লামায় শিক্ষক পুত্র কর্তৃক মাকে মারধর

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বান্দরবান প্রতিনিধিঃ ২৬ মে ২০১৮ইং
————-
বান্দরবানের লামায় মৃত স্বামী দেয়া সম্পত্তির অধিকার চাওয়ায় মাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে শিক্ষক পুত্র। ১০ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় লামা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মাষ্টার পাড়ার সামনে চাষের জমিতে এই ঘটনা ঘটে। আহত মা হ্লাথিং মার্মা (৬০) মাষ্টার পাড়ার মৃত ধুংচি মং মার্মার স্ত্রী। সন্তানদের মারধরে গুরুতর আহত বিধবা হ্লাথিং মার্মা (৬০) লামা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১২ মে শনিবার লামা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা নং- ০৫, তারিখ- ১২ মে ২০১৮ইং।
লামা থানা অভিযোগটি আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করলে আদালত অভিযুক্ত সন্তানদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এদিকে আদালতে জামিন পেয়ে অভিযুক্তরা পুণরায় মাকে হত্যা সহ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে হ্লাথিং মার্মা প্রতিবেদকে জানান।
অভিযুক্তরা হল, লামার বনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও মাষ্টার পাড়ার বাসিন্দা মৃত ধুংচি মং মার্মার ছেলে মংয়ইন থিং মার্মা (৪২), একই পাড়ার তরোপ্রু মার্মার ছেলে সুইলুং মার্মা (৪৮) ও মৃত ধুংচি মং মার্মার মেয়ে উয়ইমে মার্মা (৪৫)। হামলার শিকার হ্লাথিং মার্মা সম্পর্কে অভিযুক্তদের সৎ মা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বৃদ্ধা হ্লাথিং মার্মার স্বামী ধুংচি মং মার্মা মারা যান। মৃত্যুর আগে ধুংচি মং মার্মার যাবতীয় দেখাশুনা ও পরিচর্যা করেন তার ৩য় স্ত্রী হ্লাথিং মার্মা। মৃত্যুর আগে ধুংচি মং মার্মা তার সম্পত্তির বন্টন করে যান। বন্টননামা অনুসারে বৃদ্ধা হ্লাথিং মার্মা লামা পৌরসভার ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজার হোল্ডিং নং- ৫২ এর আন্দর ৪৮ শতক জায়গার মালিক হন। কিন্তু স্বামী মরে যাওয়ার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও তাকে তার নামীয় সম্পত্তির ভাগ দেয়া হয়নি। সৎ ছেলে মেয়েরা সব সম্পত্তি ভোগ দখলে রেখেছে। ৩ বছর যাবৎ কিছু জমি চাষাবাদ করে ভোগ দখলে রাখলে গত ১০ মে ২০১৮ইং সৎ ছেলে-মেয়েরা উক্ত জায়গা দখলের জন্য কলা গাছ রোপন করতে গেলে হ্লাথিং মার্মা বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকপুত্র মংয়ইন থিং মার্মা, সুইলুং মার্মা ও উয়ইমে মার্মা তাকে এলোপাতাড়ি ভাবে লাথি, কিল ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে মাটিতে ফেলে দেয়। বৃদ্ধা মা হ্লাথিং মার্মা মাটিতে পড়ে গেলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সৎ ছেলে শিক্ষক পুত্র মংয়ইন থিং মার্মা লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে উক্ত আঘাত ঠোঁটে লেগে ফেটে যায়। প্রচন্ড রক্তখনন হতে থাকলে সবাই তাকে মৃত মনে করে রেখে পালিয়ে যায়।
সরজমিনে গেলে নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে কয়েকজন বলেন, সৎ ছেলে-মেয়েরা হ্লাথিং মার্মাকে এমনভাবে মারধর করেছে পাড়ার লোকজন ভেবেছিল সে মারা গেছে। পুলিশে ভয়ে সবাই পাড়া ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। অসুস্থ হ্লাথিং মার্মাকে তার ছোট বোন আচিং মার্মা উদ্ধার করে লামা হাসপাতালে ভর্তি করে। বৃদ্ধা হ্লাথিং মার্মার উপযুক্ত কোন ছেলে-মেয়ে না থাকায় তার পক্ষে কেউ কথা বলছেনা। তাছাড়া সৎ ছেলে-মেয়েরা বিত্তবান ও অবস্থাসম্পন্ন হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে পাড়ার কেউ ভয়ে মুখ খুলছেনা।
হ্লাথিং মার্মা বলেন, আমাকে মেরে রক্তাক্ত করে উয়ইমে মার্মা আমার পরনে থাকা ১ ভরি ওজনের ১ জোড়া কানের ধুল যার মূল্য ৪০ হাজার টাকা ও ৬ আনা ওজনের ১টি আংটি যার মূল্য ১৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক কৃষ্ণ কুমার দাস বলেন, আদালত মামলাটি ৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ ধারা ও পেনাল কোড- ১৮৬০ মতে আমলে নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.