চকরিয়ার ফাসিয়াখালীর দুই সহোদরের ইয়াবা কানেকশন

জহিরুল আলম সাগর/অলি উল্লাহ রনি,চকরিয়া:
সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্তের আলোকে সারা দেশের ন্যায় মাদক বিরোধী অভিযানে নামে র‌্যাব, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মাদক নিয়ে একের পর এক কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানা পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখায় অনেক ইয়াবা কারবারি ও বিক্রেতারা গা ডাকা দিয়ে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। অভিযানের পরও চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের দুই সহোদর বিএনপির সহযোগি সংগঠন শ্রমিকদল নেতার ইয়াবা কানেকশনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ইয়াবা কারবারি জালাল উদ্দিন চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীস্থ ২নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালী এলাকার শামসুল হুদা ছেলে এবং রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সহযোগি সংগঠন ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সদস্য সচিব (সাধারণ সম্পাদক) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ইয়াবা ব্যবসা চালানোর মূল টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার ফাসিয়াখালী হাসেরদীঘি ষ্টেশনস্থ তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টায়ারের দোকান। মূলত: প্রশাসন ও লোকচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে সেখান থেকেই সকল ইয়াবা চালান বিভিন্ন কৌশলে সরবরাহ দিয়ে থাকে। ইয়াবা ব্যবসার মূলহোতা জালাল হলেও তার সহযোগি হিসেবে ইয়াবা চালান পাচারে ব্যবহার করেছে তার আপন বড়ভাই আবুল হাসেম (প্রকাশ টুটটেং হাসেম) কে। এ দু’ভাইয়ের সিন্ডিকেট ইয়াবা বাণিজ্যে নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কৌতুহল সৃষ্টি হয়। বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে তাদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে এ অপরাধ কর্মকান্ড দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে।
থানা সূত্রে জানায়, ইয়াবা ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিনের বড় ভাই আবুল হাসেম ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান নিয়ে ঢাকায় গেলে বিগত ২০১৫সনের ৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপি’র (ঢাকা) শাহজাহানপুর থানায় ৪০০০ (চার হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আবুল হাসেম। ওই সময় শাহজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনের ১৯৯০ সনের ১৯(১)এর ৯ (খ) ধারায় মামলা হয় ইয়াবা ব্যবসায়ী ধৃত আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ থাকার পর জামিনে বের হয়ে ফের তার এলাকায় এসে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছোট ভাই জালালের নিয়ন্ত্রিত ইয়াবা ব্যবসা দিব্যি এই চালিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচতেন মহল চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীর একটি তালিকা তৈরীর প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই তালিকাভুক্তসহ চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। অভিযুক্ত দুই সহোদরের ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়ার সাথে সাথেই গ্রেফতারসহ আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.