চকরিয়ার তামিমের একটি প্রবন্ধ যেন নব দিগন্তের সূচনা : অ আ ক খ ই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা বাঙ্গালী কেন বুঝে না?

লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক তানভীর মোর্শেদ তামীম

একুশ মোদের অহংকার।পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাংঙ্গালী জাতি ই রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা কে বুকে লালন করে স্বপ্ন দেখেছে। আর সে স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে সৃষ্টি করতে হয়েছে রক্তাক্ত এক ইতিহাস।এবার না হয় সে ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত জানা যাক।একুশ মানে বাংঙ্গালীর জাতীয়তাবাদের আগ্নেয়গিরি।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্টের যখন জন্ম হয় ঠিক তখন থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।বলা বাহল্য যে পাকিস্তানের ছিল দুটি অংশ ।একটি ছিল পূর্ব পাকিস্তান অপরটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তান।পশ্চিম পাকিস্তানিরা চেয়েছিল তাদের মুখের ভাষা কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার জন্য।এর প্রেক্ষিতে ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান সরকার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয় তখন বাংলা ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাখান করে।তারা বলেছিল যে দেশের ৫৬ শতাংশ লোকের ভাষা বাংলা সে দেশে বাংলাই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।এভাবে চলতে চলতে ১৯৫২ সালে যখন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পুনরায় যখন ঘোষণা দেন only urdu and urdu shall be state language of pakistan.যার অর্থ একমাত্র উর্দু এবং উর্দু ই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।তখন উপস্থিত ছাত্রসমাজ no no না না বলে সভা ভেঙ্গে দেয় আর তারা আন্দোলনের ডাক দেয়।তখন পাকিস্তান সরকার আন্দোলন বন্ধ করতে ১৪৪ দ্বারা জারি করে। কিন্তু ছাত্রসমাজ তা মেনে নিতে পারে নি।আর তার ই ধারাবাহিকতায় তারা ১৪৪ দ্বারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেন।দিনটি ছিল ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী।তারা এই দিন তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৪৪ দ্বারা ভঙ্গের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল বের করে ।কিন্তু পুলিশ এসে বাধা দেয় আর তাই পরিস্থিতি হয়ে উঠে অস্বাভাবিক।তাই পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাদানি গ্যাস নিক্ষেপ করে।এরপর ও বাংলার দামাল ছেলেরা দমে যাই নি।এরপর হঠাৎ পুলিশ কয়েক দফা গুলি চালায় ।গুলিতে শহীদ হন রফিক জব্বার সালাম বরকত সহ আর ও অনেকে ।এর ই ধারাবাহিকতায় সমাপ্তি ঘটে ভাষা আন্দোলন।অবশেষে পাকিস্তান সরকার মেনে নিতে বাধ্য হন আর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে ১৯৫৬ সালে বাংলা কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।আর সেই সাথে রক্তাক্ত জাতি ফিরে পেল মায়ের ভাষা বাংলাকে।বাংঙ্গালী জাতির প্রতিটি হূদয়ে আমোদ জলসা তখন দেখে কে!কিন্তু আমার ভাবতে ও অবাক লাগে যে জাতি মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্টীয় সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদানের জন্য ঢাকার রাজপথ কে লাল রঙে সাঝিয়েছিল তারা আজ কিভাবে মায়ের ভাষা কে বাদ দিয়ে নানান ভাষা কে অধিক প্রধান্য দিচ্ছে ।শুধু তাই নয় দিনের পর দিন লালন করে যাচ্ছে পশ্চিমা সংস্কৃতি যার কারণে বিলুপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য আমার ভাবতে খুব কষ্ট হয় যে ভাষার জন্য পাড়ি দিতে হয়েছে রক্তাক্ত এক লাল পথ সে ভাষাকে আজ কে আমরা দিনের পর দিন বিক্রি করে দিচ্ছি পশ্চিমা অপসংস্কৃতির দাতাগোষ্ঠী হাতে আমরা আজ মায়ের ভাষার কদর বুঝি না কেননা আমরা কর্দমায় পরিপূর্ণ জলের মধ্যে ভাসমান।আমরা যদি ও জাতি হিসেবে সকলের কাছে ক্ষীণদৃষ্টির অগ্নিশিখা হিসেবে পরিচিত কিন্তু আমরা তার সম্পূর্ণ বিপরীত বলে আমার মনে হয় ।এর যুক্তিকতা ও যথেষ্ট রয়েছে।আমরা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে আবদ্ধ হয়ে অপসংস্কৃতি কে লালন করছি সুগভীর যত্নে।অথচ মা মাটি এবং মায়ের ভাষায় ঘেরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা বাংলাকে দিয়ে হাজারো কারিগরে আলপণা তথা আমাদের সংস্কৃতি কে আজ আমরা ভুলে যাচ্ছি।হয়ত আপনারা বলতে পারেন বাংলা কী সত্যি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা?এর উত্তর খুবই সোজা।একটু সচেতনভাবে চিন্তামগ্ন অবস্থায় বিষয়টি উপলব্ধি করলে দেখতে পাব পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙ্গালী একমাত্র জাতি যে জাতি ভাষার জন্য জীবন দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।আর তাহলে এটাই স্পষ্ট যে বাংলাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা।একটা কথা বলি আমরা বাঙ্গালী জাতি এমন এক জাতি যে জাতি সুগভীর জলে সাতাঁর কাটতে চাই কিন্তু চুল না ভিজিয়ে শুধু তাই নয় আমরা সব ই বুঝি জানি কিন্তু স্বীকার করতে নারাজ।মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদা যে সবার উপরে তা আমরা কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী পাঠ করলে ভালভাবে বুঝতে সক্ষম হব।আসুন স্বীকার করি মায়ের ভাষা ই শ্রেষ্ঠ ভাষা আর এই ভাষাকে পুনরায় যত্ন করি যাতে বিদেশী ভাষা আমাদের গ্রাস করতে না পারে।এতক্ষণ তু মায়ের ভাষার গুণাগুণ ই গাইলাম এবার পরিসমাপ্তি করব সকল ভাষা শহীদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.