তাসপিয়া হত্যা কাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন প্রেমিক আদনান।

চট্টগ্রামের আলোচিত সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসপিয়া হত্যা কাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন প্রেমিক আদনান। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আদনান তার সঙ্গে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে অনেক তথ্য দেন। বর্তমানে স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিনের (১৫) মরদেহের পোশাক রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। তাসপিয়া আমিন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভিকটিম তাসপিয়ার পরনে থাকা পোশাকগুলো ডিএনএ ম্যাচ (রাসায়নিক পরীক্ষা) করানোর জন্য রবিবার (১৩ মে) আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।’ তিনি আরো জানান, এছাড়া আদালত ‘পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’ কে এ মামলার আসামি ও তাসপিয়ার প্রেমিক আদনানের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন এবং তার সিমের সব তথ্য পাওয়ার ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে, তাসপিয়ার মরদেহের ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিআইডি ভিসেরার ভিত্তিতে কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি। তা ছাড়া তাসপিয়াকে বহনকারী সেই সিএনজি অটোরিকশার নম্বরও শনাক্ত করা যায়নি। রবিবার (১৩ মে) তাসপিয়া হত্যা মামলার আসামি আদনান মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর চট্টগ্রাম মহানগর শিশু আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরীর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। একইসঙ্গে তাকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত আগামী ৩১ মে শুনানির দিন ধার্য করেন। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতিতে পুলিশ আদনানকে ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আদনান তার সঙ্গে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে অনেক তথ্য দিয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আদনান স্বীকার করেছে, তাসপিয়ার ফেসবুক তার বাবা বন্ধ করে দেন। এরপর তারা দু’জনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতেন। সিএমপির তাসপিয়া মার্ডার মামলার তদন্ত টিমের ইনচার্জ এডিসি আরেফীন জুয়েল জানান, তাসপিয়ার জন্য ভাড়া করা অটোরিকশা চিহ্নিত করা গেলেও সেটির নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওই অটোরিকশার স্ক্রিনশট ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়া তাসপিয়ার লাশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বুধবার তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই কিশোরীর ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। নিহত তাসপিয়ার পিঠজুড়ে পাওয়া গেছে নির্যাতনের ছাপ। কিশোরীটির পিঠ, বুক ও স্পর্শকাতর অঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটোও যেন নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ। এ ঘটনায় ৩ মে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসপিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদনান মির্জা মামলার আসামি ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংস্টারের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাংস্টারের সদস্য- শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও সোহায়েল প্রকাশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.