খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন রবিবারের কার্যতালিকায়

কক্স টিভি ডেক্সঃ

ঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য আগামীকাল রবিবার হাইকোর্টের কার্য তালিকায় (কজ লিস্ট) রাখা হয়েছে।

শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রবিবারের কার্যতালিকায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি ৩৬ নম্বরে রয়েছে। দুপুর ২টায় আপিল ও জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হবে।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এরপর এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেন আদালত।

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য সগীর হোসেন লিওন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানির সময় আমরা তার জামিন আবেদন করি। আবেদনটি ৮৮০ পৃষ্ঠার। এতে ৪৮টি প্যারা ও ৩২টি যুক্তি রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি রবিবার দিন ধার্য করেন। সেই সাথে আপিল শুনানি গ্রহণ করে বৈচারিক আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে জমাদানের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। একই সাথে জরিমানা স্থগিত করা হয়েছে।

এসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একজন বয়স্ক নারী, সেই বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীর জামিনের বিরোধিতা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত বলেন, ‘সাত বছর পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তিকে এই আদালত জামিন দিতে পারেন। খালেদা জিয়া পাঁচ বছরের জন্য সাজা পেয়েছেন। তাই তাকে আদালত জামিন দিতে পারেন। তারপর তিনি নারী ও বয়স্ক, তিনি জামিন পেতে পারেন।’

এর আগে আপিলের গ্রহণযোগ্যতা শুনানির পাশাপাশি খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের ওপরও শুনানি শুরু হয় একই বেঞ্চে।

খালেদা জিয়ার পক্ষে এজে মোহাম্মদ আলী আপিল গ্রহণের শুনানি শুরু করেন। এসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে আগামী রবিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

৩২টি গ্রাইন্ডে ৮৮০ পৃষ্ঠার জামিন আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। জামিনে বয়স, অসুস্থর কারণ ছাড়াও অন্যান্য কারণ দেখানো হয়।

এর আগে সকলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল গ্রহণের জন্য আবেদন জানালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুতির জন্য দুই ঘণ্টা সময় চান। আদালত তখন দুপুর ১২টায় শুনানি শুরুর আদেশ দেন।

এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আবদুর রেজাক খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

ইতোমধ্যেই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের কপি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে জামিন আবেদনের কপি সরবরাহ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এক হাজার ২২৩ পৃষ্ঠার আপিল দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এতে প্রাথমিকভাবে মোট ৪৪টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া আপিল আবেদনের ওকালতনামায় খালেদা জিয়ার পক্ষে মোট ২৮ জন আইনজীবীর স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে হাইকোর্টের আজকের কার্যতালিকায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য মামলাটি ছয় নম্বরে রাখা হয়েছিল।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন খালদা জিয়ার আইনজীবীরা।

এরপর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি (মেনশন স্লিপ) উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরে আদালত আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে জানান, খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করা হয়েছে।

এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘জামিনের দরখাস্ত থাকলে আমাদের (রাষ্ট্রপক্ষ) যেন কপি দেওয়া হয়।’

তখন আদালত বলেন, তারা (বিএনপির আইনজীবীরা) তো মেনশন স্লিপ দিচ্ছেন। জামিনের দরখাস্ত থাকলে আগে দিয়ে দেবেন (বিএনপির আইনজীবীদের উদ্দেশে)।’

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন সেই সময় বলেন, ‘বুধবার বন্ধ। বৃহস্পতিবার সকালে আবেদনের কপি দেওয়া হবে।’

একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষকে আবেদনের কপি দেওয়ার কথা বলেন এবং রবিবার শুনানির জন্য দিন রাখা যেতে পারে বলে মতামত দেন।

ওই সময় আদালত বিএনপির আইনজীবীদের বুধবারের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে কপি দিয়ে দিতে বলেন। বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করে আদালত বলেন, ‘দুদকের মামলা সাধারণত বুধবার ও বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য আসে। এটি বৃহস্পতিবার তালিকায় আসবে।’

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বারের হলরুমে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, আবদুর রেজাক খান, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সানাউল্লাহ মিয়া, আমিনুল ইসলাম ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দীন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.