থেকেও উঠেনি, কোন আওয়াজও নাই। এরপর মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পড়ে আমার স্বামী বাড়িতে পৌছলে তখন সকাল ৬টার দিকে পুত্রবধুর কক্ষে গিয়ে টিনের দরজায় নক করে ডাকাডাকি করেন। তখন ঘুম থেকে না উঠায় ধাক্কা দিয়ে দরজা খোলতেই দেখেন মর্মান্তিক অবস্থা। তখন আমি, আমার স্বামী ও স্থানীয় লোকজন নিয়ে পুত্রবধুর কক্ষে ঢুকে দেখি ঘরের চালের গাছের সাথে নিজের উড়না বেধে গলার সাথে পেঁছিয়ে নীচে একটি টি-টেবিল ও মোড়া দিয়ে গলায় ফাঁস খেয়ে নিজে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। তারা পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করছেন পুত্রের বন্ধুর স্ত্রীর সাথে কথা মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় স্বামীকে নিয়ে মিথ্যা কোন প্রপাগন্ডা ছড়িয়েছে, অনথ্যায় এধরণের কোন ঘটনার হওয়ার কথা নয়। তার সাথে শ্বাশুড় বাড়ি (অর্থাৎ আমার বাড়ির) পরিবারের কোন সদস্যের সাথে কোন ধরণের পূর্ব বিরোধ ছিলনা। পুত্র বধুর এ ঘটনার জন্য আমরা পরিবারের সদস্যরা কিছুতেই সহ্য করতে পারছিনা। এটি অনাকাংখিত ঘটনা। এছাড়াও আত্মহত্যার বিষয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেছে, এলাকার লোকজন থেকে খবরা খবর নিয়েছে, সব কিছু মিলিয়ে বাস্তবতার আলোকে এটি আত্মহত্যা হিসেবে চকরিয়া থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা রুজু হয়েছে। কিন্তু ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে আমার পুত্র ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। যার আদৌ কোন সত্যতা নাই। আমরা এলাকায় নিরীহ ও সহজ সরল পরিবার হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। অথচ: পুত্রবধুর আত্মহত্যার ঘটনার পর আমার বাড়িতে ঢুকে পুত্রবধুর পিতৃালয়ের লোকজন ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে এসে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। যা এলাকার লোকজন দেখেছে। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে পুত্রবধুর জন্য বেহেস্ত কামনা করছি এবং পরকালীন জীবনের কথা চিন্তা করে এটি কোন মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ না করার এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করতে পুত্রবধুর পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত আহবান জানাচ্ছি।
ব্যাখ্যা দাতা ও প্রতিবাদকারী- রেনু আক্তার স্বামী মো: আবুল বশর
মাইজঘোনা উত্তর পাড়া, ৫নম্বর ওয়ার্ড, সাহারবিল ইউনিয়ন,চকরিয়া,কক্সবাজার।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.